গড় রেটিং: 2.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
|
|
|
|
|
Update : 2012-07-22 06:23:13
|
সেলিব্রেটিদের প্রতিহিংসা পরায়ন মন
কয়েকদিন ধরে মিডিয়া খুব সরব হয়ে উঠেছে অসি সুপারমডেল এলি ম্যকফারসনকে নিয়ে। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কীত না হলেও হঠাৎ কেনই বা তাকে নিয়ে পাপারাজ্জিদের এত মাথা ব্যথা শুরু হলো! এলি নিজেও পরে সেটা অ্যাঁচ করতে পেরেছেন। আসলে এলি এখানে কাবাব মে হাড্ডি সরূপ পাঠকদের মনোরঞ্জনের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছেন। মূল ঘটনা তো অন্য জায়গায়।
ঘটনা হলো- গত রোববার ৪২ বছর বয়সী অভিনেত্রী উমা থারম্যান নিউ ইয়র্কে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এলি ম্যাকফারসনের এক্স-বয়ফ্রেন্ড বুশন আরপ্যাড হলেন সেই কন্যার বাবা। আর এটিই হলো পাপারাজ্জিদের কাছে মুখরোচক খবর। পাপারাজ্জিরা উমা-বুশনের সেই কন্যাকে হাইলাইট করার সঙ্গে সঙ্গে প্রাসঙ্গিক বিষয় হিসেবে টেনে নিয়ে আসছেন এলি’র নামটি। এলি কেন সেটা শুধু শুধু বরদাস্ত করবেন! একদিকে বুশন-উমার মেয়ের ছবি তোলা নিয়ে পাপারাজ্জিদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল আর অন্যদিকে এলি করলেন আরেক কাণ্ড।
এলি ম্যাকফারসনকে হঠিয়ে তার জায়গা দখল করেছেন উমা থারম্যান। আর বয়ফ্রেন্ডই বা কেমন! তিনিও পটে গেলেন! কোনো মেয়েই বয়ফ্রেন্ড কিংবা স্বামীকে অন্য কারো সঙ্গে শেয়ার করতে চান না। এলি কেন তবে মেনে নেবেন এই পরাজয়! তিনিও পাপারাজ্জিদের নজর নিজের দিকে টানতে উঠে পড়ে লেগে গেলেন। ৪৮ বছর বয়সী এলি তার চমৎকার মেদহীন ফিগারে টিনজি-উইজি বিকিনি পড়ে পাপারাজ্জিদের সামনে নিজেকে মেলে ধরলেন। এক্স বয়ফ্রেন্ড বুশন আরপ্যাডের প্রতি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার প্রজেক্টে নামলেন। বিকিনির কড়া রঙে প্রকাশ করলেন বিদ্রোহ। আর অকপটে তুলে ধরলেন নিজের অসাধারণ লাবন্য। এলির সঙ্গে ছিল নতুন বয়ফ্রেন্ড রজার জেনকিনস্। বিষয়টা অনেকটা এমন -দেখো বুশন তুমি কি জিনিস মিস করছো!
এলি-বুশন যুগলের আরপ্যাড ফ্লাইন আলেকজান্ডার (১৪) এবং অরেলিয়াস সাই অন্দ্রিয়া নামের দুটি ছেলে সন্তান আছে।
এই প্রতিহিংসা নিয়ে লিখতে গেলে ইতিহাসের বিখ্যাত সব মানুষদের নাম উঠে আসবে। যারা একই কারণে ব্যর্থ হয়ে নিজেদের স্বান্তনা দেবার অপচেষ্টা করেছেন। প্রিন্সেস ডায়ানা তার উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত। প্রিন্স চার্লস এর সঙ্গে প্রেমিকা ক্যামিলা পার্কারের সম্পর্ক্যের কথা তিনি বিয়ের পর জেনে গিয়েছিলেন। এই প্রেম নিয়ে ডায়ানার তীব্র হীনমন্যতা আর ইর্ষান্বিত মনোভাব ছিল। আর থাকবে নাই বা কেন! কাছের মানুষটির অন্য কারো প্রতি গভীর অনুভূতি সেটা মেনে নেয়া সত্যিই কঠিন।
সবার কাছেই প্রিন্স চার্লসের প্রেম ছিল ওপেন সিক্রেট বিষয়। তারপরেও সবার ভেতরেই ছিল প্রিন্সের মুখ থেকে জানার দুর্বার কৌতুহল। ১৯৯৪ সালের জুন মাসে এক টেলিভিশন সাক্ষাতকারে প্রিন্স চার্লস্ যখন নিজে মুখে ক্যামিলার প্রেমের স্বীকৃতি দিলেন তখন সেটা কিছুতেই হজম করতে পারলেন না প্রিন্সেস ডায়ানা। সেই রাতে প্রিন্সেস ডায়ানা বিনা নোটিসে একটি সুদৃশ্য ভ্যালেন্টিনো গাউন পড়ে বসলেন। নিজের সৌন্দর্যকে নিজেই যাচাই করতে শুরু করলেন। অথচ এইরাতে তার জন্যে অপেক্ষা করছিল শোকরঙা কালো পোশাক। ডায়ানার উপলব্ধি হয়তা এমনই ছিল-দেখো চার্লস কাকে তুমি হেলায় ফেলে দিলে!
প্রতিহিংসা চরিতার্থ করে মানুষ সুখ পায়। নিজে নিজেই স্বামন্তা পেতে চেষ্টা করে। আর এক্ষেত্রে শুধু মেয়েরাই অগ্রগণ্য নয়। ছেলেরাও আছে এই দলে। সম্প্রতি পপ সিঙ্গার রাসেল ব্র্যান্ড এবং কেটি পেরি দম্পতির ডিভোর্স হয়। যেদিন তাদের ডিভোর্স চূড়ান্ত হয় সেদিন রাসেল পাপারাজ্জিদের সামনে হাজির হন গার্লফ্রেন্ড ইসাবেলা ব্রিউস্টারকে নিয়ে। ইসাবেলা ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস স্টার জর্ডানার ছোট বোন। তিনি যে এখনো অন্য নারীদের কাছে চরম আকাঙ্খিত সেটা রাসেল প্রমাণ করলেন। কিংবা হয়তো নিজেকেই সান্তনা দেবার অপচেষ্টা করলেন। নাকি এসব-ই প্রতিহিংসা !