কলকাতা, ১৫ অক্টোবর- মিস কল দেখলে অনেকেই ভ্রু কুঁচকে উঠেন। কেউবা বিরক্ত হয়ে মোবাইল ফোনটির সুইচ অফ করে দেন। কিন্তু এরকম একটি মিস কলই ফিরিয়ে দিলো হারানো মেয়েকে। মা খুঁজে পেলেন তার সন্তানকে, যে গত দু'বছর নিখোঁজ ছিল।
মিস কলের সুবাদে গতকাল মেয়েটিকে মুম্বাইয়ে কুরলা এলাকার জরিমরি বস্তি থেকে উদ্ধার করে ভারতের গোয়েন্দারা। পরে জানতে পারে তাকে সেখানে জোর করে আটকে রাখা হয়েছিল। চলেছে নানা শারীরিক নিগ্রহ।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১০ সালের আগস্টে। রাকেশ নামে এক যুবকের সঙ্গে ঘর বাঁধার আশায় বাড়ি থেকে পালিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের সোনারপুরের এই মেয়েটি। মুম্বাই নিয়ে যাবে বলে শিয়ালদাহ স্টেশন থেকে তাকে ট্রেনে তোলে রাকেশ। মাঝপথে মেয়েটি তার ভুল বুঝতে পারে। এ ছাড়া ট্রেনে ওঠার পর রাকেশের মতিগতি খুব একটা ভালো ঠেকে না তার কাছে। বুঝতে পারে সে নারী পাচারকারীর খপ্পরে পড়েছে। অবশেষে পানি আনতে যাওয়ার কথা বলে মুম্বাই স্টেশনে থামা মাত্রই ট্রেন থেকে পালায় মেয়েটি। রাকেশকে ফাঁকি দিয়ে স্টেশনের ওয়েটিং রুমে আশ্রয় নেয় সে। সেখানে তার সঙ্গে পরিচয় হয় এক মহিলার। বাড়িতে পরিচারিকার কাজ দেওয়ার নামে এই মহিলা তাকে কুরলায় নিয়ে যায়। তারপর তাকে মনীশ নাইয়া নামে এক যুবকের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। গোয়েন্দারা জানান, সেখানে প্রায় দেড় বছর ধরে ওই কিশোরীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
সিআইডির এক তদন্তকারী অফিসার জানান, গত শনিবার কিশোরীর মায়ের মোবাইলে একটি মিসড কল আসে? প্রথম পাত্তা না দিলেও ঘণ্টা খানেক পর সেই নম্বরে ফোন করেন মেয়েটির মা। ফোনে তিনি তার হারানো মেয়ের গলা শুনে চিনতে পারেন। কিন্তু দুই একটা কথা বলার পরই লাইনটি কেটে যায়। আত্দীয়স্বজনের সহযোগিতায় কল সেন্টারের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন ফোনটি এসেছিল মুম্বাই থেকে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সহযোগিতা চান তিনি। পুরো ঘটনা খুলে বলেন, এরপর মিসিং পারশনস স্কোয়াডের একটি দল মুম্বাই রওনা হয়।
কিন্তু পুলিশ যখন সেই নম্বরে ফোন করে, দেখা যায়, সেটি বন্ধ? মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের সহযোগিতায় গোয়েন্দারা কুরলার ঠিকানা জোগাড় করেন। তিন ঘণ্টা অভিযানের পর সেখানে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বাড়ি থেকে মেয়েটি উদ্ধার হয়। পরে যানা যায়, শনিবার মনীশ নাইয়া নামে যুবকটিকে ফাঁকি দিয়ে ঘরে রাখা একটি মোবাইল ফোন থেকে কল করেছিল তার মাকে। কিন্তু মনীশের উপস্থিতি টের পেয়ে লাইনটি কেটে দেয় মেয়েটি। ততক্ষণে মায়ের কাছে কলটি পেঁৗছায় মিস কল হয়ে। আর এই মিস কলের কল্যাণে ফের মিলল মা ও মেয়ে। জানা গেছে, মেয়েটির বাবা একজন ভ্যানচালক। তিনি ২০১০ সালেই মেয়ের নিখোঁজের সংবাদটি সোনারপুর থানায় লিপিবদ্ধ করেন। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। গত বছর নিখোঁজের পরিবার কলকাতা হাইকোর্টে রিট করে। হাইকোর্ট সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। মেয়েটিকে আদালতে তোলা হবে। দাবি জানানো হবে, মনীশের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার।