মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত সহস্রাধিক শ্রমিকরা বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে আজ সোমবার সকাল দশটায় বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভের সময় সেদেশের পুলিশ তাদেরকে ঘেরাও করে রাখে। পাসপোর্ট সহ সব ধরনের সার্বিক সহযোগিতা না পাওয়ায় অতিষ্ট হয়ে শ্রমিকরা এ পথ বেছে নিয়েছে। বিক্ষোভকালে শ্রমিকরা প্লেকার্ড ধারণ করে কমিশন ও দালাল-এজেন্টের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকে। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত কয়েক হাজার অবৈধ শ্রমিকের বৈধ হওয়ার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে পিতা পুত্রের খপ্পরে পড়ে। বাংলাদেশেস্থ রিক্রোটিং এজেন্সি এভিয়েট ইন্টারন্যাশানাল এর মালিক আদম ব্যাপারী নূরুল আমিন এবং আখওয়ান ট্রেড ইন্টারন্যাশানাল এর মালিক নূরুল আমিনের পুত্র সিরাজুল আমিন রুমেলর প্রত্যারনার জালে আটকে এসকল শ্রমিক সর্বস্ব হারিয়ে এখন পাগল প্রায়। মালয়েশিয়া সরকার ঘোষিত ৬পি প্রোগ্রামের আওতায় বৈধ পারমিট করে দেওয়ার কথা বলে এই চক্র ৪/৫ হাজার বাংলাদেশী শ্রমিকের অন্তত ৮০ থেকে ৯০ লাখ রিঙ্গিত হাতিয়ে নেয়। বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমান ২২ কোটি থেকে ২৫ কোটি টাকা। গত ৫/৬ মাস আগে তারা এই বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নেয়। মালয়েশিয়া সরকার দফায় দফায় বৈধ হওয়ার সময় বাড়ালেও এই প্রত্যারক চক্র শ্রমিকদের বৈধ হওয়ার কোন ব্যবস্থা নেয় নাই। বরং যতবার সময় বাড়িয়েছে ততবার তারা শ্রমিকদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছে। বৈধ হওয়ার চুড়ান্ত সময় সীমা শেষ হওয়ার পর, এখন আর এ সকল শ্রমিকের বৈধ হওয়ার রাস্তা খোলা নেই এবং দেশে ফেরত যাওয়ার কোন উপায় নেই কারন এর মধ্যে সাধারন ক্ষমার আওতায় বিনা জরিমানায় দেশে ফেরত যাওয়ার সময় সীমাও শেষ হয়েছে। এখন এদের জেল জরিমানা অনিবার্য। এমতাবস্থায় সব কিছু হারিয়ে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে দিশাহারা হয়ে পড়েছে এ সকল হতভাগ্য প্রবাসী শ্রমিক।
শ্রমিকদের কাছ থেকে জানাযায়, ১লা আগষ্ট ২০১১, থেকে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ বিদেশী শ্রমিকদের বৈধ করন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ দেশের সরকার ঘোষিত ৬পি প্রোগ্রাম প্রথম ধাপ ছিল ফিংঙ্গার প্রিন্ট রেজিষ্ট্রেশন বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে দুই হাতের দশ আঙ্গুলের চাপ দিয়ে অবৈধ শ্রমিকদের কে তালিকা ভুক্ত করতে মালয়েশিয়ান কিছু আউট সোর্সিং কোম্পানী ও কর্মসংস্থান কোম্পানী কে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন থেকে বিশেষ ফিংঙ্গার প্রিন্ট মেশিন সরবারাহ করে। সু-চতুর নূরুল আমিন ও তাঁর বড় ছেলে সিরাজুল আমিন রুমেল মিলে আউট সোসিং কোম্পানী শ্রী জয়া পেকাসাস এবং ফ্রেমকো থেকে ১০টি মেশিন ভাড়া নিয়ে অবৈধ শ্রমিকদের রেজিষ্টেশন শুরু করে। সরকার নির্ধারিত ৩৫ রিঙ্গিত ফি এর স্থলে,তারা শ্রমিকদের থেকে ৩৩৫ রিঙ্গিত আদায় করে। উল্লেখ্য যে, সিরাজুল আমিন রুমেল ২০০৭ এর কলিং এর পর মালয়েশিয়াতে তিনটি কোম্পানী গড়ে তোলেন। গত বছর আগষ্টে অবৈধ শ্রমিক রেজিষ্ট্রেশন শুরুর ২/৩ মাস আগ থেকে নুরুল আমিন কয়েক দফা মালয়েশিয়ায় এসে প্রত্যারনার পরিকল্পনা করতে থাকে এবং সেই পরিকল্পনা মোতাবেক দুইটি আউট সোসিং কোম্পানীকে নিজেদের কোম্পানী দাবি করে শ্রমিকদের মাঝে বাংলা লিফলেট, পোষ্টার এবং বিভিন্ন স্থানে ব্যানার টাঙ্গিয়ে দেয়। এই কাজে তার বড় ছেলে রুমেল কে সার্বক্ষনিক সহায়তার জন্য তাঁর অপর ৪ ছেলে (১) বদরুল আমিন রাকিব (২) রাশেদ (৩) জাহেদ (৪) ফজলুল আমিন জাবেদ এবং তার দীর্ঘ দিনের কু-কর্মের সহযোগী চট্টগ্রামের জাফকে মালয়েশিয়ায় নিয়া আসে। নুরুল আমিন নিজে সার্বক্ষনিক উপস্থিত থেকে কোতারায়া কমপ্লেক্সে অবস্থিত আখওয়ান ট্রাভেলস এন্ড ট্যুর্স এ ফিঙ্গার প্রিন্ট তত্যাবধান করেন। সিরাজুল আমিন রুমেল তাঁর আখওয়ান মেনেজম্যান্ট এবং আখওয়ান রিসোর্সের ৭৪-২,জালান পুত্রি ৫/১, বান্দার পুত্রি পুচং,সেলাংগুর অফিসে ফিঙ্গার প্রিন্ট তত্যাবধান করেন। অন্যান্য দের কে জহুর বারু, পেনাং ,ইপু ও মালাক্কায় পাঠিয়ে শ্রমিকদের ফিঙ্গার প্রিন্ট করানো হয়। এই পিতা পুত্র প্রত্যারক চক্র নিজেদের কে আউট সোর্স কোম্পানীর মালিক দাবী করে এবং পরবর্তীতে আউট সোর্স কোম্পানীর অধীনে পারমিট করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শ্রমিকরে নিকট হতে অতিরিক্ত ফি আদায় করতে থাকে।
এর পর ১লা সেপ্টেম্বর ২০১১, থেকে নতুন পার্স পোর্ট বানানোর জন্য জন প্রতি ৩০০-৫০০ রিঙ্গিত আদায় করতে থাকে। যেখানে বাংলাদেশ হাইকমিশন নির্ধারিত ফি মাত্্র ১০২ রিঙ্গিত। শ্রমিকেরা পার্স পোর্ট বানানোর জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিতে আপত্তি জানালে, তারা বলে তোমরা এখন আমার লোক যদি আমার কথা মত কাজ না কর তা হলে সকলের ফিঙ্গার প্রিন্ট বাতিল করে দেব। সহজ সরল বহু শ্রমিক তাদের হুমকিতে ভয় পেয়ে তাদেও অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে দেয়। আবার বহু শ্রমিক তাদের কষ্টের টাকা প্রত্যারকদের হাতে না দিয়ে, তারা নিজ নিজ পাসপোর্ট এর জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনে আবেদন করে। কিন্তু এই প্রত্যারক চক্র বাংলাদেশ হাইকমিশনে সেই সময় কর্মরত কিছু অসাধু খন্ড কালীন কর্মচারীর সাথে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নুরুল আমিন পুত্র জাবেদ, জহেদ, এবং নুরুল আমিনের সহযোগী জাফর হাইকমিশন থেকে সেই সকল পার্স পোট নিজেদের কবজায় নিয়ে জোর পূর্বক শ্রমিকের পারমিটের টাকা দিতে বাধ্য করে। এই ভাবে ধীরে ধীরে সহজ-সরল শ্রমিকেরা এই চক্রের জালে আটকা পড়তে থাকে।
অউট সোসিং কোম্পানীর নামে পারমিট করার কথা বলে টাকা আদায় করলেও এই প্রত্যারক চক্র জানতো যে,মালয়েশিয়াতে অউট সোসিং কোম্পানীর অধীনে কোন পারমিট দেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতে নুরুল আমিনের পরামর্শে সিরাজুল আমিন রুমেল তাঁর অফিসের গাড়ীচালক মালায়ু মোস্তফা বিন হোসাইন ও গাড়ী চালকের স্ত্রীর নামে ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০১১, এই দিনে নতুন চারটা ভূয়া কোম্পানী খোলে ঐ সকল শ্রমিকদের পারমিট করার জন্য।
ভূয়া ৪টি কোম্পানী হলোঃ
1. PAYUNGMAS CLEANING SERVICE SDN.BHD
2. LADANG GEMILANG MAJU SDN.BHD
3. PERTANIAN & LANSKAP HIJAUAN SDN.BHD
4. AGENSI PERKERJAN TENAGAKERJA SDN.BHD
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন পুলিশ ও সাংবাদিকরা শ্রমিকদের বক্তব্য রেকর্ড করছেন।
প্রতারক চক্রের উদ্যেশ্য ছিল আখওয়ান মেনেজমেন্ট, আখওয়ান রিসোর্স এবং এই চারটি কোম্পানির অধীনে গোপনে পারমিট করে উচ্চ মূল্যে শ্রমিকদের কাজে পাসপোর্ট বিক্রি করে দেবে এবং যেহেতু পারমিট প্রতারক চক্রের কোম্পানীর নামে এই সুযোগ সকল শ্রমিক থেকে প্রতি মাসে কমিশন আদায় করা যাবে। রুমেল এবং অন্য সহযোগীরা পরিকল্পনা মতে দ্রুত শ্রমিকদের নিকট হতে পারমিট টাকা আদায় করতে থাকে। কারণ শ্রমিকরা যদি জেনে যায় যে নতুন অন্য কোম্পানীতে তাদের পারমিট হচ্ছে তাহলে তারা সহজে টাকা দিবেনা শ্রমিকদের কাছে প্রতারনার ঘটনা আড়াল করতে তারা আউট সোর্স কোম্পানী শ্রী জয়া পেকাসাস এর মানিরিসিট ছাপিয়ে তার মাধ্যমে টাকা আদায় করতে থাকে। যে সকল শ্রমিক টাকা দিতে দেরী করছে তাদেরকে প্রতি নিয়ত হুমকি ধামকি দেওয়া আরম্ভ করে তারা। অসংখ্য ভুক্তভোগী জানায় যে, রুমেল জাবেদ, জাফর, রকিব প্রতিনিয়ত ফোনকরে টাকার জন্য হুমকিদেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। এবং এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের দাবীকৃত টাকা পরিশোধ না করলে ফিংঙ্গার প্রিন্ট বাতিল করে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে। যেহেতু শ্রমিকদের পাসপোর্ট এবং অগ্রীম জমা দেওয়া টাকা এই চক্রের নিকট সেহেতু বাকী টাকা না দিয়ে শ্রমীকদের কোন উপায় ছিলনা। যাদের টাকা পরিশোধ হয়ে গেছে তারা ফোন করলে এই চক্র ফোন ধরেনা। হতাশ হয়ে ২০০/২৫০ মাইল দুর থেকে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা আখওয়ান মেনেজনেন্ট অফিসে বসে থেকেও কোন সদোত্তর পায়না।
শ্রমীকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলাঃ
প্রথম কৌশলের পরে জোর করে হুমকি ধামকি দিয়ে শ্রমীকদের নিকট হতে লেভি, মেডিকেল ও আনুষাঙ্গিক খরচ বাদেও এই চক্র শুধুমাত্র সার্ভিস চার্জ বাবদ ১৫০০ থেকে ২০০০ রিংঙ্গিত আদায় করার পর গোপনে শ্রমীকদের না জানিয়ে সকল শ্রমীকদের নিয়োগ কর্তার নাম পরিবর্তন করে নিজ কোম্পানীর অধীনে নতুন করে রেজিষ্ট্রেশন করে। এই খবর জানাজানী হওযার পর শ্রমিকেরা দলে দলে আখওয়ান মেনেজমেন্টে আসতে থাকে এবং টাকা, পাসপোর্ট ফেরৎ দাবী করতে থাকে অন্যথায় শ্রমিকেরা পছন্দমত গিয়োগ কর্তার নামে পরিবর্তন করে দিতে বলে। এমতাবস্থায় প্রতারক রুমেল পরিস্থিতি সামাল দিতে আরো কয়েকজন পুরাতন বাংলাদেশীকে তার অফিসে নিয়োগ দেয় এবং আগত শ্রমিকদেরকে নানা ভাবে হয়রানি করতে থাকে। অফিসে বা তাদের মোবাইলে ফোনে ফোন করলে শ্রমিকরা এখন আর কাউকে পায়না, অন্য জনে ফোন ধরে বলে স্যার মিটিংএ আছে পরে ফোন করেন, পরে ফোন করলে আর ফোন ধরে না। এমতাবস্থায় আমিন পুত্র রাসেল এবং জাহেদ বাংলাদেশে পালিয়ে যায় আর নূরুল আমিনের সহযোগী জাফর পালিয়ে যায় বার্মা। এঅবস্থা দেখে যখন শ্রমিকরা বুঝতে পারে যে তারা প্রতারনার শিকার হয়েছে ততদিনে অনেক দেরী হয়ে গেছে। কারণ শ্রমিকদের সমস্ত টাকা এখন প্রতারক চক্রের হাতে। এরপর থেকে প্রতারনার ঘটনায় ভুক্তভোগী শ্রমিকরা এই চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশে রিপোর্ট করতে থাকে। এরমধ্যে পুলিশ রিপোর্ট এর কপি আমাদের হাতে এসেছে। প্রতিদিন মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে প্রতারক রুমেল এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় শ্রমিকরা রিপোর্ট করছে। কিন্ত এখনো কোন কুল কিনারা হয়নি।
পিতা পুত্রের ব্যবসা বন্দ করার দাবি
ভূয়া এপ্রোভাল নিয়ে রুমেল ড্রাইভার এমিগ্রেশন কর্তৃক আটক এবং রুমেলের পাসপোর্ট জব্দ ঃ
সদ্য চালুকরা চারটি নতুন কোম্পানীতে এমিগ্রেশনে ঘুষদিয়ে শ্রমিকদের পারমিট করার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ান সরকারের কড়াকড়ির করনে তা ধরতে না পেয়ে প্রতারক রুমেল তার নিজ কোম্পানী আখওয়ান মেনেজমেন্টের নামে ৪/৫শ শ্রমিক পারমিট এর জন্য জমা দেয়। কিন্ত সকল কাগজপত্র সঠিক না এমিগ্রেশন কর্তৃক প্রত্যক্ষিত হয়ে দিশে হারা হয়ে পড়ে সিরাজুল আমিন রুমেল। এদিকে সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে ২/৩শ অতি পুরাতন প্রবাসী শ্রমিক আছে যাদের পারমিট না করালে সে মালয়েশিয়া টিকতে পারবেনা আর তাই সে নিজেই নিজের কোম্পানীর নামে ১৫০জন শ্রমিকের এপ্রোভাল জালকরে তার ড্রাইভারকে জালান দুতা এমিগ্রেশন এ পাঠায় লেডী জমা দিতে এবং জাল এপ্রোভেলের বিষয়টি টের পেয়ে গত ২৯শে মার্চ স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় তার ড্রাইভার মোস্তফাকে এমিগ্রেশন আটক করে জেলে পাঠায় এর পর সিরাজুল আমিন রুমেল মালয়েশিয়া থেকে পালিয়ে যেতে পারে তথ্য পেয়ে পুত্রাজয়া ইমপোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্ট তার পাসপোর্ট জব্দ করে।
শ্রমিকের পারমিটের টাকায় সম্পদের পাহাড়ঃ
গত ৫মাস আগে শ্রমিকদের পারমিট করে দেওয়ার নাম করে টাকা নিলেও এই চক্র শ্রমিকদের পারমিট করার কোন প্রকার চেষ্টাও করেনি। টাকা পাওয়ার সাথে সাথে প্রতারক রুমেল কুয়ালালামপুরে ১০/১২টা এপার্টমেন্ট কিনেছে, কিনেছে নতুন মডেলের বি এম ডব্লিও গাড়ী, টাকা দিয়ে পুলিশ ও এমিগ্রেশন ম্যানেজ করলেও ভয়ে রাতে ঘরে না থেকে থাকছে দামী ৫তারা হোটেলে। অন্য দিকে অতি সম্প্রতি নূরুল আমীন শ্রমিকদের টাকা দিয়ে ফেনী এবং গাজীপুরে কোটি কোটি টাকার সম্পদ কিনেছে বলে বিভিন্ন সুত্র নিশ্চিত করে।
নূরুল আমিন এবং তার পুত্র দ্বারা প্রতারিত এসকল শ্রমিক অনেকেই পূর্বে আরো কয়েক বার প্রতারিত হয়েছে। একই চক্র দ্বারা। ২০০৭ এ এই চক্র ভুয়া কলিং ভিসায় এই শ্রমিকদের আখওয়ান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং এভিয়েট ইন্টারন্যাশনাল এর মাধ্যমে মালয়েশিয়া পাঠায়। এখানে এসে তারা বন্দি অবস্থায় থাকে রুমেলর বিভিন্ন গোডাউনে। কর্মহীন অবস্থায় প্রতারক রুমেল দ্বারা নানাভাবে নির্যাতিত হয়ে পালিয়ে গিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে গত পাঁচ বছর যাবৎ মানবেতর জীবন জাপন করছে। গত আগষ্টে নূরুল আমিন নিজে এসে এসকল শ্রমিকদেরকে অল্প পয়সায় পারমিট করে দিবে বলে আবার ফাঁদে ফেলে সর্বশান্ত করেছে। উল্লেখ্য যে গত কলিং এর সময় নূরুল আমিন রুমেল চক্র সিনার সাতু, পাইন টিম, সি,এস,জি, লন্ড্রি, প্রাই ভি টেকনোলজি মাইক্রোফাইন সহ অসংখ্য ভুয়া কোম্পানীতে হাজার হাজার শ্রমিক পাঠিয়ে মালয়েশিয়াতে এক দূর্বিসহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল।
কি হবে এই সব শ্রমিকদেরঃ
৩১ জুলাই বৈধ হওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে। বহু শ্রমিক রছে যারা ১০/১২ বছর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে মানবেতর জীবন জাপন করছে। বহু প্রতিক্ষার পর যখন সুযোগ আসলো বৈধ হওয়ার তখন এক বুক আশা নিয়ে এই চক্রকে তাদের জীবনের শেষ সম্বল টুকু তুলে দিয়েছিল। স্বপ্ন ছিল বহুকাল পর পারমিট পেলে দেশে গিয়ে প্রিয় জনদের সানিধ্য পাবে দেখা পাবে বৃদ্ধ মা-বাবার প্রিয় স্ত্রী আর সন্তানদের। দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান আর হলো না। তাহলে কি হবে এই ভাগ্য বিতারিত হাজার হাজার শ্রমিকেরা। এরা কি আরো একবার প্রতারিত হওয়ার অপেক্ষায় থাকবে? নাকি প্রতিকার পাবে? কিছুই জানেনা তারা, তারা স্বপ্নভঙ্গে এখন দিশে হারা, যে কোন সময় অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটতে পারে এই বিদেশের মাটিতে
কুয়ালালামপুরের প্রত্যন্ত অন্চলে ছড়িয়ে থাকা শ্রমিকরা দূতাবাসে সহযোগিতা পেতে কর্ম কর্তাদের পিছনে পিছনে ধরনা দিয়েও সময় মত কোন সহযোগিতা পাচ্ছেনা। দিনের পর দিন ভোগান্তি এত চরমে উঠেছে ফলে ভ’ক্তভোগীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাবরে অভিযোগ করেও কোন লাভ হচ্ছেনা। বিক্কোভ কারিরা এ প্রতিবেদককে জানান, প্রতারক, দালাল এজেন্ট ও দূতাবাসে এম আরপি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করলে ডেলিভারী দেয়ার তারিখ স্লিপে উলেলখ থাকলেও ৫/৬ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও পাসপোর্ট পাচ্ছেনা শ্রমিকরা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেও কোন লাভ হয়নি। দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলেন পুলিশ রিপোর্ট আসেনি । তাই পাসপোর্ট ডেলিভারী দেয়া যাচ্ছেনা। একটি সূএে জানাযায়, পাসপোর্টের আবেদন করার পর কর্তারা ডিএসবির রিপোর্টের জন্য জেলা বিশেষ শাখায় পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন পাঠানোর পর ডিএসবি থেকে গোপনে তদন্ত কালে থানা ও ডিএসবির রেকর্ড পএ পর্যালোচনায় আবেদন কারির বিরোদ্বে কোন রাষ্ট্রদ্রোহী বা বিরোপ কোন কাজে লিপ্ত নয় বলে প্রতিবেদন দাখিল করার পর ও আদৌ পাসপোর্ট পাচ্ছেনা প্রবাসী শ্রমিকরা। কমিশনের একজন কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন,ডিজিটাল পাসপোর্টে তাদের কোন হাত নেই। কারণ কমিশন থেকে ফাইল পাঠানো হয় ঢাকায় সেখান থেকে তদন্ত সাপেক্কে সময় মত কমিশনে পাঠানোর পর তা ডেলিভারী দেয়া হয়। কমিশন থেকে যতটুকু সহযুগিতা দেয়ার কথা সে টুকু তারা দিচ্ছেন বলে জানালেন ওই কর্ম কর্তা। এদিকে সময়মত পাসপোর্ট না পাওয়াতে ৬পির পারমিট করতে পারছেনা অনেকে। এতে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের প্রতি ক্কীপ্ত রয়েছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। একটি বিশ্বস্ত সূএে জানাযায়, মালয়েশিয়ায় অবৈধ ভাবে অবস্তান কারী শ্রমিকদের বৈধতা দেয়ার লক্ক্যে মালয় সরকারের ঘোষিত ৬পি প্রোগ্রামের আওতায় আসতে পারেনি অনেক শ্রমিক। ৩০ জুলাই পর্যন্ত ৬ পির মেয়াদের শেষদিন থাকলেও প্রায় অর্ধলক্কাধিক শ্রমিক বৈধ হওয়ার জন্য হাতের লেখা পাসপোর্ট কিংবা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট পায়নি। আবার অনেকে পাসপোর্ট না পাওয়ার বেদনায় ক্কোভে ট্রাভেল পাশনিয়ে দেশে চলে আসছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বাংলাদেশী জানান,হাই কমিশনে এখন ওপেন দালালী চলছে। আর এই দালালদের শেল্টার দিয়ে কমিশনের কর্মকর্তারা এখন কোটি কোটি রিংগিতের মালিক বনেগেছেন। কর্তারা কাউকে আর পাওা দেননা। ওই প্রবাসী ক্কোভ প্রকাশ করে বলেন, শ্রমিকরা বৈধ হওয়ার আবেদন করেও পাসপোর্ট পায়না। আরেক শ্রমিক এ প্রতিবেদককে জানায় , ফিঙ্গার প্রিন্ট জাল হওয়ার কারণে কি করবে সেটা জানতে হাই কমিশনে গেলে তারা গেটে ঢোকার পর্যন্ত অনুমতি দিচ্ছেনা। অথচ কিছু কিছু লোক অনায়াসে ভিতরে ঢুকছে আর বের হয়ে আসছে। অথচ এদের ব্যাপারে হাই কমিশন নিরব কেন বা কি স্বার্থে তাদের বিরোদ্বে কোন ব্যবস্তা গ্রহণ করছেনা কমিশন। এ ছাড়া দূতাবাসে গিয়ে প্রবাসী শ্রমিকরা পাসপোর্ট তোলা এবং নবায়ন করতে ঘন্টার পর ঘন্টা দিনের পর দিন কাজ হচ্ছেনা। এ দিকে বৈধতার কাগজ পত্র চেক শুরু করেছে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন পুলিশ। প্রবাসীদের ভিসা ছাড়া অবৈধ ভাবে চলার উপায় নেই মালয়েশিয়ায়। । এদিকে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন এ্যাক্ট ১৯৬৩ অনুযায়ী মালিক কোম্পানী বা সেক্টর পরিবর্তন শাস্তি যোগ্য অপরাধ। শ্রমিকদের একক সিদ্ধান্ত অর্থহীন হয়ে পড়েছে। ভিসা পাসর্পোট হাতে থাকবে ,কাজ করবে নিজের পছন্দো মতো, বেশী বেতন পাবে, টাকা পাঠাবে পরিবারের জন্য,কিন্তু সব স্বপ্ন বিফলে যেতে চলেছে। স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই রয়ে গেল শ্রমিকদের চোখে্।ঁ বাসে, রেল পথে, রাস্তায়, বাজারে সব খানে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন পলিঁশের সাড়াঁশী অভিযান চালিয়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৬১ জন শ্রমিককে গ্রেফ্তার করেছে উমিগ্রেশন পুলিশ।স্বরাষ্ট্র সচিব তান শ্রী মাহমুদ আদাম বলেন, এ পর্যন্ত ৯৪ হাজার ৮ শ ৫৬ জন যার যার দেশে ফিরে গেছেন। কর্তৃপক্ষকে এই কার্য্যক্রমের অধীনে বিদেশী শ্রমিক সরবরাহে যথেষ্ঠ সুযোগ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মালিকদের শ্রমিক সংকট দূর করার জন্য ২ বছরের জন্য বৈধ শ্রমিক দেয়া হচ্ছে। মালয়েশিয়া সরকার অবগত করার পরে ও বে-খেয়াল শুধু বাংলাদেশী শ্রমিক। প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের সব স্বপ্ন অর্থহীন হয়ে পড়েছে। মুক্তির পথ খুঁজতে গিয়ে এবং কমিশনের সহযোগিতা না পেয়ে আবার সেই পুরনো পথেই ফিরে যেতে বসেছে এ শ্রমিকরা। ১৯৯৬ সালে মালয়েশিয়া অবৈধ শ্রমিক বৈধ হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। দীর্ঘ প্রতিক্কিত ১৮ বছর পর আবার সেই অবৈধ শ্রমিক বৈধতা করার প্রত্রিুয়া চালু হয়। অনেকে না জেনে শুনেই অচেনা অজানা কোম্পানীর নাম লিপিবদ্ধ করায় এবং আউটসোসিং কোম্পানীর নামে প্যাকেজ পারমিট করতে গিয়ে পাসপোর্ট ও টাকা পয়সা দিয়ে প্রতারকের খপ্পড়ে পড়ে ওর্য়াক পারমিটের দুর্লভ সুযোগটি হাতছাড়া করেছে। ইমিগ্রেশনের জটিল হিসাব বুঝে না শ্রমিকরা। বৈধকরণ সুযোগ পেয়েও বৈধতা পাচ্ছে না বহু শ্রমিক। সেই পুরানো দৃশ্য- ফেরারী জীবন । ভাগ্যদোষে আজ এই শ্রমিকরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তবে শ্রমিকদের দাবি । মালয়েশিয়া সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে এরকম জটিলতা থাকা শ্রমিকদের বৈধতা পেতে উদ্যোগ নিতে পারে সংশ্লিষ্টরা। তথ্য প্রযুক্তির ত্রুটির কারনে শত শত শ্রমিক অবৈধ হয়ে গেলে দায়ী হবে কে? নতুন ওয়ার্ক পারমিটের সুযোগ পেয়ে ও হাজার হাজার শ্রমিক অবৈধ হয়ে স্ববাস নয় কারা-বাস। দেশের অর্থ যোগানের সহযোগি প্রবাসী শ্রমিক,তাদের পাঠানো রেমিটেন্স দিয়ে দেশের অর্থের চাকা ঘুরছে। এ ভাবে শ্রমিক ধর-পাকড়ঁ অভিজান চলতে থাকলে ওই সব শ্রমিকদের পরিবার পথে বসবে-এবং বেকারত্ব বাড়বে ,অর্থ যোগান বন্ধ হবে। শ্রমিকদের স্বার্থে দেশের স্বার্থে অসহায় প্রবাসী শ্রমিকদের পাশে দাড়াঁতে ,এগিয়ে আসতে হবে বাংলাদেশ সরকারের ।