মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত লক্ষাধিক বাংলাদেশী শ্রমিকের ভিসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দূতাবাসে ধরনা দিয়েও পাসপোর্ট মিলছেনা তাদের। একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কুয়ালালামপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা শ্রমিকরা দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট পেতে কর্মকর্তাদের পেছনে পেছনে ধরনা দিয়েও সময় মতো পাসপোর্ট পাচ্ছে না। দিনের পর দিন ভোগান্তি চরমে উঠেছে। ইতিমধ্যে ভুক্তভোগীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাবরে অভিযোগ করেও কোন লাভ হচ্ছে না। মুন্সীগঞ্জের বাবু সরকার নামের একজন শ্রমিক এ প্রতিবেদককে জানান, ৩০ এপ্রিল দূতাবাসে এমআরপি’র জন্য আবেদন করলে ৫ মে ডেলিভারি দেয়ার তারিখ ¯িপে উলেখ করা হয়। ৬ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও পাসপোর্ট হাতে পাননি বাবু সরকার। সংশিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোন লাভ হয়নি। দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলেন, পুলিশ রিপোর্ট আসেনি, তাই পাসপোর্ট ডেলিভারি দেয়া যাচ্ছে না। একটি সূত্রে জানা যায়, বাবু সরকার পাসপোর্টের আবেদন করার পর কর্মকর্তারা ডিএসবির রিপোর্টের জন্য জেলা বিশেষ শাখা মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন পাঠানোর পর ডিএসবির মুন্সীগঞ্জের স্মারক নং ১৪১/পিপি-৩, ১১ জুলাই এসএম শহিদুর রহমান বিপি-৬৫৮৩০৩৩৮৬১ ডিআইও মুন্সীগঞ্জ জেলা বিশেষ শাখা থেকে গোপনে তদন্তকালে থানা ও ডিএসবির রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কোন কাজে লিপ্ত নয় বলে প্রতিবেদন দাখিল করার পরও সে পাসপোর্ট পায়নি। শুধু বাবু সরকার নয়, তার মতো হাজার হাজার শ্রমিক ডিএসবির রিপোর্ট দাখিল করার পরও পাসপোর্ট পাচ্ছে না। এতে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষিপ্ত রয়েছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানকারী শ্রমিকদের বৈধতা দেয়ার লক্ষ্যে মালয় সরকারের ঘোষিত ৬পি প্রোগ্রামের আওতায় ২ লাখ ৬৪ হাজার শ্রমিক অন্তভূক্ত হলেও পাসপোর্ট জটিলতা ও কোম্পানী দেউলিয়া হওয়ার কারণে প্রায় লক্কাধিক শ্রমিকএখনও অন্তভূক্ত হতে পারেনি। ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ৬ পির মেয়াদের শেষ ছিল। শুধু মাএ পাসপোর্ট জটিলতার কারণে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন আরও একমাস সময় বাড়াতে পারে বলে একটি সূএে জানাগেছে। এ সময়ের মধ্যে যদি পাসপোর্ট না পাওয়া যায় তাহলে এসব শ্রমিকদের দেশে ফেরত পাঠাবে মালয় সরকার। প্রায় অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিক বৈধ হওয়ার জন্য হাতের লেখা পাসপোর্ট কিংবা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট পায়নি। আবার অনেকে পাসপোর্ট না পাওয়ার বেদনায় ক্ষোভে ট্রাভেল পাশ নিয়ে দেশে চলে আসছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বাংলাদেশী জানান, হাইকমিশনে এখন ওপেন দালালি চলছে। আর এই দালালদের শেল্টার দিয়ে কমিশনের কর্মকর্তারা এখন কোটি কোটি রিংগিতের মালিক বনে গেছেন। কর্তারা কাউকে আর পাত্তা দেন না। ওই প্রবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শ্রমিকরা বৈধ হওয়ার আবেদন করেও পাসপোর্ট পায় না। আরেক শ্রমিক এ প্রতিবেদককে জানায়, ফিঙ্গার প্রিন্ট জাল হওয়ার কারণে কি করবেন সেটা জানতে হাইকমিশনে গেলে তারা গেটে ঢোকার পর্যন্ত অনুমতি দিচ্ছে না। অথচ কিছু কিছু লোক অনায়াসে ভেতরে ঢুকছে আর বের হয়ে আসছে। অথচ এদের ব্যাপারে হাইকমিশন নীরব। তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না কমিশন। এ ছাড়া দূতাবাসে গিয়ে প্রবাসী শ্রমিকরা পাসপোর্ট তোলা এবং নবায়ন করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাজ হচ্ছে না। এ ব্যাপারে সংশিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করছেন মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী প্রবাসীরা।