গড় রেটিং: 5.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
|
|
|
|
|
Update : 2012-07-31 11:18:57
|
ভেষজ উদ্ভিদের গুণাগুণ ও গবেষণা
ভেষজ উদ্ভিদ নিয়ে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের বিজ্ঞানীরা বেশ সক্রিয় গবেষণা করে যাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত আবিষ্কার হচ্ছে নতুন নতুন তথ্য। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রকাশনায় উপমহাদেশের এসব গবেষকদের নতুন নতুন গবেষণার তথ্য প্রতিনিয়তই আসছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষকরা ভেষজ উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা যেমন নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কার করছেন, পাশাপাশি পুরনো তথ্যগুলোকে জোরালো করতেও ভূমিকা রাখছে। জন্ডিস সাড়াতে ব্যবহৃত চাক আদিবাসীদের উদ্ভিদ : ১. চুইতিলিই (মোটাপাতা) : শিকড় হচ্ছে এ ধরনের মেডিসিন্যাল প্লান্টের মূল উপকারী অংশ। এটি রুবিয়াসি গোত্রের। বৈজ্ঞানিক নাম মোরিন্ডা এনগুস্টিফোলিয়া। এই উদ্ভিদের স্থানীয় নাম চুইতিলিই বা মোটাপাতা। শিকড় পিশে ফেলতে হবে, এক টেবিল চামচ পানি নিয়ে সেখানে ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে শিকড় পিশা দিতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না চামচের পানির রঙ একেবারে হলুদ হয়ে যায় ততক্ষণ দিতে হবে এবং পানির রঙ যখনই হলুদ হয়ে যাবে তখন তা খাওয়াতে হবে রোগীকে। এভাবে তিনদিন প্রতিদিন দুইবার করে খাওয়ালেই হবে। ২. চুইতিলিই (চিকনপাতা) : শিকড় হচ্ছে মেডিসিন্যাল প্লান্টের মূল উপকারী অংশ। এটি রুবিয়াসি গোত্রের। বৈজ্ঞানিক নাম মোরিন্ডা পেরসিকিফোলিয়া। এ উদ্ভিদের স্থানীয় নাম চুইতিলিই বা চিকনপাতা। শিকড় পিশে ফেলতে হবে, এক টেবিল চামচ পানি নিয়ে সেখানে ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে শিকড় পিশা দিতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না চামচের পানির রঙ একেবারে হলুদ হয়ে যায় ততক্ষণ দিতে হবে এবং পানির রঙ যখনই হলুদ হয়ে যাবে তখন তা খাওয়াতে হবে রোগীকে। এভাবে তিনদিন প্রতিদিন দুইবার করে খাওয়ালেই হবে। এ গাছের শিকড়ের রঙ চুইতিলিই (মোটা পাতা) এর শিকড়ের রঙের চেয়ে আরো গাঢ় হলুদ হবে। ৩. পুট্টি গাছ : শিকড় ও পাতা হচ্ছে মেডিসিন্যাল প্লান্টের মূল উপকারী অংশ। এটি মেলাস্টোমাতাসি গোত্রের। বৈজ্ঞানিক নাম মেলাস্টোমা মালাবাথরিকাম। এ উদ্ভিদের স্থানীয় নাম উসতালর্গ বা পুট্টি গাছ। এটি জন্ডিস ছাড়াও ডায়রিয়া, বড় ফোঁড়ায়, দাঁতের সমস্যায় ও পেট ব্যথা হলে ব্যবহার করা যায়। এটি ব্যবহারের নিয়ম হচ্ছে এক মুঠো করে শিকড় এবং পাতা নিয়ে তা আধা লিটার পানিতে সেদ্ধ করে সে পানিকে এক পোয়া (২৫০ মি: লিটার) করতে হবে এবং তা ডায়রিয়া, জন্ডিস এবং পেটের ব্যথার জন্য প্রতিদিন এক গ্লাস করে ৫-৭ দিন পান করতে হবে। দাঁত ব্যথা এবং দাঁতের অন্যান্য সমস্যার জন্য সে পানি দিয়ে প্রতিদিন ২ বার করে ৩-৫ দিন কুলি করতে হবে। ফোঁড়াতে এর পাতা এবং শিকড় পিশে তা লিপে দিতে হবে। আমাশয় হলে ব্যবহৃত উদ্ভিদ ঃ ১। কবুংফাং : এটি আমাশয়, পেট ফাঁপলে, পেটে গ্যাস হলে, ঝঃড়ড়ষ নরম করতে সাহায্য করে, জরহমড়িৎস হলে ব্যবহার করা যায়। ব্যবহারের নিয়ম হচ্ছে এর পাতা আধা লিটার পানিতে সেদ্ধ করে এক গ্লাস বানাতে হবে এবং সে এক গ্লাস পানি পান করতে হবে। এভাবে প্রতিদিন ১-২ বার করে ৫-৭ দিন পান করতে হবে। এর পাতা কচলিয়ে তার রস দাঁদ (জরহমড়িৎস) এ লাগালে দাঁদ ভালো হয়ে যায়। পাতা হচ্ছে মেডিসিন্যাল প্লান্টের মূল উপকারী অংশ। এটি লিগুমিনোসি গোত্রের। বৈজ্ঞানিক নাম কাসিয়া আলাটা বা সেন্না আলাটা। এ উদ্ভিদের স্থানীয় নাম কবুংফাং। কানের ভেতর পচলে বা পানি জমলে ব্যবহৃত উদ্ভিদ : ১। প্রপ্রফাং : প্রপ্রফাং এর একটা পাতা (ডিগ) নিয়ে তা সামান্য আগুনের অাঁচে গরম করে যতক্ষণ না নরম হয়ে যায় ততক্ষণ গরম করতে হবে এবং যখনই নরম হয়ে যাবে তখন তা কচলে বা মুচড়িয়ে তা থেকে রস বের করে নিয়ে সে রস এক ফোঁটা কানের ভেতরে দিলেই কাজ হবে। এভাবে প্রতিদিন ২ বার করে ৩ দিন দিলেই হবে। আগার অংশের পাতা হচ্ছে এ মেডিসিন্যাল প্লান্টের মূল উপকারী অংশ। এটি আগাভাসি গোত্রের। বৈজ্ঞানিক নাম সানসেভেইরা রোক্সবারঘিয়ানা। এ উদ্ভিদটি স্থানীয়ভাবে প্রপ্রফাং নামে পরিচিত। এ ধরনের অসংখ্য ভেষজ উদ্ভিদ ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। অজানা ভেষজ উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা যেমন জরুরী তেমনি চেনাজানা ভেষজ উদ্ভিদের মধ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিকসমূহ চিহ্নিত করাও বিশেষ দরকারি। এ বিষয়ে সমন্বিত গবেষণা জরুরি।