গড় রেটিং: 4.0/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
|
|
|
|
|
Update : 2012-06-28 08:41:13
|
প্রশ্নবিদ্ধ ম্যাচের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন!
শেখ জামাল-ব্রাদার্সের মধ্যকার মঙ্গলবারের ম্যাচটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আবারও নড়েচড়ে বসেছে বাফুফে। পত্রপত্রিকার রিপোর্টের ভিত্তিতে এই ম্যাচটিও তারা পাাঠাচ্ছেন পাতানো ম্যাচ তদন্ত কমিটির কাছে। যদিও প্রথমপর্বে রহমতগঞ্জ-ব্রাদার্সের ম্যাচের তদন্ত এখনও শেষ করতে পারেনি বাফুফের এই বিশেষ কমিটি। বেশ কয়েকবার সভা করার পরও তারা এখনও রিপোর্ট জমা দিতে পারেনি লীগ কমিটির কাছে। শোনা যাচ্ছে পাতানো ম্যাচের যথেষ্ট আলামতের পরেও তারা বিশেষ একটি মহলের চাপের কারণে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। যদিও চাপের বিষয় মানতে নারাজ বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান হুমায়ুন খালিদ। ‘চাপ হলে তো আমার ওপরই প্রথম হবে। আমি চেয়ারম্যান হিসেবে এমন কিছুর সম্মুখীন হইনি- জানান তিনি। পাতানো ম্যাচের তদন্তের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি খসড়া একটি রিপোর্ট চূড়ান্ত করেছি। একজন বিশেষজ্ঞের মতামত চেয়েছি। ওই রিপোর্ট পেলেই তা বাফুফেতে জমা দিতে পারবো।’ তবে লীগ শেষ হওয়ার পর ওই ম্যাচের রিপোর্ট দেয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাফুফের তাবিথ আউয়াল। ‘ব্রাদার্স-রহমতগঞ্জের রিপোর্টটা যদি বিশেষ কমিটি দিয়ে দিতো তবে লীগে অন্য দল পাতানো ম্যাচ খেলার সাহস পেতো না- জানান এই সহ-সভাপতি। তবে বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও লীগ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী সপ্তাহ খানেকের মধ্যে রিপোর্ট প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছেন। ‘বিশেষ কমিটি কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছে। আশা করছি সাত-আট দিনের মধ্যে আমরা মিডিয়ার সামনে রিপোর্ট প্রকাশ করতে পারবো।
এদিকে গত বছর পাতানো ম্যাচের কলঙ্ক নিয়ে শিরোপা জিতেছিল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। সমঝোতার ম্যাচ প্রমাণিত হওয়ায় আর্থিক দণ্ডের সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাদের। শুধুমাত্র ২০ লাখ টাকা আর্থিক দণ্ডে পার পেয়ে গিয়েছিল তারা। এতেও শিক্ষা হয়নি শেখ জামালের। শিরোপা সম্ভাবনা না থাকা এবং রেলিগেশনের শঙ্কা দূর হওয়ায় আবার তারা প্রশ্নবিদ্ধ ম্যাচ খেললো। খেলার ধরন দেখে মনে হয়েছে, ব্রাদার্সকে তিন পয়েন্ট উপহার দিতেই মাঠে নেমেছিল শেখ জামাল। ম্যাচের ফলাফলও তারই প্রমাণ। যে শেখ জামালের কাছে প্রথম পর্বে একেবারে পাত্তা পায়নি ব্রাদার্স সে ব্রাদার্সের কাছে কিনা অসহায় আত্মসমর্পণ করলো গেলবারের লীগ চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ শেষে কোচের কথায়ও ছিল অসহায়ত্ব। ‘আমার করার কিছুই ছিল না। আমি যা করতে চেয়েছি, যে একাদশ চেয়েছি, তার কিছুই ছিল না ব্রাদার্সের ম্যাচে- জানান দলটির কোচ আবু ইউসুফ।
প্রথম পর্বে রহমতগঞ্জের সঙ্গে নির্বাচনী ম্যাচে ৪-০ গোলে হেরেছিল ব্রাদার্স। এরপরেই তাদের অধপতন শুরু হয়। টানা হেরে রেলিগেশনের শঙ্কায় পড়ে গোপীবাগের দলটি। অবনমন ঠেকাতেই তারা শেখ জামালের সঙ্গে পাতানো ম্যাচে অংশ নেয়। এই প্রশ্নবিদ্ধ জয়ে ১৯ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে ব্রাদার্স। তবে প্রথম পর্বে রহমতগঞ্জ-ব্রাদার্সের ম্যাচটি প্রমাণিত হলে ওই ম্যাচের তিন পয়েন্টসহ ছয় পয়েন্ট কর্তন হবে অবনমন নিশ্চিত হওয়া রহমতগঞ্জের। আর অর্জিত পয়েন্ট থেকে ৬ পয়েন্ট কর্তন হবে ব্রাদার্সের। সেক্ষেত্রে ব্রাদার্সও নেমে যাবে পেশাদার লীগ থেকে।