Friday, September 10, 2010   
  Home Archive Advertisment Contact Us About Us  
কক্সবাজার শহর, টেকনাফ ও উখিয়া এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে সোমবার গভীর রাত এবং মঙ্গলবার ভোরে পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী, শিশুসহ ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।        
Call For Add
 
Call For Add
প্রসঙ্গ পুলিশ অধ্যাদেশ ২০০৭
প্রসঙ্গ পুলিশ অধ্যাদেশ ২০০৭ নজরুল ইসলাম মিন্টো ১৮৬১ সালে বৃটিশ সরকার এদেশের মানুষকে শাসন ও শোষণ করার জন্যে একটি আইন তৈরি করে। যে আইনে জনগণের প্রতি পুলিশের কর্তব্য কি তার উল্লেখ নেই। সে সময় থেকে ঐ আইনের মাধ্যমে পুলিশকে সরকারের অত্যাচারের হাতিয়ার হিসেবে করে রাখা হয়েছে- যা আজও বলবৎ। ঔপনিবেশিক শাসনামলে প্রণীত সেই পুলিশ আইনের সংস্কার চাচ্ছে আজ পুলিশ নিজে। নানান সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পুলিশ যে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছে এটা খুবই আশাব্যাঞ্জক। আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই। বাংলাদেশে পুলিশের সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার। জনসংখ্যা অনুযায়ী এ সংখ্যা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায়ও অনেক কম। এছাড়া মান্ধাতা আমলের প্রশিক্ষণ, সেকেলে অস্ত্র এবং যানবাহনের অপ্রতুলতা সবমিলিয়ে এটি একটি পশ্চাদপদ রাষ্ট্রীয় সংগঠন। বাংলাদেশ পুলিশের কেবলই বদনাম। বাংলাদেশের পুলিশ জনগনের প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহিৃত। পুলিশকে বাংলার জনগণ মনে করে পেটোয়া বাহিনী। পুলিশের উপর ভরসা করার মতো কোন উদাহরণ আমাদের সামনে নেই। দেশের মানুষের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা একটি আধুনিক জবাবদিহিতামূলক পুলিশ বাহিনী গড়ে উঠুক। উন্নত দেশের পুলিশের মতো আমাদের দেশের পুলিশেরও থাকবে দক্ষতা, থাকবে গতিশীলতা। পুলিশ যেন এদেশে আর রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়। পুলিশ আর জনগনের মাঝখানে যে অবিশ্বাসের দেয়াল আছে তা তুলে ফেলতে হবে। পুলিশ যে জনগনের বন্ধু এ বিশ্বাস জনমনে প্রতিষ্ঠা করা খুবই জরুরী। ‘বাংলাদেশ পুলিশ অধ্যাদেশ ২০০৭’ নামে যে প্রস-াব পেশ করা হয়েছে তাতে জনগনের সে আশা-আকাঙ্খারই প্রতিফলন দেখা যায়। খুবই যুগোপযোগী একটি প্রস-াব। লণ্ডন, নিউইয়র্ক কিংবা টরন্টো পুলিশের কাঠামোও একই ধরনের। বুঝাই যায় বহু লোকের সুচিনি-ত মতামত এবং পরিশ্রমের ফসল হচ্ছে এটি। ইতিমধ্যে দেশের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমগুলোও এর সপক্ষে তাদের মতামত রেখেছে। আমরা মনে করি পুলিশ অধ্যাদেশ ২০০৭-এ এমন কিছু বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে পুলিশের বিদ্যমান অনেক সমস্যা দূর হবে। প্রস-াবিত আইনে পুলিশকে একটি সেবাদানকারী সংগঠনে পরিণত করার ইচ্ছে ব্যক্ত করা হয়েছে। জানা যায়, ২০০৫ সাল থেকে ইউএনডিপি, ডিএফআইডি ও ইউরোপীয় কমিশনের অর্থায়নে পুলিশের সংস্কার কাজে হাত দেয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে একটি পরামর্শক কমিটি গঠনের নির্দেশ আসে। চলতি বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি সেই পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়; তারপর খসড়া অধ্যাদেশটি সম্পর্কে দেশব্যাপী থানা পর্যায়ে জনমত যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়। সেই কাজটিও শেষ হয়েছে, প্রাপ্ত মতামতের একটি সারসংক্ষেপও তৈরি করা হয়েছে। তারপরও এ নিয়ে কালক্ষেপণ চলছে। পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, নতুন আইনটি যাতে না হয়, সে জন্যে নানান জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। ইতিমধ্যে পুলিশের আইজি নূর মোহাম্মদ ক্ষোভ প্রকাশ করে সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা বলছি যে আমরা ভাল হব। আমাদের সংস্কার করে আমাদের ভাল হওয়ার সুযোগ দিন। আপনারা দিচ্ছেন না।’ পুলিশের সাবেক আইজি এ এস এম শাহজাহান বলেছেন, ‘সংস্কারের দ্বারা যারা ক্ষতিগ্রস- হবে, তারা কোনদিনই সংস্কারের পথে অগ্রসর হবে না।’ আমরা মনে করি এ ধরনের একটি সংস্কার প্রস্তাব পাস না হওয়ার কোন যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না। রাজনৈতিক সরকার পুলিশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, এ কারণে তারা পুলিশ সংস্কারে আগ্রহী হয় না। কিন' তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তো সে সমস্যা থাকার কথা নয়। বর্তমান সরকার অনেক সংস্কারমুলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। আমরা মনে করি পুলিশের এই সংস্কারটিও তারা করবেন। আমরা এও মনে করি যদি এই সংস্কারটি তারা পরবর্তী সরকারের জন্য রেখে যান তাহলে এটা আর কোনদিন হবে না। আমরা আশা করছি, সরকার অবিলম্বে পুলিশ অধ্যাদেশ ২০০৭ এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে হবে। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য পুলিশ প্রশাসনে সংস্কার প্রয়োজন। পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও খুব জরুরি। সেজন্য আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা, যানবাহন ইত্যাদির ব্যবস'া করতে হবে। আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন একটি পুলিশ বাহিনী তৈরি করার জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণ। পুলিশ যেন সাধারণ মানুষকে শ্রদ্ধা করে, জনগনের অধিকার সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল হয়। পুলিশের কনষ্টেবল থেকে আইজি পর্যন- কম্পিউটার জ্ঞান থাকা আবশ্যক। পুলিশ অত্যন- গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবশ্যই পুলিশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে এ পেশায় আকৃষ্ট করতে হবে। নিতে হবে যথাপোযুক্ত উদ্যোগ। আমরা চাই একটি দক্ষ, গতিশীল, আধুনিক, কর্তব্যপরায়ণ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক পুলিশ সংগঠন। বাংলাদেশের পুলিশ মর্যাদার সাথে তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করুক এটাই আমাদের কামনা। নজরুল ইসলাম মিন্টো প্রধান সম্পাদক দেশে বিদেশে (১১ই নভেম্বর ২০০৮ ইংরেজী তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গোল টেবিল বৈঠকের মূল প্রবন্ধ)
 
Call For Add
 
Call For Add
 
Canada Office : 71 Highview Avenue, Toronto, ON, M1N 2H4, Phone: 416-699-9833, Toll Free: 1-800-876-4358, Email: info@deshebideshe.com