মনজিলুর রহমান, আটলান্টা: গত ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসের পাইন ব্লুফে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক শফিকুল ইসলাম সোহেল(২৩) এর লাশ ২ অক্টোবর আটলান্টা এসে পৌঁছেছে। জর্জিয়া আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক বিশিষ্ট সমাজসেবী জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী হোসেনের তত্বাবধানে সোহেলের লাশ স্থানীয় নক্স মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছে। আগামিকাল শুক্রবার বাদ জুম্মা ডোরাভিলস্থ তাকওয়া মসজিদে সোহেলের নামাযে জানাযা হবে এবং শনিবার কুয়েত এয়ার যোগে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন ।
সোহেলের পৈত্রিক নিবাস রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ডলফিনপুর গ্রামে। বাবার নাম মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ। দুই ভাইবোনের মধ্যে সে ছিল বড়। দরিদ্র পিতার সন্তান শফিকুল ইসলাম সোহেল ২০১০ সালে ডিভি ভিসা পেয়ে এসেছিল আমেরিকায় । থাকত নিউইয়র্কের কুইন্সের এলমহার্স্ট হাসপাতালের কাছেই একই এলাকার অধিবাসী বন্ধু ও সহপাঠী মোহাম্মদ আশরাফুল আলমের সাথে। শুরুতেই কিছুদিন ফার্স্ট ফুড রেষ্টুরেন্ট ‘ডানকিন ডোনাট‘এ কাজ করেছে। এরপর চালাতো লিমো।আমেরিকার মন্দা অর্থনীতির কারণে সোহেল কোন কাজেই সন্তোষজনক অর্থ উপার্জন করতে পারছিলেন না। যেহেতু আমেরিকায় আসার সময় বিরাট অংকের টাকা কর্জ করে আসতে হয়েছে। সেই কর্জ পরিশোধ করতে সে ব্যস্ত হয়ে পড়ে । তাই চলে আসেন আটলান্টায় বসবাসরত বন্ধু শামিমের কাছে । সিরাজগঞ্জের অধিবাসী শামিম জানায় তাদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে ঢাকা থেকে যখন তারা ডিভি ভিসার জন্য বারিধারায় ইউএস এ্যাম্বাসি ফেস করছিল। আটলান্টা থেকেই দুই বন্ধু গত আগষ্টে চলে যায় আরকানসাস এবং কাজ নেন বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোহাম্মদ সামসুল আলমের ফিলিং ষ্টেশনে । সোহেলের বাবার কর্জ পরিশোধের লক্ষ্যে আরকানসাসে এবং আটলান্টায় চাঁদা তোলা হচ্ছে । এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে আটলান্টায় মোহাম্মদ আলী হোসেন ( ৬৭৮.৮৮৭.৮৭৫২) ও আরকানসাসে সামসুল আলম ( ৮৭০.৭১৮.০২২৯) সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া যে কেউ সরাসরি তার বাবার এ্যাকাউন্টে সাহায্য পাঠাতে পারেন, এমডি আবুল কালাম আজাদ ডাচ্- বাংলা ব্যাংক লিঃ এ্যকাউন্ট নাম্বার ১৬২১ ০১১০ ৪৭৮৪ নবাবগঞ্জ-দেওয়ানবাড়ি রোড রংপুর -৫৪০০। আটলান্টা থেকে স্থানীয় সোনালী এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কেউ অর্থ পাঠালে কোন ফি দিতে হবে না। মানবিক কারণে নিজ দায়িত্বে ফি রহিত করবেন বলে জানিয়েছেন আটলান্টা শাখা ম্যানেজার মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন।
সোহেল যে মালিকানাধীন ষ্টেশনে নিহত হন সে স্টেশনের মালিক সামসুল আলম এ প্রতিনিধিকে জানান, পূত্রের দায়িত্বে সোহেলের বাবাকে তিনি প্রতিমাসে দুইশ’ ডলার করে পাঠাবেন এবং তা চলবে তার জীবনভর। সোহেল তার বাবাকে পবিত্র হজ্বে পাঠাতে চেয়েছিলেন তিনি সোহেলের সে আশাও পুরণ করবেন।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে সোহেলসহ চার বাংলাদেশি খুন হলো ঘাতকের গুলিতে । ১২ সেপ্টেম্বর ডেলওয়ার রাজ্যের নিউয়ার্ক এলাকায় নোয়াখালির অধিবাসী মোহাম্মদ রফিকউল্লাহ কৃষ্ণাঙ্গর দূর্বৃত্তের বন্দুকের গুলিতে নিহত হন। গত সপ্তাহে কানেকটিকাট স্টেটের ব্রীজপোর্ট শহরে আরেকটি বাংলাদেশি মালিকানাধীন কনভিনিয়েন্স স্টোরে রংপুরের আরেক অধিবাসী মঈন হাসান (২২)-খুন হয় দুর্বত্তের গুলিতে। এর আগে গত ২৫ আগষ্ট শনিবার ইষ্ট হার্ডফোর্ডের ১০৮৪ বার্নসাইড এভ্যেনুর সার্কেল এইচ ফুড মার্ট নামে একটি কনভিনিয়েন্স স্টোরে বাংলাদেশি দোকান কর্মচারি লুৎফুর রহমান তরফদার ওরফে বেলাল তরফদার (৪৭) দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হন।