Friday, September 10, 2010   
  Home Archive Advertisment Contact Us About Us  
কক্সবাজার শহর, টেকনাফ ও উখিয়া এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে সোমবার গভীর রাত এবং মঙ্গলবার ভোরে পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী, শিশুসহ ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।        
Call For Add
 
Call For Add
বিজিতদের অবশ্যই বলতে হবে .....ইজ মাই প্রাইম মিনিস্টার
বিজিতদের অবশ্যই বলতে হবে .....ইজ মাই প্রাইম মিনিস্টার আজ রাত পোহালে যে সূর্য উঠবে, সেই সূর্যকিরণ দেশে উদ্ভাসিত করবে অমিত সম্ভাবনার দ্বার। দীর্ঘ দুবছর যে গণতন্ত্রের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনেছে এদেশের মানুষ, ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচন সেই গণতন্ত্রের সোনালী সোপান। জনরায়ে সিদ্ধান- হবে মহাজোট না ৪ দলীয় জোট- আগামী ৫ বছর দেশের শাসনাধিকার কারা পাবে। গত দুবছরে প্রমাণিত হয়েছে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার ছাড়া জনগণের দুঃখ-কষ্ট কেউ বুঝে না। গত ২ বছরে মুক্তবুদ্ধি, মুক্তচিন-া, মৌলিক অধিকার- এসব কেতাবী বিষয় বাদ দিলেও জনজীবনকে সবচেয়ে দুর্বিষহ করে তুলেছিল যে বিষয়টি তা হলো দ্রব্যমূল্য। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এ সময় রেকর্ড করেছে। এর আগের বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমল থেকেই দ্রব্যমূল্য জনগণের নাগালের বাইরে যেতে শুরু করে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকারী সিন্ডিকেটের জন্মও তখনই। সেই অগ্নিতে ঘৃতদান করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আজও তারই অগ্নিতে জ্বলছে সারাদেশ। গত দুবছরে সরকার অনেক কাজ করেছে। এর ভাল দিকও আছে- আছে মন্দ দিক। তবে দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যে বিষয় সেনাবাহিনীর সহায়তায় সেই ভোটার তালিকা প্রণয়নে এবার একটি যুগান-কারী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এমনসব আচরণবিধি তৈরি করেছে, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জনস্বসি-দায়ক। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো, কিছু কিছু ব্যত্যয় ছাড়া তা মেনেও চলছে। গোটা দেশে এখন চলছে ভোটগ্রহণ। দেশের প্রতিটি মানুষের প্রত্যাশা, একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। প্রত্যাশা, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক- অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল তা মেনে নেবে। মার্কিন নির্বাচনে পরাজিত ম্যাককেইন-এর মত ওবামা ইজ মাই প্রেসিডেন্ট- এমনতর ঘোষণা পাবলিকলি না দিলেও ফলাফল মেনে নিয়ে জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর মত সভ্য মানসিকতা প্রদর্শন করবে। অত্যন- দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, জনপ্রত্যাশার এ স'ানটি বোধহয় সম্পর্ণ পূরণ হচ্ছে না। অন-ত নির্বাচনে অন্যতম বৃহৎ প্রতিদ্বন্দ্বী জোট চারদলীয় জোটের কিছু বিষয় এক্ষেত্রে নিরাশ করার মত। এবার নির্বাচনী প্রচারণায় ৪ দলীয় জোটনেত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারে বেশ এগিয়ে ছিলেন। সবচেয়ে বেশি পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি, সবচেয়ে বেশি সভা-সমাবেশেও অংশ নিয়েছেন তিনি। প্রথম দিকে নিছক নির্বাচনী প্রচার ও ভোট চাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও অতিসম্প্রতি তার বক্তব্যে কিছু উদ্বেগজনক বিষয় উঠে এসেছে। তিনি তার সমর্থকদের ভোটকেন্দ্র ঘেরাও করার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও পরদিন তার দলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঘেরাও নয়, পাহারার আহ্বান জানিয়েছেন বলে বলা হয়েছে। বেগম জিয়া এবার নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কাও কোথাও কোথাও করেছেন। সবচেয়ে প্রণিধানযোগ্য যে বিষয়টি তা হলো শনিবার বিএনপি ও তাদের জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে নির্বাচন কারচুপির আশঙ্কায় অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভিন্ন সমর্থক সংগঠনের মাধ্যমে জোটের বিপুল বিজয় বিষয়ে আগাম ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে বিশেষ মঞ্চ যেন তৈরি করে রাখা হয়েছে। নজরুল ইসলাম খান নির্বাচন কমিশনে অভিযোগের পর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বর্তমান প্রশাসন মহাজোটের পক্ষে কাজ করছে। কিছু কিছু রিটার্নিং অফিসার জোটের প্রতিপক্ষদের সাথে ডিনার করেছেন। তবে কোথায় তা হচ্ছে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে তা উল্লেখ করেননি। দুঃখের বিষয় হলো, মাঠের বাস-বতা কিন-ু ভিন্ন। বেশ কয়েকটি নির্বাচনী আসনে নির্বাচনী কর্মকর্তা পদে সরাসরি জোটের শরিক দল জামায়াত সমর্থিত এমনকি জামায়াত নেতা-কর্মীরা নিয়োগ পেয়েছেন। রাজধানীর তেজগাঁও এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকা এর উদাহরণ। তেজগাঁও থানা জামায়াতের সাবেক আমীর আবদুল করিম, বর্তমান মজলিসে শূরা সদস্য ফজলুল হক নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তেজগাঁও কলেজের আরো বেশ কজন শিক্ষক, যাদের অনেকে জামায়াতের রোকন পর্যায়ের নেতা- তারাও দায়িত্ব পেয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে। পাবনার বিভিন্ন কেন্দ্রে জামায়াত নেতা- কর্মীদের নিয়োগের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জমা পড়েছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জামায়াতের পূর্ব সাতকানিয়া শাখার সেক্রেটারী মাওলানা আবদুল মালেক, আমিলাইষ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি আব্দুল হাসেম, কেউচিয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী মো: আনোয়ার হোসেন, ছদাহা ইউনিয়ন জামায়াতের নূর মোহাম্মদসহ আরো অনেকে। জোট সমর্থক এসব নির্বাচনী কর্মকর্তা প্রসঙ্গে সবাই নিশ্চুপ। বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও মুখপাত্র জনাব নজরুল ইসলাম খান নির্বাচন কমিশনে যে অভিযোগ করেছেন- অতিবাস-ব কারণেই এসব প্রসঙ্গ সেখানে নেই। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আগে ৫ বছর ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট। সে শাসনামলের কথা জনগণ ভুলে যায়নি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস-দুর্নীতির বিস-ৃতি এখনো জনমনে ভীতিকর স্মৃতিজাগানিয়া ঘটনা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু কিছু জোট প্রার্থীর অতীত পর্যালোচনায় জনমনে এ ধারণা স্পষ্ট হয়েছে যে, বিএনপি-জমায়াত জোটে মানসিকভাবে খুব পরিবর্তন আসেনি। নইলে এমন ধারা প্রার্থীরা কিভাবে মনোনয়ন পায়? বেগম জিয়া ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন। জনগণের পাল্‌স বোঝার ক্ষমতা তার মত বিচক্ষণ নেত্রীর রয়েছে। তিনি হয়ত বুঝতে পেরেছেন- কাঙিক্ষত ফলাফল সম্ভব হবে না। আর তাই এই আগাম আশঙ্কা- আগাম অভিযোগ। এদিকে, মহাজোটে এখনো অল্প কয়েকটি আসনে সমঝোতা হয়নি। একই আসনে একাধিক প্রার্থী রয়েছে মহাজোটের। এ বিষয়ে সমঝোতা না হওয়ায় তা মহাজোটের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। লক্ষণীয় বিষয় হলো মহাজোট নেত্রী, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনে নিজের ভোট পাহারা দেয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের জনগণ চায় জনপ্রতিনিধিত্বশীল একটি গণতান্ত্রিক সরকার। এই সরকার প্রতিষ্ঠায় একমাত্র পথ একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। আজকের এই নির্বাচনে জনরায় যে পক্ষেই যাবে তারাই সরকার গঠন করবে। শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া দেশের দুটি বড় দল ও জোটের নেত্রী, দুজনেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী। বহু ষড়যন্ত্র, চক্রান- হয়েছে- দুনেত্রীকে রাজনীতিবিচ্ছিন্ন করা যায়নি। দুজনের রয়েছে জনসমর্থন। নির্বাচনের পর ফলাফল যাই হোক, তা মেনে নেয়ার মত মানসিকতা এই দুনেত্রীরই থাকবে- মানুষের শুধু প্রত্যাশাই নয়, বিশ্বাসও এমনতর। .....ইজ মাই প্রাইম মিনিস্টার পাবলিকলি এমন উচ্চারণ করার মত সংস্কৃতিতে আমরা এখনো পৌঁছতে পারিনি। কিন-ু পরাজয় মেনে নিয়ে শোভন উচ্চারণে বিজয়কে অভিনন্দন জানানোর মত ঔদার্য আশা করি দুনেত্রীই অর্জন করেছেন। আর যদি এমন বলতে উভয়েই রাজি থাকেন যে .....ইজ মাই প্রাইম মিনিস্টার তবে আর আমাদের খুশির সীমা থাকবে না।
 
Call For Add
 
Call For Add
 
Canada Office : 71 Highview Avenue, Toronto, ON, M1N 2H4, Phone: 416-699-9833, Toll Free: 1-800-876-4358, Email: info@deshebideshe.com