লগ-ইন
¦ নিবন্ধিত হোন
Logo
Chief Editor: Nazrul Minto
editor@deshebideshe.com
Wednesday | 22 May | 2013
 
Default Page
Bangla Problem
FB
Twitter
RSS

গড় রেটিং: 4.0/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

Update : 2012-10-26 01:13:34

মালালা তুমি এগিয়ে চলো

আকতার হোসেন
বার্মিংহাম হাসপাতালে বাবা ও ভাইদের সাথে মালালা ইউসুফজাই

তুমি এতোই ছোট্ট যে কাঁধের উপর ক্লাসের সবগুলো পাঠ্য বই তুলে দিলে হয়তো বেঁকেই যাবে। অথবা যদি বলা হয় ফু্ল বাগানে গিয়ে বসো তবে হয়তো আর খুঁজে পাওয়া যাবে না তোমাকে। তুমি ফু্লের মতই দেখতে। অথচ এই অল্প বয়সে তুমি কি কান্ডটাই না করে বসলে। 

 
তুর্কী বীর কামাল পাশার গুনগান প্রকাশ করতে গিয়ে আমাদের বিখ্যাত কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার এক কবিতায় লিখেছিলেন 
 
‘ওই খেপেছে পাগলী মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই। 
অসুর পুরে শোর উঠেছে জোরসে সামাল সামাল তাই। 
কামাল তুনে কামাল কিয়া ভাই’। 
 
মাত্র ১৫ বছর বয়সে তুমি যা করলে তাকে কি আর কামাল বলে বসে থাকা যায়। তুমিতো দেখি কামাল জামাল থেকেও বড় কিছু করে দেখিয়ে দিলে। মেয়েদের লেখাপড়া যেন কোন ভাবেই বন্ধ করা না হয় তার জন্য তুমি কন্ঠ খুলে আওয়াজ দিলে পাকিস্তানের পাহাড় পর্ব্বত ঘেরা সোয়াতের এক গ্রাম থেকে। যেখানে তালেবানদের হাতে মৃত্যু ভয়ে সকলে কাঁপতে থাকে সারাক্ষন, তালেবানদের হূকুম অমান্য করার সাহস দেখায় না অনেক প্রাপ্ত বয়স্ক পূরুষ। অথচ একজন কচি খুকি হয়েও বললে লেখা-পড়া ও জ্ঞান অর্জন তোমার জন্মগত অধিকার। এই অধিকার কাউকে ছিনিয়ে নিতে দিবে না তুমি। এমনকি মৃত্যু ভয়েও তুমি ভিতু ছিলে না। তোমার এই ফরিয়াদ শুরু হয় ৯ বছর বয়স থেকে। ১১ বছরে তুমি আরো বেশি সোচ্চার হলে, দেশের বাইরে প্রচার করলে তোমার কন্ঠস্বর। শেষে ১৫তে এসে খেলে গুলি। তুমি হয়তো ভুলেই গেছ সুন্দর কাজগুলো অনেকে দেখতে পায় না। তারা মন্দ কথা ও ভ্রান্ত ধারণার উত্তাপ বোগল দাবা করে দাবানল ছড়াতে থাকে। ভ্রান্ত ভাবনাই তাদের শক্তি, বেঁচে থাকার নিয়ম-নীতি। তাদের মনটা এমন পাথর হয়ে আছে যে নিজের বিশ্বাসের বাইরে অন্য সকলের বিশ্বাসকে তারা ভুল মনে করে। তবুও যদি বিশ্বাস বলতে যা বোঝায় সেটা নিজস্ব ধ্যান ধারণা থেকে উদ্ভুত হতো। বাস্তবতা হলো বিশ্বাস বলো আর প্রতিহিংসা বলো ওদের সব কিছুই আরোপিত। চোখ থাকতেও যারা অন্ধ তাদের বিশ্বাস মানেই তৃতীয় পক্ষের শেখানো প্রণোদিত প্ররোচনা।  
 
শুনেছি তোমার নাম রাখা হয়েছিল পশতুন এক মহিষী কবি মালালাই আন্নার নামের সাথে মিল রেখে। যার সাহসিকতা পশতুন লোকগাথায় পরিণত হয়েছে। এই নারী শুধু কবিই ছিলেন না ১৯ বছর বয়সে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দিয়ে প্রান হারিয়েছিলেন। সময়ের চাকাতে চড়ে এখন তোমাকেই সেই ব্রিটিশদের কাছে যেতে হয়েছে। তারাও তোমাকে স্বাধীন জাতির এক স্বাধীন নাগরিকের সন্মান দিয়ে উন্নত চিকিৎসা দিতে ব্যস্ত রয়েছে। অতীতের খেদ মনের গভীরে লুকিয়ে রেখে যদি সকলে বসে থাকতো তবে তুমিও বিবিসি’কে তোমার ডাইরি পড়ে শোনাতে না কিংবা ব্রিটিশ ডাক্তারাও তোমার শুশ্রূষার জন্য মনোযোগী হতো না। আদতে তুমি মালালা আন্নার থেকে প্রেরণা পেয়ে বড় হওয়া এ যুগের মালালা।  
 
তোমার নাম নিয়ে আরো একটা কথা বলতে চাই। বাংলা ভাষায় তোমার নামের প্রথম অক্ষর অর্থাৎ ‘মা’ মানে মাতা। বাঙালিরা বুকের নিঃশ্বাস উজাড় করে শ্রদ্ধার সাথে এই শব্দটি ব্যবহার করে। আমাদের জাতীয় সঙ্গীতে ‘মা’  বার-বার ঘুরেফিরে এসেছে। তোমার নাম উচ্চারণ করতে গেলে ‘মা’ না বলে এগোনো যায় না। শুধু উচ্চারণেই নয় অনেকেই মনে করে তুমি আসলে মায়েদেরই একজন। যে সমস্ত কাজ দ্বারা একজন সাধারণ নারী মায়ে রুপান্তরিত হয় তুমিও তাই করে দেখিয়েছ। বেড়ে উঠা শিশুদের তুমি মায়ের মমতায় ঠাঁই দিয়েছো। মায়ের চোখ দিয়ে দেখেছ সন্তানের ভবিষ্যৎ। আশার বাণী ছড়িয়ে বলেছ একটি বৃক্ষ যেমন মুক্ত আকাশের নিচে স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠে, মানব শিশুরাও যেন সেই স্বাদ নিতে পারে। চুরমার হয়ে যেতে পারে এমন সম্ভাবনা থেকে শিশুদের তুমি আগলে রাখতে চেয়েছো।
 
এই সমস্ত কাজ যারা বোঝে না এবং যারা মায়ের স্বরূপ চিনতে পারেনা তারাই মাকে রক্তাক্ত করে। ওরাই ভ্রান্ত ধারণার বশীভূত হয়ে দাবানল ছড়িয়ে বেড়ায়। ঠিক এমন এক ব্যক্তিই তোমার মাথায় গুলি ছুঁড়েছে। এখনো ঠিক করে কেউ বলতে পারেনি সে কি তালেবান দলের সদস্য, সাধারণ দুষ্কৃতকারী, ঘরের লোক, নাকি লেলিয়ে দেয়া কোন গুন্ডাবাহিনী। আক্রমণকারী যেই হোক না কেন, যে তোমাকে গুলি করেছে সে তোমারই জাতি ভাই। কেননা গুলি ছোঁড়ার আগে সে তোমার ভাষাতেই প্রশ্ন করে নিশ্চিত হয়েছে স্কুল বাসের মেয়েদের মধ্যে কে আদতে মালালা ইউসুফজাই। সব দেশেই এমন ভাইয়েরা অল্প বিস্তর মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। যেমন আমাদের দেশেও কিছু আছে। কিন্তু তোমাদের দেশে ওরা কিলবিল করছে। চাষাবাদ না করলে কিংবা অযত্নে বাড়তে না দিলে কোন কিছুই এভাবে কিলবিল করে উঠেনা। তাই ছোট করে এতো বড় গড়মিল অঙ্কের সমাধান দিতে চেষ্টা করবো না। ব্যাপারটা ভয়ানক রকম অসমতার মধ্যে পড়ে আছে। কবে উদ্ধার পাবে কে জানে। আমি শুধু ভাবছি তুমি কখন সম্পূর্ন চোখ তুলে তাকবে। অথবা যদি বেশি করে চাই, বলবো কখন তোমার চোখ গড়িয়ে নেমে আসবে সোয়াত নদীর ধারা। তুমি হয়তো জানো না মাথায় গুলি লাগার পর যেদিন তুমি চোখ বন্ধ করেছিলে সেদিন থেকে পৃথিবী খানিকটা বদলে গেছে। তোমার নিজের দেশের চেহারাটাও অনেক পরিবর্তীত হয়েছে। এই বদলে যাবার পেছনে তোমার নিজেরই যথেষ্ট হাত রয়েছে। 

ভাবছি যেদিন তুমি সুস্থ হয়ে হাসি মুখে কথা বলবে আর স্বাভাবিক আচরণ করবে সেদিন তোমার মুখের উজ্জ্বলতা বাড়াতে আমি কি কিছু করতে পারি! কত কি  উপহার দিতে ইচ্ছে করছে তবে কোন উপহার তোমার হাসিতে ঝুলে থাকবে অনেক দিন ধরে তাই নিয়ে ভাবছি। পত্রিকায় দেখলাম তুমি একটা টেডি বিয়ার নিয়ে শুয়ে আছো। যে লোক সেটা দিয়েছে সে বোধহয় জানেনা যে তুমি পুতুল খেলতে পছন্দ কর না। তাই এক বাক্স সুইস চকলেটের কথাও ভেবেছিলাম। হয়তো বাংলাদেশের মিষ্টি রসগোল্লা পাঠালে দুচারটা খেতে পারতে। আমাদের এই রসগোল্লার অনেকে সুখ্যাতি আছে। 

 
একটা ভুল হয়ে গেল। প্রথমেই আমার পরিচয় দেয়া উচিৎ ছিল। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার বয়স যখন ঠিক তোমার মত ছিল তখন আমিও যুদ্ধ করেছি। তবে বাক যুদ্ধ নয় সেটা ছিল বাস্তব যুদ্ধ। তোমার সেই পশতুন কবি মালালা আন্নার মত সরাসরি বন্দুক যুদ্ধ। আর যুদ্ধটা ছিল তোমার দেশের মিলিটারিদের সাথে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র জন্ম হবার পর তালেবানী চিন্তা নিয়ে বিভিন্ন সরকার পাকিস্তানের গদিতে বসেছে। তালেবানী চিন্তা বলতে বুঝাচ্ছি অন্যের মত ও মর্যদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে নীপীড়ন নীতি নিয়ে শাসন করা। আমরা বাংলাদেশীরা তখন তোমাদের পাকিস্তানেরই অংশ ছিলাম। নাগরিকত্বে পাকিস্তানী কিন্তু জাতিতে বাঙালি। তোমরা যেমন পাকিস্তানী তবে জাতিতে পশতু ঠিক তাই। তখনকার সেই তালেবানী তুল্য সরকারদের মাথায় এল বাঙালি-পাকিস্তানীদের নাম থেকে বাঙালি কেটে শুধু পাকিস্তানী করে রাখার ফন্দি। কিন্ত তাই কি হয়! কেউ কি তার জাত, ভাষা সংস্কৃতি ছেড়ে দিতে চায়। তাহলেতো পাঞ্জাবী গুজরাটি মারাঠি কিংবা পখতুন জাতির কোন অস্তিত্ব থাকতো না। অতএব, বাঙালি জাতীয়তা ও বাংলা সংস্কৃতি ধ্বংসের মনোবৃত্তি নিয়ে পাকিস্তান সরকার ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ যেদিন যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল বাঙালিরাও সেদিন থেকেই আত্মরক্ষার যুদ্ধে নেমে পড়লো। নয় মাস পর পাকিস্তানীদের আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে থেমে ছিল সেই যুদ্ধ। এরি মাঝে ত্রিশ লক্ষ বাঙ্গালি শহীদ হয়ে গেল। আরো অনেক অমানবিক কান্ড ঘটেছিল সেই সময়। সেগুলো বড় হয়ে জেনে নিও। নিজ চোখে পাকিস্তানী মিলিটারি ও পাকিস্তানী সরকারের তান্ডব দেখেছি বলে ১৯৭১ সাল থেকে পাকিস্তানীদের ভীষণ অপছন্দ করি। যখন জানতে পারলাম যুদ্ধে হেরে গিয়ে এবং আত্মসমর্পণ থেকে উদ্ভূত গ্লানির প্রতিশোধ নেবার বাসনায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জন্ম লগ্ন থেকেই পাকিস্তান সরকার বা প্রশাসন বিরামহীন ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে তখন আমিও প্রতিজ্ঞা করে বসলাম পাকিস্তানিদের অতীতের কৃতকর্মের জন্য তাদের ক্ষমা করবো না।  আজো তাই পাকিস্তানের কোন কিছুই আমাকে আকষর্ণ করে না। পাকিস্তানি ফল না, বল না, পণ্য না মোট কথা কোন কিছুই না। একবার দোকান থেকে এক বোতল আচার কিনে খুলতে গিয়ে দেখি মেড ইন পাকিস্তান। সেই আচার না খুলে গার্বেজ বিনে ফেলে দিয়েছিলাম। আমি পণ্য কিনে পাকিস্তানী আর্থনীতিকে ধন্য করবো আর তারা সেই টাকার অংশ দিয়ে আমার দেশে জঙ্গী চালান করবে, অস্ত্র কিনে পাঠাবে বিদ্রোহীদের কাছে। সেনাবাহিনীকে হাত করে হত্যা করবে বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টাকে। বিন্দু বিন্দু জলের মত ষড়যন্ত্রের মহাসাগরে গিয়ে পড়বে আমার কষ্ট আর ঘাম ঝরানো টাকা তা কিছুতেই হতে দিব না। তাই বলতে পার ১৯৭১ সাল থেকে পাকিস্তান যেমন আমার অপ্রিয় ছিল এখনো আমি তাই মনে করি। 
  
ফিরে আসি তোমার কথায়। শুনছি তুমি নাকি একটু একটু করে সুস্থ হয়ে উঠছো। কাগজে লিখে তোমার কথা প্রকাশ করতে পারছো। ডাক্তাররা এখন বেশ আশাবাদী। তোমার সম্পূর্ন সুস্থতা সময়ের ব্যাপার মাত্র। কাজেই যে দীপ তুমি জ্বালিয়েছো, যে আওয়াজ তুমি তুলেছো তার বাস্তবিক প্রয়োগ দেখে যাবার লোভ হচ্ছে। অনেক কাজ করতে হবে তোমাকে। শেষ করতে হবে যা যা প্রতিজ্ঞা করেছো। পারিপার্শ্বিক চাহিদা, সমাজ ও পরিবারের তাড়নায় মানুষ নিজেকে অনেক সময় ভুল পথে নিয়ে যায়। তবুও বিশ্বাসই আমাদের একমাত্র ভরসা। সুদিনের আশা না করে, কারো উপর ভরসা না করে আমাদের উপায় কি। আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হয়ে তুমি ন্যায় এবং সত্যের পক্ষে লড়াই করে যাবে। ভাবছি এ কাজে তোমার শক্তি বাড়াতে আমি কি কিছু করতে পারি কি না। কিন্তু কি দেই বলো। একাত্তুরের এই মুক্তিযোদ্ধা যে তোমার জাতিকে ক্ষমা করবেনা পণ করে বসে আছে। এই পণ চল্লিশ বছরের অধিক সময় ধরে ধারণ করে আছি। যদিও সুযোগ পেয়েছি পাকিস্তান রাষ্ট্রের কিছু ভাল কাজ দেখার এবং উন্নত মনের কিছু মানুষের সাথে মিশবার। যাদের আচার আচরণ অনেকের থেকে খুব বেশি ভিন্ন। তবুও অন্যায়ের মাত্রা এতো বেশি দেখেছি যে ভাল পাকিস্তানিদের নৈকট্যও আমার মন নরম করতে পারে নাই। মনের এই অবাস্থাকে আক্রোশ মনে করো না। এটা ব্যাথা বেদনা আপমান ভুলতে না পারার পরিণতি। কোন বিনাশী চিন্ত নেই তোমার জাতির বিরুদ্ধে, নেই কোন প্রতিশোধের প্রচেস্টা। শুধু বলতে চাই যে অন্যায় জুলুম করা হয়েছিল আমদের উপর তার কোন যুক্তি ছিল না। রাজনীতিতে মিথ্যাচার থাকে জানি, অন্যের উপর আধিপত্য বিস্তারের সময় কিছু বানোয়াট কথাবর্তা বলা হয় তাও জানি। তবে একটি জাতিকে শেষ করার পরিকল্পনায় মিথ্যা প্রচার চালানো হল আর তোমার দেশের শিক্ষিত সম্প্রদায় সেটা বসে বসে গিলে গেল সেটাতেই অবাক হই বেশি। এমন সমাজ যেন পৃথিবীর কোন দেশে না থাকে। তবুও ভাল এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। তোমাদের মত শিশুরা যখন জেগে উঠেছে তখন সুদিনের আশা করাই উচিৎ। পরিবর্তন যে আসবে সে ব্যপারে অনেকেই আশাবাদী। খোদ পাকিস্তানীদের পক্ষ থেকেও এখন বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবী উঠেছে। সেই ক্ষমা নিবেদন হয়তো অচিরে হয়ে যাবে। কেউ না কেউ সঠিক কাজটি করে দেখাবে বলে বিশ্বাস করি। তোমার প্রিয় ইমরান খানও প্রকাশ্যে বাংলাদেশীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবী তুলেছেন। এদিকে বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন ভাবে যারা সহযোগিতা করেছিলেন সেরকম পাঁচ শতাধিক বিদশী বন্ধুদের ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ উপহার দিবে। যার মধ্যে প্রায় চল্লিশ জন পাকিস্তানীর নামও এসেছে।  তবুও বলবো বাংলাদেশে বেশির ভাগ লোক আমারই মতন প্রতিজ্ঞা করে বসে আছে। বিশেষ করে যাদের আপনজন শহীদ হয়েছেন বা ব্যক্তিগত ভাবে অত্যাচার লাঞ্চনা নিপীড়ন সহ্য করেছেন তারাতো তাঁদের মনের মধ্যে অনবরত শাস্তি দিয়ে যাচ্ছে তোমাদের মিলিটারি এবং তাদের সাহায্য সমর্থন ও সহযোগিতা করা জনগোষ্ঠীকে। তাঁরা হয়তো কোন দিনই কাউকে মাফ করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট জোরালো এবং যুক্তিসঙ্গত কাজেই এ নিয়ে বিতর্ক করার কোন সুযোগ নেই। এখন এই অবস্থায় তোমার সাথে কি করে হঠাৎ দেয়া নেয়া শুরু করি বলো।
 
যে ভবিষ্যৎ তুমি দেখিয়েছ, যে কাজ তুমি করতে চেয়েছো সেগুলো সফল হলে বদলে যাবে পাকিস্তান, বদলে যাবে গোটা অঞ্চল। মানুষ পাবে বেঁচে থাকার প্রেরণা। কিন্তু একটা উঁচু দেয়াল তোমার আমার মধ্যে পাহাড়ের মত দাঁড়িয়ে আছে। সেটা ভাঙ্গতে না পারলে আমার আশির্বাদ তোমাকে স্পর্শ করবে না। মনের মধ্যে বিদ্বেশ পুষে কাউকে আশির্বাদ করা যায় না। সেটা সত্য বচন হতে পারে না। মঙ্গল কামনা করতে হয় শুভ্র সুন্দর মমতা দিয়ে। কিন্তু অনেক শক্ত একটা পাথর বুকের উপর থেকে হটাত তুলে নিতেও বেশ কষ্ট হচ্ছে।  একটা কাজ করতে গিয়ে আমাকে দুটো কাজ করতে হবে। না হয় একটাও না। চল্লিশ বছরের অধিক সময় ধরে লালন করা প্রতিজ্ঞা উঠিয়ে নিতে শঙ্কিত হই। যে কষ্ট বুকের মধ্যে জমে আছে সেটা কোনদিনও ভুলতে পারবো না। আবার মিথ্যের দড়ি দিয়ে কথার জাল বুনতে চাই না। সুন্দর একটা আগামীর আশায় অসুন্দর একটা অতীতকে ক্ষমা করে দেয়াটাই হয়তো উত্তম। কিন্তু এখনো বিধিসম্মত ভাবে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি পেশ করা হয়নি। এমতা অবস্থায় অনুভূতি আর চিন্তাতে দ্বন্দ থাকবেই, মত আর দর্শনের বিভেদ আসাও স্বাভাবিক।  তবুও বলবো তুমি শক্ত হয়ে দাঁড়াও। অনেক দূর্গম পথ তোমাকে পারি দিতে হবে। অনেক আক্রমন আগ্রাসন আসবে পথে পথে। তোমার নিষ্পাপ স্বাধীনচেতা সংকল্পের প্রতি রয়েছে বিশ্বের কোটি লোকের সমর্থন। আমিও তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং জেগে উঠা নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনার প্রতি সমর্থন জানাতে চাই। তোমার মতন মালালারা কোন ভৌগলিক সীমারেখায় বন্দি থাকে না। তুমি সকলের মালালা। সেই বিচারে হয়তো আমার মনের ভেতর জন্ম নেয়া শুভ কামনা তোমার কাছে পৌঁছাতে বাঁধা পাবে না। যদি তাই হয় তবে বলবো মালালা তুমি এগিয়ে চলো। নিজ গুণে নিজ শক্তি নিয়ে যেন এগিয়ে যেত পার সেই চেষ্টাই কর। তোমার জাতি ভাইদের অপারাধ যেদিন মন থেকে মাফ করতে পারবো সেদিন হয়তো আমার আশির্বাদের আর প্রয়োজন হবে না তোমার। তাই যেন সত্য হয়।  
 
Contact: 71 Highview Ave, Toronto, ON, M1N 2H4, Canada, Tel: 416 699 9833, email: info@deshebideshe.com