ঢাকা, ৯ অক্টোবর: পাক্ষিক ম্যাগাজিন ‘অন্যদিন’-এর হুমায়ূন আহমেদ স্মরণসংখ্যা পাঠক মনে দারুণ নাড়া দিয়েছে। লেখকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও অন্যপ্রকাশের কর্ণধার মাজহারুল ইসলামের সম্পাদনায় সংখ্যাটিতে বহু গুণীজনের অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ লেখা স্থান পেয়েছে। তাদের লেখায় হুমায়ূন আহমেদের জীবন, বাংলা সাহিত্য তার স্থান, লেখনি ও স্টাইল, গল্প বলা ও তার কথক সৃষ্টির অনন্যসাধারণ উপায় ইত্যাদি বিষয় তো এসেছেই, আরো উঠে এসেছে লেখক হুমায়ূনের একান্ত ভুবন নিয়ে নানা অজানা কথা। হুমায়ূন-ভক্তদের জন্য বাড়তি পাওনা হিসেবেই থাকবে তা।
স্ত্রী শাওনের লেখার শিরোনাম “হুমায়ূন টেপরেকর্ডার”, এতে তিনি একটি গান একবার শুনে হুবুহু তা গাইতে পারার জন্য লেখকের বিস্ময়ের কথা উল্লেখ করেছেন। আর এ কারণেই তিনি ‘টেপরেকর্ডার’ উপাধি পেয়ে যান। তার স্মৃতিতে হুমায়ূনকে শোনানো জনপ্রিয় নানা গানের কথা উঠে এসেছে, যা পাঠকের হৃদয়ে অক্ষয় স্থান করে নেবে।
মোট ৪৪ জন গুণীজনের লেখা নিয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে ‘অন্যদিন’। প্রখ্যাত লেখক বুদ্ধিজীবী আনিসুজ্জামানের “তুমি রবে নীরবে” লেখাটি দিয়ে সংকলনটি শুরু হয়েছে। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তার লেখায় হুমায়ূনের সমালোচকদের বেশ একহাত নিয়েছেন বললে অত্যূক্তি হবে না।
এছাড়া সৈয়দ শামসুল হক তার “হুমায়ূন আহমেদ: তাঁর চলে যাওয়া” শীর্ষক লেখায় বাংলাদেশে নতুন পাঠক সমাজ সৃষ্টিতে হুমায়ূনের ভূমিকা, পশ্চিমবঙ্গ নির্ভরতা থেকে বের হওয়া ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সালেহ চৌধুরীর “হুমায়ূনের পাঠকেরা” প্রবন্ধটিতে আমরা দেখলাম, বাংলাদেশের সক্রেটিসখ্যাত অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক হুমায়ূন আহমেদের প্রশংসা করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ পর্যন্ত দুজন মানুষ তৈরি করেছে, যারা অবিস্মরণী হয়ে থাকবেন। এই দুজন হচ্ছেন শামসুর রাহমান ও হুমায়ূন আহমেদ।”
প্রচ্ছদে প্রখ্যাত আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনের সুনিপুণ হাতে তোলা হুমায়ূন আহমেদের আকর্ষণীয় পোর্ট্রেট ব্যবহার করা হয়েছে।
১৭তম বর্ষের ১৪ সংখ্যায় ‘অন্যদিন’-এ আরো যারা লিখে সমৃদ্ধ করেছেন: আবদুশ শাকুর, রাবেয়া খাতুন, রিজিয়া রহমান, নিয়াজ জামান, পূরবী বসু, আসাদুজ্জামান নূর, গোলাম মুরশিদ, মুহম্মদ নুরুল হুদা, শফি আহমেদ, মুস্তাফা জামান আব্বাসী, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ফরিদুর রেজা সাগর, ইমদাদুল হক মিলন, জুয়েল আইচ, হাসান হাফিজ, মাহমুদ আল জামান, হরিশঙ্কর জলদাস, আলম তালুকদার, মোহাম্মদ হাননান, সরদার আবদুস সাত্তার, নাসির আলী মামুন, মুনীর আহমেদ, এইচ এম মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক ডা: এম. এ. করিম, আহসান হাবীব, আনিসুল হক, নাসরীন জাহান, শাকুর মজিদ, রেজানুর রহমান, ধ্রুব এষ, মোকারম হোসেন, মুনিয়া মাহমুদ, শারমিনী আব্বাসী, শহিদ হোসেন খোকন, ইয়ামিন আজমান, মাজহারুল ইসলাম, সিরাজুল কবির চৌধুরী, আবদুল্লাহ নাসের ও মোমিন রহমান।
তবে এখানে কয়েকটি ব্যাপারে অভাববোধ হতে পারে হুমায়ূন-ভক্তদের। প্রথমত, ‘অন্যদিন’-এর এ সংখ্যায় বাংলা সাহিত্যের “জাদুকর” হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে পশ্চিমবাংলার বুদ্ধিজীবী-লেখকদের লেখা স্থান দেওয়া হয়নি। এটা সচেতনভাবে নাকি ভুলবশত তা জানা যায়নি।