গড় রেটিং: 4.0/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
|
|
|
|
|
Update : 2012-08-05 09:01:14
|
‘ময়ূর বেশেতে সাজন রাধিকা’
দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তি বাতিলের পর ছেলেখেলা খেলছে সরকার। প্রথমে বিশ্বব্যাংককে মহাদুর্নীতিবাজ বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির বিরুদ্ধে বিষেদাগার করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ‘কমিশন খায়’, ‘দুর্নীতি করে’, ‘অডিট করতে হবে’ এমনসব অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা হয়েছে। তারপর নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের কথা বলে রাজনৈতিক ধাপ্পাবাজির বক্তৃতা বিবৃতি ছাড়াও পদ্মা সেতুর নামে ঢালাওভাবে চাঁদাবাজিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উসকে দেয়া হয়েছে। আবার সেই বিশ্বব্যাংকের পেছনে ছোটাছুটি করা, চীন ও মালয়েশিয়ার কাছে দেন-দরবার চালিয়ে যাওয়া -কোনটিই বাদ রাখেনি সরকার। সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করে, বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছিলো সরকার। তাতেও বিশ্বব্যাংকের মন গলেছে বলে মনে হয়না। এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাড়ানোর জন্য, লন্ডনে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় আসর অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২৫ জুলাই পাঁচ দিনের সফরে যুক্তরাজ্য গিয়েছিলেন তিনি। সফরসঙ্গী হিসাবে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রীসহ ৫৫ জনের একটি বিশাল বহর। অলিম্পিক অনুষ্ঠান দেখার জন্য লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ দেন তার বোন শেখ রেহানা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটে আসেন ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায় যে, লন্ডনে শত ব্যস্ততার মাঝেও ছেলের জন্মদিন পালনের সুযোগটি হাতছাড়া করেননি তিনি। লন্ডনে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী আল-জাজিরা টেলিভিশন, বিবিসি বাংলা ও বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে তিনটি সাক্ষাতকার দেন। অবস্থানরত হোটেলে স্থানীয় বাংলা গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবুল হোসেন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। তাই তিনি দেশের সম্মান রাখতে পদত্যাগ করেছেন। কোনো মন্ত্রীর গাটস থাকে যে পদত্যাগ করে! এটা একমাত্র আওয়ামী লীগ আমলেই সম্ভব। আমাদের সেই সাহস আছে’। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের হার্ডটক অনুষ্ঠানকে দেয়া সাক্ষাতকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি’। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম দারিদ্র্য বিমোচন করতে পারেনি। বরং তাঁর নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারই ১০ শতাংশ দারিদ্র্য কমিয়েছে’। বর্তমান ১৪ দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার সুবাদে বিগত কয়েক বছরে ‘দেশবিরোধী’, ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ও ‘দেশপ্রেমিক’ নামক শব্দগুলির সঙ্গে নতুনকরে পরিচিত হয়েছে দেশবাসী। সরকারী খরচে অলিম্পিক গেমসে যোগদান করা প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোষের কিছু নয়। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা সাধারণত অলিম্পিক অনুষ্ঠানে যোগদান করে থাকেন। আয়োজক দেশের পক্ষ থেকেও অলিম্পিকে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানো একটি রেওয়াজে পরিনত হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, তাঁকে অলিম্পিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতেই হবে। অনেক ধনী রাষ্ট্রের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরাও অলিম্পিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে লন্ডনে যাননি। এবারের লন্ডন অলিম্পিকে বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েছেন পাঁচজন ক্রীড়াবিদ। তাদের সঙ্গে ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের ২২ জন কর্মকর্তা। আর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন ৫৫ জন। বিশাল লট-বহর নিয়ে ৫ দিনের অবকাশ যাপন করা ও আনন্দ ফুর্তির জন্য রাষ্ট্রের তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা খরচ করাও দেশপ্রেমের পরিচয় কিনা কে জানে? পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থ জোগানের জন্য যখন শিশুদের টিফিনের পয়সা পর্যন্ত বাঁচাতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, তখন জনগণের বিপুল অর্থ ব্যয় করে অলিম্পিক অনুষ্ঠান দেখার মত বিলাসিতা করার ক্ষমতা একমাত্র আমাদের দেশের সরকার প্রধানেরই রয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রয়াত তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের মৃত্যুর পর সর্বস্তরের জনসাধারণের পক্ষ থেকে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীর পদত্যাগের জোড়ালো আবেদন উঠেছিল। দেশের প্রায় সবগুলো মহাসড়ক ছিল তখন খুবই করুণ অবস্থায়, খানাখন্দে ভরা। সংস্কারের অভাবে ও রাস্তার বেহাল দশার কারণে যানবাহনের গতি শ্লথ হয়ে দীর্ঘ যানজট লেগেই থাকতো। সড়ক দুর্ঘটনা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মালিকেরা বাধ্য হয়ে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। দেশপ্রেমিক খেতাবপ্রাপ্ত গাটসওয়ালা যোগাযোগমন্ত্রী তখন পদত্যাগ করেন নি। ভাবটা ছিল এমন যে, আল্লাহর মাল আল্লায় নিয়ে গেছে, তাঁকে কেন পদত্যাগ করতে হবে? আগে জানতাম দেশপ্রেমিকেরা নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করে, যেমনটি করেছিলেন এদেশের সাহসী মুক্তিযোদ্ধারা। যিনি দেশকে ও দেশের মানুষকে ভালবাসেন, যাঁর রয়েছে সাধারণ জনগণের প্রতি মায়া-মমতা, আমজনতার সুখ-দুঃখ বোঝার ক্ষমতা, তাদের জন্য ভাল কিছু করার একটি আদর্শ, দেশ ও দশের উন্নয়নের জন্য নিবেদিত করার মত মূল্যবোধ, তিনিই প্রকৃত ‘দেশপ্রেমিক’। আর এখন দিব্বি চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি যারা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজির মত অপকর্মে লিপ্ত থাকতে পারে, দেশের সম্পদ লুটপাট করতে পারে, অর্জিত আর্থিক সম্পদ ও কর ফাঁকি দিতে পারে, শেয়ারবাজার থেকে কারসাজি করে কোটি কোটি টাকা সরিয়ে নিয়ে বিশাল অর্থসম্পদের মালিক হতে পারে, সাধারণ কর্মচারী থেকে অল্পসময়ে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়ে ভুইফোর ব্যবসায়ী বনে যেতে পারে, নিজেকে নিরীহ, পরিচ্ছন্ন ও সত বলে প্রমাণের জন্য দেশের প্রথম সারির পত্রিকাগুলোতে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে বিজ্ঞাপন দিতে পারে, দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে সততার সার্টিফিকেট জোগার করতে পারে, একাধিক নাগরিকত্বের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশভ্রমণ করতে পারে, তারাই প্রকৃত ‘দেশপ্রেমিক’। জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সেমিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন অবশ্য বলেছেন, ‘সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী দেশপ্রেমিক হতে পারেন না, বরং তাঁকে বেহায়া বলা উচিত’।
বিশ্বব্যাংকসহ দাতাগোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে দুর্নীতির অভিযোগ ছাড়াও বর্তমানে আমাদের দেশের অভ্যন্তরে রয়েছে হাজারো সমস্যা। সংসারে ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, শাকসব্জি, ফলমূলসহ খাবার গুলোতে মেশানো ফরমালীন জাতীয় বিষ, কুইক রেন্টাল বিদ্যুতের কারণে দফায় দফায় বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস সংযোগ ও পানির সংকট, মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, নির্যাতন ও নিপীড়ন, পুলিশ নামের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অমানবিক, অনৈতিক, হিংস্র আচরণ, কিল-ঘুষি-চড়-লাথি-লাঠিপেটা আর নারীর শ্লীলতাহানি, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অচলাবস্থা, শেয়ারবাজারে কেলেংকারী, গার্মেন্টস শিল্পে অস্থিরতা, দেশজুড়ে অসহনীয় যানজট ও রাস্তাঘাটের দুরবস্থা, প্রশাসনে দুর্নীতি, দলীয়করণ ও স্থবিরতা, দলীয় ক্যাডারদের লুটপাট, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি, বিরোধী দল ও মতের প্রতি সরকারের অসহিষ্ণুতা, দমন-পীড়ন, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করাসহ নানা ধরনের অপচেষ্টা। আমজনতার দুঃখ-দুর্দশার সীমাহীন এসব সমস্যা সরকারের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকের চোখে পড়েনা। তাইতো গণমাধ্যমে প্রতিদিনই স্ববিরোধী ও হাস্যকর মন্তব্য করতেই বেশি পছন্দ করেন সরকারের মন্ত্রীরা। অন্যদিকে জীবন যাপনের ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরাধ। চুরি, ডাকাতি, খুন, গুম ও সন্ত্রাস যে ভয়াবহ হয়ে উঠেছে তা যে কোনও পত্রিকার পাতা খুললেই বুঝা যায়। এরপরও যদি বলা হয় যে, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে তবে সেটা কি ডাহা মিথ্যা বলা হবে? লন্ডনে সাংবাদিকদের সঙ্গে নৈশভোজ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গানের মধ্য দিয়ে একটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তি বাতিলের কারণ সম্পর্কে সরাসরি জবাব দেয়ার পরিবর্তে তিনি গানের কলি শুনিয়েছেন। ‘কৃষ্ণ আইলো রাধার কুঞ্জে, শ্যামে পাইলো ভ্রমরা, ময়ূর বেশেতে সাজন রাধিকা’। গানটির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নাকি দেবতা ড. মুহামদ ইউনূসের ব্যাপারে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে দেবী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফরের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতারাও নাকি গানটিতে কণ্ঠ মিলিয়েছেন। প্রকাশ্যে গাওয়া রাধাকৃষ্ণের অবৈধ প্রেম সম্পর্কিত গানটিও হয়তো, প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব রুচিবোধ থেকেই বেরিয়ে এসেছে।
বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তি বাতিলের প্রায় ৪ সপ্তাহ পর সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগের ব্যাপারে কোনও গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। এমনও শোনা যাচ্ছে যে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী দফতরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে থেকে যাওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন। অত্যন্ত যৌক্তিক তাঁর দাবি। জাতীয় সংসদের স্টিকার লাগানো বিলাসবহুল গাড়িতে বস্তাভর্তি ঘুষের টাকাসহ ধরা পড়লেও যদি দফতরবিহীন মন্ত্রী থাকা যায়, তাহলে তাঁর একার কি দোষ? কোনও কাজ না করেই রাষ্ট্রের তহবিল থেকে মন্ত্রীর পুরো বেতন, নামিদামি গাড়ি, সরকারী বাড়ি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ভোগ করার মজাই আলাদা। তাছাড়া পদত্যাগ নাটকটিও এমন সময় মঞ্চস্থ হয়, যখন সারা দেশের মানুষ একজন বিখ্যাত নাট্যকার ও নন্দিত কথাশিল্পীর মৃত্যুতে শোকাভিভূত। ব্যাপারটি নিতান্তই কাকতালীয়, নাকি ইচ্ছে করেই এমন একটি সময় বেছে নেয়া হয়েছে যাতে এ নিয়ে আলোচনা খুব কম হয়, ঠিক জানা নেই। বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমানের ভিত্তিতে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে যে অভিযোগ করেছে, তাতে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ও কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও সরকারের একজন উপদেষ্টাসহ বেশ কিছু বেসরকারি ব্যক্তি এই দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছে বলে পত্রপত্রিকাগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কে বা কারা এই বেসরকারি ব্যক্তি? বিশ্বব্যাংক সরকারের কাছে লেখা চিঠিগুলো প্রকাশ করবে না। কারণ, সদস্যদেশগুলোর ব্যাপারে তাদের এক ধরনের গোপনীয়তা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। কিন্তু সরকার চাইলে চিঠিগুলো প্রকাশ করতে পারে, এমনটাই জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সঙ্গত কারণেই চিঠিগুলো প্রকাশ করা জরুরি প্রয়োজন। সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী যদি পদত্যাগ করে থাকেন বা তার পদত্যাগপত্র যদি গৃহীত হয়ে থাকে, তার মানে হলো বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ পুরোপুরি সত্য এবং সে অভিযোগ সরকার মেনে নিয়েছে। সেক্ষেত্রে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী কিভাবে প্রকৃত ‘দেশপ্রেমিক’ হন? নাকি, পদ্মা সেতুর এই দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে অন্য কোনও রাঘববোয়াল রয়েছে? আর তাই দুর্নীতিবাজ বলে অভিযুক্ত ও প্রমাণিত মন্ত্রীদের প্রতি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর এমন আনুগত্য ও পৃষ্ঠপোষকতা? অস্পষ্ট পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই রাঘববোয়ালদের দায় খালাস করে দেয়া হলো কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার। কি রহস্য লুকিয়ে আছে দেশপ্রেমিক খেতাবের অন্তরালে? নাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে গাইতে হবে ‘কৃষ্ণ আইলো রাধার কুঞ্জে, শ্যামে পাইলো ভ্রমরাৃ’?