মেসি!’ ‘মেসি!’ ‘আ-র-হে-ন-তি-না!’ ‘আ-র-হে-ন-তি-না!’
আর্জেন্টিনার মেনদোজার মালভিনাস স্টেডিয়ামে জনসমুদ্রে যে গর্জন উঠল, তা যেন সীমান্তের কাঁটাতার ছিঁড়ে পৌঁছে গেল প্রতিবেশী উরুগুয়েতে। সেটি উরুগুইয়ানদের কাছে ‘প্রতিশোধের বার্তা’ দিতে যেন। এই আর্জেন্টিনাকেই কাঁদিয়ে গত কোপা আমেরিকার শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছিল উরুগুয়ে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ৩-০ গোলে সেই উরুগুয়েকে বিধ্বস্ত করে নির্মম শোধ তুলল লিওনেল মেসির দল।
আর্জেন্টিনার এ দলটি যেন আক্ষরিক অর্থেই ‘মেসির দল’ হয়ে উঠছে। যোগ্য সেনাপতির মতো সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেসি। বার্সেলোনার মেসি আর্জেন্টিনার মেসি হয়ে উঠতে পারেন না—এই তত্ত্ব এখন সেকেলে। আকাশি-সাদা জার্সি গায়ে গত সাত ম্যাচে মেসির ১১ গোল। এর মধ্যে আছে দুটি হ্যাটট্রিক।
হ্যাটট্রিক সংখ্যা তিন হয়ে যেত কালই। ম্যাচের শেষ প্রান্তে তাঁর দুর্দান্ত ফ্রি-কিকটি যদি দেয়ালের এক খেলোয়াড়ের মাথায় লেগে দিক না পাল্টাত। তার পরও তাঁর নামের পাশে দুটি গোল। অন্য গোলটি সার্জিও আগুয়েরোর। গোল না করলেও দুটি গোল করিয়ে অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়াও পাদপ্রদীপের আলোয়।
নিজেদের মাঠে দাপুটে শুরু করলেও গোলমুখ কিছুতেই খুলতে পারছি না আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ছিল রক্ষণাত্মক। এডিনসন কাভানির মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরাও খেলছিলেন নিচে নেমে। কিন্তু আর্জেন্টিনার একের পর এক সাজানো আক্রমণ রক্ষণদুর্গের দেয়ালে ফাটল ধরায়। উরুগুইয়ান অধিনায়ক ডিয়েগো লুগানো চোট নিয়ে মাঠ ছেড়ে যেতেই উরুগুয়ের রক্ষণও যেন দিশা হারায়।
সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডি মারিয়ার সঙ্গে দারুণ সমঝোতায় ৬৬ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন মেসি। ৭৫ মিনিটে ২-০ বানিয়ে দেন আগুয়েরো। এর পরই ৮০ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক ফ্রি-কিক থেকে মেসির দ্বিতীয় আর দলের তৃতীয় গোল। বক্সের ডান দিকের কোল ঘেঁষে সামান্য বাইরে থেকে শট নিয়েছিলেন মেসি। দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো উরুগুয়ের খেলোয়াড়েরা সবাই একসঙ্গে লাফিয়ে উঠেছিলেন মাথার ওপর দিয়ে যাওয়া বলকে প্রতিহত করবেন বলে। কিন্তু কে জানত, মেসি শট নেবেন মাটি ঘেঁষে! লাফিয়ে ওঠা দেয়ালের তল দিয়েই বল চলে যায় জালে!
এই জয়ে ৮ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্জেন্টিনা। ইদানীং মেসি-রোনালদোর আলো চুরি করতে থাকা রাদামেল ফ্যালকাওয়ের জোড়া গোলে প্যারাগুয়েকে ২-০ গোলে হারিয়ে কলম্বিয়া মেসির দলের ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে। তাদের পয়েন্ট ১৬। চিলিকে ৩-১ গোলে হারানো ইকুয়েডরও বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নে বিভোর। তাদের পয়েন্ট যে কলম্বিয়ার সমান। ১২ পয়েন্ট নিয়ে চারে উরুগুয়ে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের শীর্ষ চারটি দল সরাসরি খেলবে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে। অবশ্য বাছাইপর্ব কেবলই মাঝপথে। আরও আটটি ম্যাচ বাকি।
তবে বাছাইপর্বে ৮ ম্যাচে ৬ গোল করা মেসির সঙ্গে জাতীয় দলের এমন মধুচন্দ্রিমা চলতে থাকলে অনায়াসে বৈতরণী পার হয়ে যাবে আর্জেন্টিনা। মেসিতে মুগ্ধ আগুয়েরো যেন কথা খুঁজে পাচ্ছিলেন না, ‘ওর সম্পর্কে আর কী বলব! ও সত্যিই অবিশ্বাস্য।’