লগ-ইন
¦ নিবন্ধিত হোন
Logo
Chief Editor: Nazrul Minto
editor@deshebideshe.com
Friday | 24 May | 2013
 
Default Page
Bangla Problem
FB
Twitter
RSS

গড় রেটিং: 0.0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

Update : 2012-10-17 02:56:02

টিআইবির প্রতিবেদন : কিছু প্রতিক্রিয়ার জবাব

সুলতানা কামাল

 

১৭. ১০. ২০১২ তারিখের প্রথম আলোর উদ্ধৃতিতে জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকারের একটি কথার উল্লেখ করা হয়েছে। মাননীয় স্পিকার টিআইবির নবম জাতীয় সংসদের সদস্যদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক ভূমিকা পর্যালোচনা-সংক্রান্ত যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গত ১৪ অক্টোবর ২০১২, তার পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন “এই প্রতিবেদন দেখে সংসদ সদস্য হিসেবে আমিও অপমানিত বোধ করছি”। প্রথম আলোর ভেতরের পৃষ্ঠায় এই প্রতিবেদন সম্পর্কে অন্যান্য যে মন্তব্য করেছেন, তা প্রকাশিত হয়েছে। স্পিকার বলেছেন, ‘টিআইবি প্রতিবেদন সংসদকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য’। এ ছাড়া তিনি ৩৫০ জন সাংসদের একাংশের ওপর জরিপ চালিয়ে এ ধরনের উপসংহারে আসাটা সঠিক নয় বলে বলেছেন এবং জরিপের পদ্ধতি সম্পর্কেও প্রশ্ন তুলেছেন। 
এ প্রশ্নগুলো টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই আসা শুরু হয়েছে—বিশেষত, সরকারদলীয় সাংসদদের কাছ থেকেই। সংসদ সদস্যের বাইরে আওয়ামী লীগের মুখপাত্রও প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি এ কথাও বলেছেন যে, টিআইবি এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে অনির্বাচিত সরকার ডেকে আনার চক্রান্ত করছে। 
অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও বুধবারের এক সভায় একই কথা বলেছেন যে, এই প্রতিবেদন উদ্দেশ্যমূলক এবং অনির্বাচিত ব্যক্তিদের ক্ষমতায় বসানোর ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। একটি গণতান্ত্রিক দেশের প্রধান নির্বাহী যখন কোনো মন্তব্য করেন, সেটির ওপর আর কথা থাকে না। তবুও গণতান্ত্রিক অধিকারবলে বারবার অযৌক্তিকভাবে অঙ্গুলি নির্দেশিত হয়েই আজকে কলম ধরা। 
টিআইবি যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে, যাঁরা এ বিষয়ে বিষোদগার করে যাচ্ছেন, তাঁরা কি সেটা সম্পূর্ণ পড়েছেন? এর আগেও টিআইবির কিছু কিছু প্রতিবেদন নিয়ে যাঁদের প্রসঙ্গে কথা উঠেছে তাঁরা ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ মন্তব্য করেছেন। টিআইবির বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে যাঁরা মন্তব্য করেছেন, তাঁরাও বলেছেন যে সম্পূর্ণ প্রতিবেদন না পড়েই তাঁরা গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ওপর ভিত্তি করে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ করা যেতে পারে, যখন একই ব্যক্তি বা দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের যে প্রতিক্রিয়া টিআইবি পায়, তারা যখন ক্ষমতার বাইরে থাকে, তখন ঠিক তার বিপরীতে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। সব সময় একই ঘটনা ঘটেছে। ঠিক যেমন বর্তমান বিরোধী দল এই প্রতিবেদনকে তাদের কথার প্রতিফলন বলে দাবি করছে। বর্তমান সরকারেরই মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সম্প্রতি এক জনসভায় বলেছিলেন, টিআইবি সব সময়ই প্রতিবেদন দেয়, আমরা সরকারে থাকলে বলি নাউজুবিল্লাহ আর বিরোধী দলে থাকলে বলি আলহামদুলিল্লাহ। 
প্রতিবেদনে টিআইবি স্পষ্ট করে বলেছে একটি আধুনিক গণতান্ত্রিকব্যবস্থায় সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে ভূমিকা হবে দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকেন্দ্রিক। গণতন্ত্রে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সঙ্গে একই মাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সেটার জন্য সময় সময় সব গণতান্ত্রিক দেশেই সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে আলাপ-আলোচনা, পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন প্রকাশের মতো কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক বিষয় বলেই ধরে নেওয়া হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল শুধু বাংলাদেশে কাজ করে না, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর অধ্যায় রয়েছে এবং সব দেশেই এ ধরনের কাজ তাদের নিয়মিত কর্মসূচি, কিংবা বলা চলে দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। 
মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা মানুষের কার্যকর ক্ষমতায়ন আর জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। টিআইবি সেই রীতি অনুযায়ীই বাংলাদেশে কাজটি করে থাকে। টিআইবির মূল দায়িত্ব যেহেতু গণতন্ত্রকে জবাবদিহি ও দুর্নীতিমুক্ত করে একটি শক্তিশালী রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা, তাই স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত দুর্নীতিসংক্রান্ত খবরাখবর, তথ্য ও অভিযোগ নিয়ে টিআইবি কাজ করার তাগিদ অনুভব করে এবং তারই অংশ হিসেবে এই প্রতিবেদনগুলো প্রকাশ করে। 
সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে টিআইবি উল্লেখ করেছে, জানুয়ারি ২০০৯ থেকে সেপ্টেম্বর ২০১২ পর্যন্ত যেসব সংসদ সদস্যের নানা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও অনিয়ম প্রকাশিত হয়েছে তাদের সংখ্যা ১৮১ জন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত এসব তথ্য যা সংশ্লিষ্ট সদস্যরা খণ্ডন করেননি বা করতে পারেননি। টিআইবি লক্ষ করেছে যে, সংবাদমাধ্যমে সংসদ সদস্য সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য কোনো ইতিবাচক কার্যক্রমের তথ্য আসেনি। এ পরিপ্রেক্ষিতে টিআইবি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষণা পদ্ধতিতে তথ্যানুসন্ধাননির্ভর এ গবেষণাটি করে। মাঠপর্যায়ে ৪৪টি অঞ্চলে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর সচেতন মানুষের অংশগ্রহণে দলীয় আলোচনার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, তাঁদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আবারও উল্লেখ করা যেতে পারে, গবেষণার গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে শুধু যে ১৪৯ জন্য সদস্য সম্পর্কে উত্তরদাতা বা আলোচকেরা তথ্য জানেন, তাঁদের সম্পর্কেই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। মোট ৬০০ জন এসব দলগত আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। যাঁরা ১৬ কোটি মানুষের দেশে ৬০০ সংখ্যাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁদের সবিনয়ে বিশ্বব্যাপী এ ধরনের গবেষণা বা জরিপের নমুনা বা উত্তরদাতার সংখ্যা কেমন হয়, তা জেনে নেওয়ার অনুরোধ করি।
আগেই বলা হয়েছে, আলোচকেরা, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী ওয়াদার আলোকে তাঁদের বর্তমান কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করেছেন এবং মন্তব্য দিয়েছেন। আলোচকেরা অবশ্যই সংসদ সদস্যদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের কথা বলেছেন, হিসাব অনুযায়ী যাঁদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৩.৭%। আলোচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে আছেন আটজন নারী সংসদ সদস্যের ছয়জন, ২৭ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১৯ জন এবং ১৩ জন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যের মধ্যে পাঁচজন। (ইতিবাচক কার্যক্রম বিস্তারিত দেখুন, টিআইবির প্রতিবেদন, ওয়েবসাইটে প্রকাশিত)।
অন্যদিকে জরিপের জন্য নির্বাচিত সাংসদদের মধ্যে যাঁরা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাঁরা মোট ১৪৯ জন সাংসদের ৯৭%। তাঁরা হলেন আটজন নারী সদস্যের মধ্যে সাতজন, ২৭ জন মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী সবাই এবং ১৩ জন বিরোধীদলীয় সদস্যের ১২ জন। এখানেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, গবেষণাটি ‘সরকারকে’ হেয় করার উদ্দেশ্যে করা হয়নি, বরঞ্চ আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যে অঙ্গীকার বা শপথনামা স্পর্শ করে আমাদের কিছু কথা দিয়েছিলেন তা রাখছেন কি না, সেই উদ্দেশ্যেই উদ্বুদ্ধ, যা গণতন্ত্রের একটি অবশ্য পালনীয় শর্ত। প্রশ্ন উঠতে পারে, নেতিবাচক কর্মকাণ্ড বলতে টিআইবি কোন কোন কার্যক্রমকে বিবেচনায় নিয়েছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত দেখুন, টিআইবির প্রতিবেদন।
এ ক্ষেত্রে টিআইবির সুপারিশমালা হচ্ছে—
ক. সংসদে কার্যকর অংশগ্রহণ বাড়ানো
১. সংসদ সদস্যদের স্থানীয় প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে ভূমিকা থেকে সরিয়ে নিয়ে আসা এবং এ বিষয়ে সুস্পষ্ট আইন প্রণয়ন করা।
২. দলগতভাবে সংসদ বর্জন আইন করে বন্ধ করা এবং নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া সংসদ সদস্যদের সংসদে সর্বোচ্চ ৩০ দিন এবং একটানা সাত দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকা নিষিদ্ধ করা
৩. বিরোধী দলের কার্যকর এবং ন্যায়ভিত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা
 বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন—নিজ দল থেকে পদত্যাগ
 সরকারি হিসাব-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিসহ অন্তত ৫০% সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে নির্বাচন।
৪. নিজ দল থেকে স্পিকারের পদত্যাগ।
৫. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন— অনাস্থা প্রস্তাব, জাতীয় বাজেট ও জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কিছু বিষয় ছাড়া অন্যান্য যেকোনো বিষয়ে দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ
 
খ. নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা
৬. জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘আচরণবিধি’ বিল আইনে পরিণত করা
৭. সংসদ সদস্যদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া
 সংসদ সদস্যের নিজ রাজনৈতিক দল থেকেও শক্তিশালী ভূমিকা 
 বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সংসদ সদস্যদের দল থেকে বহিষ্কার
পরবর্তী নির্বাচনে মনোনয়ন না দেওয়ার ঘোষণা
প্রত্যাশিত পর্যায়ে কাজ না করার জন্য সংসদ সদস্যকে প্রত্যাহার, গণভোট বা বিশেষ উদ্দেশ্যে সাধারণ সভা করার বিধান করতে হবে।
৮. সংসদ সদস্যদের আর্থিক ও অন্যান্য তথ্য নিয়মিতভাবে প্রকাশ—সংসদ অধিবেশন ও সংসদীয় কমিটিতে অংশগ্রহণসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিতভাবে প্রকাশ
৯. সাংসদদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা—নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রার্থীদের সম্পর্কে তুলনামূলক তথ্য প্রকাশ ও প্রচার 
১০. স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠান—সংসদ সদস্যদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
যে অভিযোগ, অনুযোগগুলো এখানে তোলা হয়েছে, সেগুলোর কোনো প্রতিবাদ কখনো হয়নি এবং এখনো যাঁরা টিআইবির প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন, তাঁদের মূল ভাষ্য হলো—‘কেন টিআইবি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করল, এই সময় কেন করল। টিআইবি উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটা করেছে এবং অনির্বাচিত ব্যক্তিদের ক্ষমতায় আসার পথ করে দেওয়ার জন্য এই কাজটা করেছে।’
কেন এই সময়ে এই প্রতিবেদন, তার উত্তর খুবই সহজ। আমরা চাই সংসদ সদস্যরা জনগণের কাছ থেকে আসা এ মূল্যায়ন বিবেচনায় নিয়ে সংসদের বাকি এক বছরের সামান্য বেশি সময়ে এমন কিছু করার সুযোগ নেন, যাতে তাঁরা সসম্মানে আবার ভোটারদের কাছে যেতে পারেন। 
একটি গণতান্ত্রিক দেশে বাস করে জনগণ তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত আচরণ না পান, সে সম্পর্কে কথা বলতে পারবে না? কীভাবে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা যায় সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা, আলোচনা, প্রশ্ন তোলা কি এ দেশে বারণ? আমাদের সংবিধান কি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোকে সে অধিকার দেয়নি? টিআইবি যে নেতিবাচক আচরণ বা কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেছে তা যদি তথ্যভিত্তিক না হয়, টিআইবি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইবে। কিন্তু এই সংবাদগুলো দীর্ঘদিন ধরে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, সাধারণ মানুষ আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছে, কিছু কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলাও হয়েছে—তার পরও এসব বিষয় নিয়ে মুখ বন্ধ করে থাকতে হবে? তা হলে কোন ধরনের গণতন্ত্রে বাস করছি আমরা। কোন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলি কিংবা ধারণ করি আমরা। যারাই যখন যা কিছু বলবে, সরকার বা বিরোধী দলের কারও বিরুদ্ধে গেলেই সেটা “রাজনীতিকদের” হেয়প্রতিপন্ন করা বলে দোষারোপ চলতে থাকবে? কোনো ‘রাজনীতিক’ যদি দোষ করেন সেটা উল্লেখ করা যাবে না? সংসদের রাজনীতিকদের সম্পর্কে কিছু বলাতে মাননীয় স্পিকার অপমানিত বোধ করেছেন একজন সংসদ সদস্য হিসেবে। 
মাননীয় স্পিকার, আপনি শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব। আপনার আদেশ, উপদেশ, নির্দেশ উপেক্ষা করে, অসম্মান করে দিনের পর দিন বিরোধী দল সংসদ বর্জন করে যায়, আপনার উপস্থিতিতে একজন সংসদ সদস্য অপর সংসদ সদস্যকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেন, আপনাকে আমরা দেখি অসহায়ভাবে তাঁদের মানাতে চেষ্টা করতে থাকেন।
তাঁদের হেয়প্রতিপন্ন করতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের প্রয়োজন হয়? কারও কারও ভাষায় ‘তৃতীয় পক্ষের’ প্রয়োজন হয়। সংসদে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়, আমার ব্যক্তিগত মতামত—চেষ্টা করলেও সে ভাষায় একটি বাক্যও উচ্চারণ করতে পারব না আমরা। মাননীয় স্পিকার, শ্রদ্ধেয় হামিদ ভাই, একটি তথ্যনিষ্ঠ, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রচিত, জনস্বার্থমূলক প্রতিবেদনকে উপলক্ষ করে গঠনমূলক সমালোচনার জবাবে উচ্চতম পর্যায় থেকে ‘চক্রান্তকারী’র অভিযোগ শুনতে হয়, তাতে আমরা যাঁরা দেশ নিয়ে ভাবি, দুর্নীতিমুক্ত, সুশাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার কাজ করতে চাই, তাঁরা অপমানিত বোধ করি, তাঁরা শঙ্কিত বোধ করি। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মোটামুটিভাবে প্রমাণিত, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা তেমন মানুষদের আইনের ঊর্ধ্বে রাখার পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতিতে মুক্তচিন্তার মানুষ যখন ভীত হতে শুরু করে, মাননীয় স্পিকার, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এর চেয়ে বড় কিছু আর ঘটতে পারে না।
সুলতানা কামাল: চেয়ারপারসন, টিআইবি।
সুলতানা কামাল এর অন্যান্য লেখা
  
  
  
  
  
  
  
  
Contact: 71 Highview Ave, Toronto, ON, M1N 2H4, Canada, Tel: 416 699 9833, email: info@deshebideshe.com