সিঙ্গাপুর, ২৬ সেপ্টেম্বর- সৌন্দর্য্য নগরী সিঙ্গাপুরে এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। মুম্বইয়ের অনেক নামীদামি তারকা এদেশে পারফর্মেন্স করে গেছেন। কিন্তু গত ২৩শে সেপ্টেম্বর রোববার বিকাল থেকে রাত অবধি যা ঘটে গেল তা সিঙ্গাপুরবাসী কখনই প্রত্যক্ষ করেনি। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড-চ্যানেল আই বেস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০১১-এর ভেন্যু ছিল সিঙ্গাপুরের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা স্যারাঙ্গনের ফেরার পার্ক মাঠ। বিশাল এই মাঠে রোববার বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, সংগীত ও মডেলিংয়ের নামীদামি তারকাদের মিলনমেলা বসেছিল। অনুষ্ঠান শুরুর সময় ছিল সন্ধ্যা ৬টা। কিন্তু বিকাল ৪টা থেকেই দর্শক পূর্ণ হয়ে যায়। এক সময় মাঠ ছাড়িয়ে দর্শক অবস্থান নেয় দুই পাশের রাস্তায়।
ফলে সিঙ্গাপুরে ইতিহাসে এই প্রথম এই দুই সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় ৭০ হাজার দর্শকের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে লেজার লাইটের মোহনীয় খেলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর অপু মাহফুজ ও কোনালের সঞ্চালনায় তারকাবহুল এই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের দৃষ্টিনন্দন মঞ্চে আসেন কোকিল কণ্ঠী গায়িকা সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি গাইলেন ‘হায়রে আমার মন মাতানো দেশ, হায়রে আমার সোনাফলা মাটি’ এবং ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’- দর্শক আবেগে আপ্লুত। অনেকেই ওই মুহূর্তটিতে ফিরে গেলেন নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশে। এরপর আজীবন সম্মাননা প্রদান। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড-চ্যানেল আই বেস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০১১-এর আজীবন সম্মাননা পান আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তারকা ববিতা। তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন। উত্তরীয় পরিয়ে দেন ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা এবং চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। অ্যাওয়ার্ড প্রদানের পর মঞ্চে আসেন নায়করাজ রাজ্জাক ও লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার সামিয়া।
তারা ববিতাকে নিয়ে নেচেনেচে গাইলেন ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’। দর্শক আনন্দে মাতোয়ারা। নিরাপত্তা কর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন তাদের সামলাতে। এরপর একে একে মঞ্চে আসেন সৈয়দ আবদুল হাদী, মেহরীন, বারী সিদ্দিকী, মনির খান, নগর বাউল জেমস, ফেরদৌস-পূর্ণিমা, চঞ্চল চৌধুরী-তিশা, ইমন-মোনালিসা, পূর্ণিমা-আরেফিন শুভ, মাহফুজ আহমেদ-জয়া, নোবেল, মিশা সওদাগর, রিজিয়া পারভিন, নাঈম-হাসিন, নোবেল, ববিতা-ফারুক ও মমতাজ। অনুষ্ঠান জমে উঠলো চূড়ান্তভাবে। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাঙালিদের মনে আনন্দের জোয়ার। অনুষ্ঠানে দেশসেরা তারকাদের চোখ ধাঁধানো বিভিন্ন পারফরমেন্সের ফাঁকে ফাঁকে প্রদান করা হয় ১৫টি ক্যাটিগরিতে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড-চ্যানেল আই বেস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০১১। তারকাদের পাশাপাশি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লি., চ্যানেল আই’র পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, পরিচালক জহির উদ্দিন মাহমুদ মামুন, মুকিত মজুমদার বাবু এবং আবদুর রশীদ মজুমদার, চিত্রতারকা ফারুক, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মোস্তফা কামাল সৈয়দ, সংগীত তারকা সাবিনা ইয়াসমিন ও সৈয়দ আবদুল হাদী।
যারা এ অ্যাওয়ার্ড পেলেন তারা হলেন- শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী [চলচ্চিত্র] জয়া আহসান (গেরিলা), আলোচিত শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী [চলচ্চিত্র] পূর্ণিমা (ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না), শ্রেষ্ঠ অভিনেতা [চলচ্চিত্র] ইমন (গার্মেন্টস কন্যা), আলোচিত শ্রেষ্ঠ অভিনেতা [চলচ্চিত্র] চঞ্চল চৌধুরী (মনের মানুষ), শ্রেষ্ঠ প্লেব্যাক [পুরুষ] মনির খান (মায়ের জন্য পাগল), শ্রেষ্ঠ প্লেব্যাক [নারী] কনকচাঁপা (মা আমার চোখের মনি), শ্রেষ্ঠ পরিচালক [চলচ্চিত্র] নাসিরউদ্দিন ইউসুফ (গেরিলা), শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী [টেলিভিশন নাটক] জয়া আহসান (চৈতা পাগল), আলোচিত শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী [টেলিভিশন নাটক] তিশা (মুকিম ব্রাদার্স), শ্রেষ্ঠ অভিনেতা [টেলিভিশন নাটক] মাহফুজ আহমেদ (চৈতা পাগল), আলোচিত শ্রেষ্ঠ অভিনেতা [টেলিভিশন নাটক] নোবেল (আমাদের ছোট নদী), শ্রেষ্ঠ পরিচালক [টেলিভিশন নাটক] মাহফুজ আহমেদ (চৈতা পাগল), শ্রেষ্ঠ মডেল [পুরুষ] নাঈম (মুরগি মার্কা ঢেউটিন), শ্রেষ্ঠ মডেল [নারী] রাখী (সিলন টি)।
শ্রেষ্ঠ অনুষ্ঠান প্রকৃতি ও জীবন (মুকিত মজুমদার বাবু) ও শ্রেষ্ঠ রন্ধন শিল্পী কেকা ফেরদৌসী (দেশ বিদেশের রান্না)। রাত দশটায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন ফরিদুর রেজা সাগর। তখনও ফেরার পার্ক মাঠ ভর্তি বাঙালি আর বাঙালি। সবার মনেই তৃপ্তির আনন্দ আর একটাই প্রশ্ন- আবার কবে দেখা হবে।