নিউইয়র্ক, ১৮ অক্টোবর- প্রকাশনার দীর্ঘ ৮০ বছর পর সাপ্তাহিক সাময়িকী ‘নিউজউইক’-এর ছাপা সংস্করণ আর বের হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার সাময়িকীটির কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর নিউজউইকের সর্বশেষ কাগজের সংস্করণ বের হবে। এরপর থেকে পত্রিকাটি সম্পূর্ণ অনলাইন সংস্করণ বের করবে।
নিউজউইকের এডিটর-ইন-চিফ টিনা ব্রাউন ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, পাঠকদের ক্রমবর্ধমান ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহার এবং প্রিন্ট (ছাপা) সংস্করণে বিজ্ঞাপনের অপ্রতুলতা কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমরা যারা প্রিন্টের রোমাঞ্চ ভালোবাসি, তাদের জন্য এটা অত্যন্ত কঠিন সময়।”
“তবে আমরা আগামী বছর ৮০ বছর বর্ষপূর্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের অবশ্যই সাংবাদিকতা টিকিয়ে রাখতে হবে, এটা সাময়িকীটির উদ্দেশ্য। আর আমরা সব-ডিজিটাল ভবিষ্যৎ বরণ করতে যাচ্ছি।”
বেশ কয়েক দশক ধরে ওয়াশিংটন পোস্টের মালিকানাধীন ছিল নিউজউইক। তবে ২০১০ সালে অডিওশিল্পের অগ্রদূত সিডনি হারম্যানে কাছে বিক্রি করে দেয় ওয়াশিংটন পোস্ট কর্তৃপক্ষ। ২০১১ সালে দ্য ডেইলি বিস্টের সঙ্গে অঙ্গীভূত হয় নিউজউইক। যৌথ ব্যবসায় যাওয়ার পর এর অর্ধেক মালিকানা যায় ইন্টারঅ্যাকটিভকর্পের (আইএসি) কাছে।
আইএসি জানিয়েছে, তাদের সংবাদ ইউনিট থেকে পরিচালনা ক্ষতি হচ্ছে ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে নিউজউইক থেকে বড় ক্ষতি হচ্ছে। চলতি বছর ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।
আইএসির প্রধান নির্বাহী ব্যারি ডিলার গত জুলাইয়ে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছিলেন, “সমস্যা কোথায়? একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা উৎপাদনেই সমস্যা। এর সমাধান করতে হবে।”
গত ১২ মাসে গড়ে নিউজউইকের ছাপা সংস্করণ বিক্রি (পেইড সার্কুলেশন) হয়েছে ১২ লাখ। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক (মূল্য পরিশোধিত) কপি বিক্রি হয় মাত্র ২৬ হাজার ৩৯৪টি। তবে ২০০৬ সালেই নিউজউইকের পরিশোধিত (পেইড) ছাপা কপি বিক্রি হতো ৩১ লাখ। সাময়িকীটির প্রতিদ্বন্দ্বী টাইম ম্যাগজিনের পরিশোধিত সার্কলেশন হচ্ছে ৩৩ লাখ। টাইম ও সিএনএনমানির মালিক টাইম ওয়ার্নার।
নিউজউইকের এডিটর টিনা ব্রাউন জানিয়েছেন, পাঠকের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে ডিজিটাল ভার্সনের ওপরই নির্ভর করতে হবে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ৩৯ শতাংশ আমেরিকান অনলাইন সোর্স থেকে সংবাদ সংগ্রহ করেন। আর চলতি বছর শেষ নাগাদ ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে সাত কোটিতে।
পাবলিশার্স ইনফরমেশন ব্যুরোর তথ্য মতে, সম্প্রতি কয়েক বছরে নিউজউইকের বিজ্ঞাপনে ব্যাপক ধস নেমেছে।
এদিকে, ছাপা সংস্করণ বন্ধ করার ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরি ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।