লগ-ইন
¦ নিবন্ধিত হোন
Logo
Chief Editor: Nazrul Minto
editor@deshebideshe.com
Tuesday | 21 May | 2013
 
Default Page
Bangla Problem
FB
Twitter
RSS

গড় রেটিং: 4.0/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

Update : 2012-10-23 03:34:20

শেখ হাসিনা ভাববেন কি?

মাহমুদুর রহমান মান্না

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আজ আমার লেখার প্রতিপাদ্য। আওয়ামী লীগকে নিয়ে অতীতে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে এবং বর্তমানেও হচ্ছে। ৬০ বছরেরও বেশি পুরনো এ দলের রয়েছে অনেক ঐতিহ্য, আন্দোলন, গৌরব এবং অহংকার। সবচেয়ে বড় কথা, আজকের যে বাংলাদেশ এই বাংলাদেশের জন্ম, বাংলাদেশের জন্মের জন্য রাজনৈতিক আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগকে নিয়ে যে লেখালেখি হবে সেটি খুব স্বাভাবিক কথা। সেই আওয়ামী লীগকে নিয়ে যেমন সম্ভাবনার কথা লেখা হয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের যে আবেগ, উচ্ছ্বাস, আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা বলা হয়েছে তেমনি মাঝেমধ্যে আওয়ামী লীগকে নিয়ে উদ্বেগ, আশঙ্কা, সন্দেহ ও অবিশ্বাসের কথাও লেখা হয়েছে।
 
পাঠকবৃন্দ, আজ আমি স্বাধীনতার পরে চতুর্থবার ক্ষমতায় আসা এই দলটির পরবর্তী দিক অর্থাৎ আশঙ্কা, নিরাশা, হতাশা নিয়ে বলতে চাই। আমি পত্রিকায় দেখেছি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকরা গত মাসের মাঝামাঝি সময় সারা দেশের সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে তাদের লিখিত রিপোর্ট দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দিয়েছেন। এ রিপোর্টটির পূর্ণাঙ্গ কপি আমার কাছে আসেনি। পত্রিকায় যে খবর পেয়েছি তা থেকে এটা অনুমিত হয় যে, তাদের রিপোর্ট খুব আশাব্যঞ্জক নয়। সারা দেশের দলীয় কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা বিরাজ করছে। দলের এক স্তরের সঙ্গে অন্য স্তরের অর্থাৎ নিচের স্তর থেকে উপর স্তরে অথবা সমান্তরাল স্তরের কমিটি ও নেতৃত্বের মধ্যকার দ্বন্দ্ব-সংঘাত ইত্যাদি নিয়ে রিপোর্টে বক্তব্য রয়েছে। রিপোর্টে তারা বলেছেন, প্রায় চার বছর ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, তিন-চতুর্থাংশ সংসদ সদস্য তাদের। এই সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের নিয়ে সাংগঠনিক সম্পাদকরা তাদের রিপোর্টে যা লিখেছেন বলা যেতে পারে তা প্রায় সর্বাংশে নেতিবাচক। তারা বলেছেন, সংসদ সদস্যরা দলের নেতা-কর্মীদের খবর রাখেন না। তারা নিজেদের এলাকায় তেমন একটা যান না, বরং নিজেদের সুযোগ-সুবিধা ও আখের গোছানোর কাজেই ব্যস্ত থাকেন। কিছু মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সম্পর্কেও তারা বলেছেন যে, এই মন্ত্রী-এমপিদের ব্যাপারে এখনই যদি দলের সভানেত্রী সতর্ক না হন, বিশেষ ব্যবস্থা না নেন, তাহলে সরকারের ক্ষতি হতে পারে। সাংগঠনিক সম্পাদকদের রিপোর্টের মধ্যে বেশকিছু এমপির নাম উঠে এসেছে, যারা বিভিন্ন সময় সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন বা হচ্ছেন, যাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে এ দলটি।
 
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় কমিটির ২৩ জন সদস্য বক্তব্য রেখেছেন। বক্তারা প্রায় সবাই তৃণমূলে সংগঠনের দুর্বলতা সভায় তুলে ধরেছেন। এমপিদের ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন, তারা তৃণমূলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেন না। প্রায় অর্ধশতাধিক এমপির বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি তারা কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা বলেছেন, কিছু এমপি-মন্ত্রীর কারণে পুরো সরকার বা দলের বদনাম হচ্ছে। কোনো মন্ত্রী বা এমপির দুর্নীতি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায়ভার দলের ওপর পড়ছে। তারা আহ্বান জানিয়েছেন, কোনো মন্ত্রীর অপকর্মের দায়ভার দলের বা সরকারের নেওয়া উচিত নয়। কথাটি খুবই প্রণিধানযোগ্য। তবে তার আগে জাতীয় কমিটি সম্পর্কে একটি কথা বলা দরকার। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় কমিটি হচ্ছে সর্বোচ্চ পরিষদ। দলের নীতি-নির্ধারণে চূড়ান্ত ক্ষমতার মালিক। কিন্তু সাধারণত এ রকম হয় যে, বছরে একবার এ কমিটির সভা বসে কি বসে না। জাতীয় কমিটি গঠন করার কোনো আলাদা প্রক্রিয়া নেই। এমন হয় সারা দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে যেসব সিনিয়র নেতা আছেন, যারা এখন আর সক্ষম-কর্মক্ষম নন, তাদের এখানে স্থান দেওয়া হয়। সম্মানসূচক বলা যেতে পারে অথবা আর কোথাও রাখার অবস্থান নেই সেজন্য এখানে রাখা। সাধারণত এসব সদস্য নির্বাচিত হন না। আমি যখন সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম তখন দেখেছি জেলা সম্মেলনে যেসব সিনিয়র নেতা বাদ পড়েন, যারা কোনো কাঠামোতে আসতে পারেন না তাদের দু-একজনকে সরাসরি জাতীয় কমিটিতে নেওয়া হতো। এবার হঠাৎ করে জাতীয় কমিটির গুরুত্ব যে একটু বেড়েছে সেটার কারণ আওয়ামী লীগের সিনিয়র তিন নেতা আবদুল জলিল এমপি, আমির হোসেন আমু এমপি এবং তোফায়েল আহমেদ এমপির এই জাতীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি। পাঠকবৃন্দ এভাবে কেউ ভাবতে পারেন আমার লেখার শুরু প্রধানত এ তিনজনকে দিয়েও করা যেতে পারে। কারণ এই তিনজন জাতীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর পর কোনো কোনো পত্রিকা এটিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। লেখালেখি হয়েছে এবং তারা বলেছে যে, এই তিন সিনিয়র নেতাকে জাতীয় কমিটিতে স্থান দেওয়ার মধ্য দিয়ে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার একটি সমঝোতার ভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। কেউ লিখেছেন_ সভানেত্রী উদার হয়েছেন। ধীরে ধীরে দলের পরিধি পুরনো বা পরিত্যক্তদের মধ্যে ব্যাপ্ত করার চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন সূত্র থেকে বলা হচ্ছে, চার বছর পর সবকিছু দেখে প্রধানমন্ত্রী অনেকটা বিব্রত-বিরক্ত। তিনি তার ঘনিষ্ঠজনদের কাছে বলেছেন, পুরনো অনেক পরীক্ষিত নেতাকে বাদ দিয়ে আমি নতুনদের নিয়েছিলাম। দল এবং সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিলাম কিন্তু তারা দল এবং সরকারে তাদের দায়িত্ব পালনের বদলে নিজেদের প্রতি বেশি যত্নবান থেকেছেন। নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজ করেছেন। তিনি মনে করছেন, এদের দিয়ে হবে না। অতএব পুরনো টিমকে আবার আনতে হবে। আর সেই হিসেবেই তিনি এই তিন প্রবীণ নেতাকে জাতীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আমি জানি না, এই বক্তব্য কতখানি সত্য। আমাদের সংবাদপত্রে যারা লেখালেখি করেন_ তারা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তার মর্মমূলে যে দ্বন্দ্ব ক্রিয়া করে সেগুলো সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন এবং তার ভিত্তিতে লেখেন আমার তা মনে হয় না।
 
আমি শুরুতেই মন্তব্য করছি, এই তিন সিনিয়র নেতার জাতীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি আওয়ামী লীগের জন্য বিরাট কোনো দিক চিহ্নের কথা বলে না। এটা ঠিক, যাদের সংস্কারবাদী বলে পরিত্যাগ করা হয়েছিল তাদের আবার ডেকে নিয়েছেন শেখ হাসিনা। যে সংস্কার শব্দ এক সময় আওয়ামী লীগের ডিকশনারিতে গালি হিসেবে পরিণত হয়েছিল সেটি এখন আর গালি নেই। বরং সেটিকে এখন নন্দিত শব্দ বললে ভুল হবে না। প্রধানত চারজন সংস্কারবাদীর একজন তো পরলোকগমন করেছেন। একজন মন্ত্রী হয়েছেন, আরেকজনকে মন্ত্রীর পদ অফার করা হয়েছিল, তিনি অবশ্য সেটি গ্রহণ করেননি। আরেকজন এমপি হয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় অনুষ্ঠানে স্বাভাবিকভাবে বা নিজের চেষ্টায় তিনি সভানেত্রীর আশপাশে থাকছেন।
 
তোফায়েল আহমেদকে মন্ত্রিত্ব অফার করা এবং তার এটা বর্জন করাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করছি আমি। কেবল তোফায়েল আহমেদ একা নন, জোটের অন্যতম নেতা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকেও মন্ত্রীর জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনিও সেই পদ গ্রহণ করেননি। এ দুজন মন্ত্রিত্ব গ্রহণ না করার কারণ হিসেবে ভিন্ন কথা বলেছেন; কিন্তু মজার বিষয় হলো, তাদের মন্ত্রিত্ব গ্রহণ না করার বিষয়টি ব্যাপকভাবে দলের অভ্যন্তরে ও বাইরে সমাদৃত হয়েছে। এ দুজন প্রবীণ অভিজ্ঞ নেতা এবং সবার ওপরে, বলতে হবে রাজনৈতিক নেতা। তারা রাজনীতি করেই বড় হয়েছেন। হঠাৎ কোথাও থেকে এনে তাদের বসিয়ে দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ তারা উপস্থাপিত বা প্রতিস্থাপিত নেতা নন। এ কারণেই তারা আচরণ-উচ্চারণে রাজনীতিক হয়েছেন। রাজনীতিকে সম্মান দেখিয়ে, রাজনৈতিকভাবে দলের প্রতি সম্মান রেখে এমনকি দলের নেতৃত্ব যাতে আহত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে তারা তাদের বক্তব্য রেখেছেন। যদিও এই বক্তব্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। মূলত তাদের যে অ্যাকশন বা ক্রিয়া তাতে মন্ত্রিত্ব গ্রহণ না করায় আলোচিত এবং নন্দিত হয়েছেন।
 
আমি জানি, শতকরা নব্বই ভাগের বেশি পাঠক আমার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হবেন। কিছু কিছু আছেন যাদের পক্ষে না গেলে একমত হতে পারেন না, নিজের চিন্তার সঙ্গে না মিললে অন্যের মতকে গ্রহণ করার চেষ্টাই করেন না বা না মিললে অন্যের মত গ্রহণ করার কথা ভাবতেই পারেন না, তারা হয়তো আমার সঙ্গে দ্বিমত করবেন। কিন্তু আমি যেটা বলছি বাস্তবতার নিরিখে সেটাকে সবাই সত্য বলে মানবেন। তোফায়েল আহমেদ মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেননি কিন্তু তার পরপরই কাপাসিয়ায় যে উপনির্বাচন হয়েছে ওই উপনির্বাচনের দায়িত্ব পেয়েছেন বা গ্রহণ করেছেন এবং তিনি যতখানি পারেন সে অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করেছেন। কাপাসিয়ার নির্বাচনের মাধ্যমে তোফায়েল আহমেদ আরেকবার নন্দিত হয়েছেন আমি সেই কথা বলব না। কারণ কাপাসিয়া নির্বাচনে বিরোধী দল অংশ নেয়নি এবং বর্জনের জন্য জনগণের কাছে আহ্বান করেছিল। কোনো সন্দেহ নেই এ কারণে প্রচুর কম ভোট পড়েছে। যদিও সরকারিভাবে দেখানো হয়েছে ৪৭ ভাগ, কিন্তু সংবাদকর্মীরা বলছেন, এই ভোটের পরিমাণ ছিল শতকরা ২৭ ভাগের মতো।
 
সেদিক থেকে এই নির্বাচন তোফায়েল আহমেদের মাথায় নতুন কোনো পালক সংযোজন করতে পারেনি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বিজয়ী প্রার্থী সিমিন হোসেন রিমি যে তার মুকুটে অলঙ্কার যুক্ত করতে পেরেছেন তাও নয়। তবে সামগ্রিক নির্বাচনে দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি এবং যোগ্যতার প্রমাণ মিলেছে। আমি অন্তত পত্র-পত্রিকায় কোনো লেখা দেখিনি, কোনো কর্মী বা সমর্থক কিংবা সাধারণ মানুষের মুখে এই নির্বাচনের কারণে তোফায়েল আহমেদের বিশেষ প্রশংসা বাক্য শুনিনি। তারপরও এটা ভাবার বিষয় তোফায়েল আহমেদ মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করে কাপাসিয়া উপনির্বাচনের দায়িত্ব নিয়ে সেটা যথাসাধ্য করলেন কী বিবেচনায়? আমি কোনো নেতিবাচক কথা বলছি না। তোফায়েল আহমেদ যেহেতু দল করছেন এবং প্রায় সময়ই বলেন, আমি আওয়ামী লীগের তোফায়েল হিসেবেই পরিচিত হতে চাই, আওয়ামী লীগের তোফায়েল হিসেবেই মারা যেতে চাই। অতএব আওয়ামী লীগের উপনির্বাচন তা যত প্রশ্নবিদ্ধই হোক না কেন, তা হয়তো তিনি করবেন। তোফায়েল আহমেদকে হঠাৎ করেই বিরাট সংস্কারক বা তিনি দলের ব্যাপারে বিদ্রোহী হয়েছেন সেটা ভাবার কোনো কারণ নেই। শুধু তোফায়েল আহমেদের কথাইবা বলব কেন, আমির হোসেন আমু এবং আবদুল জলিল শুধু আওয়ামী লীগের নয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্তম্ভের মতো। স্বাধীনতা সংগ্রামে তারা একেকটা পিলারের মতো ছিলেন। তারা লাঞ্ছনা-গঞ্জনা, অপমান সয়েছেন কিন্তু তারপরেও দলের সঙ্গে রয়েছেন, সে জন্যই জাতীয় কমিটির সভাতেও তাদের দেখা গেছে। সভানেত্রী তাদের সম্মানের সঙ্গে মঞ্চেও বসিয়েছেন। এই দেখে আওয়ামীপ্রেমী যেসব কর্মী-সমর্থক সাংবাদিকতা করেন তারা যে ইতিবাচক দিক দেখবেন সেটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু আমি বলতে চাই, রাজনীতি বড় নিষ্ঠুর জিনিস। রাজনীতি অন্ধ আবেগ দিয়ে চলে না। যিনি রাজনীতি করেন তিনি আবেগ দিয়ে তাড়িত হন, আবেগের ভিত্তিতে অনেক বড় বড় কাজও করেন, কিন্তু আবেগ দিয়ে রাজনীতির সফলতা-ব্যর্থতা নিরূপিত হয় না। আজকে যে তিনজনকে জাতীয় পরিষদে নেওয়া হয়েছে তাদের যদি মন্ত্রীও বানিয়ে দেওয়া হয় (কোনো কোনো পত্রিকা এরকম সংবাদ করেছে যে, খুব বেশি দূরে নয় যখন আমির হোসেন আমু ও আবদুল জলিল মন্ত্রী হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পাবেন)। তাহলে তারা কি তা গ্রহণ করবেন? এই প্রশ্ন তোলা অবান্তর। আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে তাহলে আমি বলব, এই দুজন মন্ত্রী হবেন। আর আমি যেমন ভাবি সেরকম যে তারা বুঝবেন তেমন তো কোনো কথা নেই। তোফায়েল আহমেদ প্রথম যখন মন্ত্রিত্বের আহ্বান পেয়েছিলেন তখন যেমন ভাবতেন তার থেকে এক মাস বা দুই মাস পরে তেমনই ভাববেন তা নাও হতে পারে। কেউ কেউ আমাকে বলেছেন, দুজন মন্ত্রী হবেন আপনাকে কে বলল? তারা তিনজনই মন্ত্রী হবেন, যদি তাদের তিনজনকে আমন্ত্রণ করা হয়।
 
কিন্তু রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতি প্রশ্ন করবে, এই তিনজন মন্ত্রী হলে অবস্থার কি পরিবর্তন হবে? দলের অভ্যন্তরের কথা আমি লেখার শুরুতে বলেছি। সরকারের কথা যদি আমি বলি তাহলে এককথায় বলব, শেয়ার কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে হলমার্ক পারফরম্যান্সে সরকারের জনপ্রিয়তায় বিশাল ধস নেমেছে। পদ্মা সেতু নির্মাণে এ সরকার সক্ষম হবে সেরকম কোনো বিষয় দেখা যাচ্ছে না। এই তিনজন মন্ত্রী হলেই কি অবস্থা বদলে যাবে? জনপ্রিয়তায় যে ধস নেমেছে তা সামলাতে এবং চাঙ্গা করতে পারবেন তার কি কোনো গ্যারান্টি আছে? যেসব মন্ত্রী-এমপির নামে অভিযোগ উঠেছে, সমালোচনার ঝড় বইছে তাদের দমন করতে পারবেন কিংবা থামাতে পারবেন? অথবা এভাবে প্রথম প্রশ্ন করি, যদি এই তিনজনই মন্ত্রী হন তাহলে পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশেষ কোনো অগ্রগতি হবে? তারা তিনজন যদি একসঙ্গে মন্ত্রী হন তাহলে হলমার্কের সমস্যার সমাধান করতে পারবেন? যে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্দসাৎ করা হয়েছে তা ফিরিয়ে আনতে পারবেন? আমাদের ব্যাংকিং সেক্টরে যে ধস নেমেছে তা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন? শেয়ারে বিনিয়োগ করে লাখ লাখ মানুষ নিঃস্ব হয়েছে। আত্দহত্যা করেছে কেউ কেউ। সেই পরিস্থিতি সামাল দিয়ে এটাকে আবার আগের জায়গায় আনতে পারবেন?
 
এসব কথা বিবেচনা করেই কি তোফায়েল আহমেদ এবং রাশেদ খান মেনন মন্ত্রী হননি? আর সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যখন মন্ত্রী হয়েছিলেন তখন তিনি বলেছিলেন, এই পড়ন্ত বেলায় মন্ত্রী হয়ে কী করা যাবে। যদিও তিনি নিজের জন্য করেছেন, অন্তত অভিযুক্ত হয়েছেন সেটা তো আমরা দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু রেলের বা যোগাযোগের কোনো উন্নতি তিনি করতে পারেননি। এখন এই তিনজনকে ডেকে যদি সেরকম কোনো মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয় তাহলেই দল এবং সরকারের উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন সাধন করে ফেলবেন_ এমন কথা ভাবার কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না। স্বীকার করে নেওয়া ভালো, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার এক বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন। আমার এই লাইন পড়ে আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ ভক্তরা হয়তো না না করে উঠবেন, প্রতিবাদ করতে চাইবেন, কিন্তু আমি জানি সেই প্রতিবাদ খুব সরব হবে না। কারণ আমি আবারও বলছি, রামুতে যে বর্বর নারকীয় ঘটনা ঘটেছে এই তিনজনকে মন্ত্রী বানিয়ে যদি একত্রে দায়িত্ব দেওয়া হয় যে, যাও সেখানে গিয়ে সমস্যার সমাধান কর, সেটা তারা করতে পারবেন না। যতক্ষণ পর্যন্ত দল কেন্দ্রীয়ভাবে একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের জায়গায় আসতে না পারে।
 
আওয়ামী লীগের আজকের সমস্যা, বাংলাদেশ সরকারে যারা আছেন তাদের সমস্যা, সরকারের সমস্যা কেবল সিনিয়রদের নেওয়া হলো কি হলো না সেটা নয়। এখানে কমিউনিস্টদের বেশি প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে কি হচ্ছে না সেটা নয়। এই সমস্যার মূলে আছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং তার পরিচালনা। সরকারে যারা আছেন তাদের আন্তরিকতা, অঙ্গীকার এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ব্যর্থতা। যোগ্যতার প্রশ্ন তো আছেই। যোগ্যতাও মানুষ অভিজ্ঞতার আলোকে কর্মের মধ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করে। সেই প্রচেষ্টাও নেই। কাজ করতে হবে আওয়ামী লীগকে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখন অনেক দায়িত্ব। তিনি যদি কেবল মনে করেন পুরনো মানুষগুলোকে এসব জায়গায় ঢুকিয়ে নিলেই বড় ধরনের ওলট-পালট বা উল্লম্ফন হয়ে যাবে তাহলে তিনি ভুল ভাবছেন। তাকে দলের খোল-নলচে নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। ভাবতে হবে তার নিজেকে এবং নিজের সঙ্গী-সাথীদের নিয়েও। না হলে কি হবে তা বোঝাই তো যাচ্ছে। এমনিতেই একটি বড় সংকটের সামনে আমরা আছি আগামী নির্বাচন নিয়ে। কীভাবে নির্বাচন হবে? সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা? এগুলো সবই রাজনৈতিক প্রশ্ন, তার রাজনৈতিক সমাধান হতে হবে। এগুলো সমাধানে সদিচ্ছা, আন্তরিকতা এবং দেশপ্রেম থাকতে হবে। জেদ করে, গায়ের জোরে, ক্ষমতার দাপটে কিছু করা যায় না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা কি এসব বিষয় নিয়ে ভাববেন?
 
লেখক : রাজনীতিক।
মাহমুদুর রহমান মান্না এর অন্যান্য লেখা
  
  
  
  
  
  
  
  
  
  
  
  
  
  
  
  
  
  
  
  
  
  
  
  
  
  
  
Contact: 71 Highview Ave, Toronto, ON, M1N 2H4, Canada, Tel: 416 699 9833, email: info@deshebideshe.com