চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলামের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ এর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যে সোয়া ৬টায় টোকিওর আকাবানে বিভিও হলে। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিলো বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ফোরাম- জাপান।
প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে সেদিন অনেক দর্শক ছবিটি দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা ছাড়াও কয়েকজন জাপানিসহ প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও সাধারণ প্রবাসীদের স্বতঃস্ফুর্ত আগমনে সেদিন আনন্দঘন এক উৎফুল্ল পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন জাপানে নবনিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।
প্রদর্শনীর আগে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং চলচ্চিত্রটির পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের সূচনা পর্বটি উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ফোরাম-জাপানের সভাপতি সজল বড়ুয়া।
চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম ছবির কাহিনীর পটভূমি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘এটি একদল কিশোরের দেশের স্বাধীনতাসহ আত্মরক্ষার লড়াই। মুক্তিযুদ্ধের ৪০ বছর পূর্তিতে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ছবিটি বাংলাদেশে সর্বপ্রথম প্রদর্শিত হয়। ছবিটি তৈরি করার মূল উদ্দেশ্য ছিলো, আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করা।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘গল্পটি আমার পছন্দের অন্যতম কারণ হলো, ছবির কিশোররা ক্লাস সেভেনের ছাত্র। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমিও একই বয়সী ছিলাম।’’
তিনি বৈরি আবহাওয়ায় ব্যস্ততার মাঝেও তার ছবিটি দেখতে আসার জন্যে উপস্থিত দর্শকদের পরম কৃতজ্ঞতা জানান।
একই সঙ্গে ছবিটির প্রদর্শনী ও তাকে টোকিওতে আমন্ত্রণ জানানোর জন্যে বাংলাদেশ সাংবাদিক-লেখক ফোরাম, জাপানকে বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরো বলেন, ‘‘সাংবাদিক-লেখক ফোরাম প্রতি বছর টোকিওতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে থাকে, যা অন্যান্য দেশে খুব একটা হয় না। এটা আমাদের সত্যিই অনুপ্রেরণা দেয়।’’
রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন তার বক্তব্যে এমন একটি প্রয়োজনীয় চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য মোরশেদুল ইসলামকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে এ ধরনের ছবির গুরুত্বের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
মোমেন আরো বলেন, আগামীতে বাংলাদেশ থেকে আসা সম্মানিত অতিথিদের দূতাবাসে অবশ্যই স্বাগত জানানো হবে।
তিনি বাংলাদেশ সাংবাদিক-লেখক ফোরামের এমন ধরনের উল্লেখযোগ্য কাজের প্রশংসা করে, ফোরামকে ধন্যবাদ জানিয়ে, ভবিষ্যতে প্রয়োজনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ছবিটি প্রদর্শনের পর দ্বিতীয় পর্বটি সাজানো হয় দর্শকদের প্রশ্নোত্তরের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানের এ অংশটি পরিচালনা করেন সাংবাদিক কাজী ইনসানুল হক।
ছবিটির ওপর প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন, ছালেহ মোঃ আরিফ, নূর এ আলম নূর আলী, কামরুল আহসান জুয়েল, মীর রেজাউল করিম রেজা, সোমা জাবিন, শরাফুল ইসলাম, রাহমান মনি, কাজী আসগর আহমেদ সানি, নাজিম উদ্দিন, নারমিন হক, এম এ এম শাহিন ও দিলমাত আরা।
অনুষ্ঠানটির পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন পদ্মা ফুডস লি. জাপানের কর্ণধার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাদল চাকলাদার।
উল্লেখ্য, ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ ছবিটি নিয়ে ফুকুওকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে মোরশেদুল ইসলাম গত ১৪ সেপ্টেম্বর জাপান আসেন। ২১ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ফোরাম- জাপানের আমন্ত্রণে টোকিও আসেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।