গড় রেটিং: 3.8/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
|
|
|
|
|
Update : 2012-06-30 06:41:52 |
নিউইয়র্কে ৩ দিনের আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব
নিউইয়র্ক, ১ জুলাই: বাংলা ভাষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধায় শুক্রবার নিউইয়র্কে
শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বাংলা উৎসব ও বইমেলা ২০১২। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে এক বিশাল প্যারেড শেষে জ্যামাইকার হিলসাইড
এভিনিউর স্যুজান বি অ্যান্থনি হাইস্কুলে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন কতৃক আয়োজিত
২১তম বাংলা উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও গবেষক, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান
খান।
উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, ‘আজ বিদেশেও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চার
প্রয়াস দেখে এবং বিশাল আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে আমার মনে হয়েছে- বিদেশে
এ যেন এক নতুন বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বিদেশে এসে আমার মনে
হয়েছে আমি যেন বাংলাদেশেই আছি।’
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ড. আতিউর রহমান বলেন,
‘প্রতি দশকে বাংলাদেশের জিডিপি দ্বিগুণ হচ্ছে। জাতীয় প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির এই
ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। আর এজন্যে দরকার দৃঢ় মনোবল। তাই আমাদের অন্তরের
ভেতরে যদি কোন অপশক্তির ছাপ থেকে থাকে বা আবর্জনা জমে থাকে তাহলে তা ছুড়ে
ফেলে দিতে হবে।’ ‘অন্তরে বাধা থাকলে বাইরের বাধা ভয়ংকর হয়ে উঠে’-যোগ করেন
আতিউর।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের অতীত অত্যন্ত সুন্দর ও শক্তিশালী। তাই আগামী আরো উজ্জ্বল হবে।’ গভর্ণর আরো বলেন, ‘বাঙালির প্রেরণার উৎস হচ্ছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি নজরুল এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।’
জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেন বর্তমান সমাজের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন।
বাংলা উৎসবের শুভ সূচনা ঘটে প্রচন্ড গরমের মধ্যেই বর্ণাঢ্য র্যালীর মাধ্যমে। এতে বইমেলার অতিথি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র আ’লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। বাংলা উৎসব কমিটির আহবায়ক নাসিমুন্নাহার নিনি সকলকে স্বাগত জানান এবং ৩ দিনের সমগ্র অনুষ্ঠানমালায় সকলের আন্তরিক সহায়তা কামনা করেন।
মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পূর্বে ব্যানার-ফেষ্টুনসহ নানা সাঝে সজ্জিত হয়ে বিপুল সংখ্যক প্রবাসীরা বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে ব্যস্ত হিলসাইড এভিনিউর কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বর্তমান প্রজন্মের কিশোর-কিশোরীদের শোভা যাত্রায় স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
প্রথমদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বিদেশি বীর মুক্তিযোদ্ধা রিচার্ড টেলরকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে রিচার্ড টেলরকে পরিচয় করিয়ে দেন ড. জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত। বিপুল করতালির মাধ্যমে তাকে সম্মানা দেন মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরন নবী। তিনি বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে বাংলা সাহিত্যের চর্চা একটা দুরূহ কাজ।’
সংগীত পরিবেশন করছেন নাশিদ কামাল
সন্ধ্যায় মেলার রবীন্দ্র মঞ্চে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন দেশ-প্রবাসের বরেণ্য
ব্যক্তিত্বরা। তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান
খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ড. আতিউর রহমান, লেখক ড. জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত,
পূরবী বসু, দিলারা হাশিম, বিনতা রায় চৌধুরী, আহমেদ আল কবীর, হাবিবুল্লাহ
সিরাজী, ইকবাল হাসান, সৈয়দ ইকবাল, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, হাসান ফেরদৌস,
অভিনেতা জামাল উদ্দিন হোসেন, কাউন্সিলম্যান মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরন নবী,
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন, প্রাইম
ব্যাংকের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, সাংবাদিক মনজুর আহমেদ, মেলার
আহ্বায়ক নিনি ওয়াহেদ।
কানাডার টরন্টো, অটোয়া, মন্ট্রিয়েল এবং আমেরিকার ওয়াশিংটন, বাল্টিমোর,
বোস্টন, হিউস্টন, ডালাস, লসএঞ্জেলেস, ফোরিডা, ফিলাডেলফিয়া, নিউজার্সিসহ
নিউইয়র্কের কবি ও লেখক-সাহিত্যিকরা এসেছেন এবারের উৎসবে। বাংলা উৎসব
উপলক্ষে আমেরিকার মূলধারাতেও ব্যাপক সাড়া পড়ে। নিউইয়র্ক সিটির কম্পট্রোলার
জন ল্যু, সেনেটর ম্যালকম স্মিথ, কুইন্সন লাইব্রেরির ভাষা বিভাগের প্রধানসহ
আরও ক’জন বক্তব্য রাখেন।
মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননার পর শুরু হয় নৃত্যানুষ্ঠান। রবীন্দ্র সঙ্গীতের সঙ্গে
নৃত্য পরিবেশন করেন তাহনিনা ইসলাম ও আবুল হাসান ভূঁইয়া। অতিথি শিল্পীদের
সঙ্গীতানুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ড. নাশিদ কামাল, মেহেরীন ও কনক
আদিত্য। বইমেলার নৃত্য ও গান অতিথিরা দারুণ উপভোগ করেন।
৩ দিনের
অনুষ্ঠানমালায় ছিল বই ও বাংলাদেশী পণ্যের স্টল, কবিতা আবৃত্তি, সাহিত্য
সভা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, নাটকের আলোচনা, পরিবেশ বিষয়ক
সেমিনার, মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশীরা, গানের কর্মশালা, নতুন বইয়ের মোড়ক
উন্মোচন, বাংলা বইমেলায় ভিন্ন ভাষার কবিতা, প্রমিত বাংলার ব্যবহার
সম্পর্কিত আলোচনা, নাটক, সঙ্গীত এবং নৃত্যানুষ্ঠান।