কলকাতা, ১ অক্টোবর- বাংলার রাজনীতিতে একই দিনে তিনটে বড় রাজনৈতিক সভা দেখলো বাংলা। এর মধ্যে দুটো রাজ্যের রাজধানী কলকাতাতে হলেও আর একটি হয়েছে বহু দূরে দেশের প্রাণকেন্দ্র দিল্লীতে। এমন ঘটনা বাংলার রাজনীতিতে কোনদিন হয়নি বলেই দেওয়া যায়। খুচরো ব্যবসায় আমেরিকার অনুপ্রবেশ নিয়ে যে আইন চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার, সেই এফডিআই এর বিরুদ্ধে সিপিএম ও তৃণমূল আজ সভা করেছে। আবার সেই আইনের পক্ষে কংগ্রেস আজ বড়সড় মিছিল করেছে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুক হাজরাতে। তিন দলই আজ প্রতিবাদের মঞ্চ হিসাবে বেছে নিল রাস্তাকে। জাতীয় রাজনীতিতে মাটি ফিরে পেতে দিল্লির যন্তর মন্তরে ধরনায় বসে গেল তৃণমূল। আর সেই মমতাকে পাল্টা চাপ দিতে তাঁর দুর্গে মিছিলের পথে গেল কংগ্রেস। আর এফডিআই সহ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার ক্রমশ অবনতি হওয়ার প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সিপিএম ডাক দিয়েছিল আজ কলকাতার ধর্মতলায় বিরাট সমাবেশের। তবে লক্ষ্যনীয় সিপিএমের এই মিছিলের ডাক দিয়েছিল শুধু উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটি। যদিও সেই সভাতে হাজির ছিলেন বুদ্ধদেব থেকে বিমান বসু, এমনকি বামফ্রন্টের নেতারাও। আসলে এই সূযোগে সিপিএম দেখিয়ে দিতে চাইলো যে, ক্ষমতা গেলেও শুধুমাত্র একটি জেলার মানুষ দিয়েই ভরিয়ে দিতে পারে কলকাতা। আর সেই কাজে তারা ভালোই সফল হয়েছে।
কিন্তু, মমতা কেন দিল্লীকে বেছে নিলেন? কংগ্রেস-তৃণমূলের জোট ভাঙ্গার পরে এই প্রথম দিল্লিতে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সভা হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আবার সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর এই প্রথম কলকাতার রাস্তায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামলো কংগ্রেসও। একেবারে সম্মুখ সমরে। আর সেটা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলো বামেরা। দিল্লীর সমাবেশে মমতা হুঙ্কার দিলেও সেখানে বেশি জমায়েত করা তার সম্ভব হয়নি। তবে তার পাওনা একটাই, তিনি মঞ্চে পেয়েছেন বিজেপি জোটের আহবায়ক জেডিইউ নেতা শারদ যাদবকে। ফলে আগামীদিনে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ধারার রাজনীতি শুরু হতে চলেছে। তার ছোয়া কিছুটা পড়বে যে দেশের রাজনীতিতেও, সন্দেহ নেই।