গড় রেটিং: 3.7/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
|
|
|
|
|
Update : 2012-06-27 09:17:57
|
পাতে থাকুক আঁশযুক্ত খাবার
শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি-এই ছয়টি খাদ্যের উপাদান। আগে খাদ্যের ফাইবার বা আঁশের বিষয়টি উপরোক্ত ছয় খাদ্য উপাদানের আলোচনায় ছিল না। অথচ আধুনিক জীবন-যাপনের ক্ষেত্রে আঁশজাতীয় খাদ্যকে খাটো করে দেখার কোনো উপায় নেই। কারণ এসব আঁশ বহু শর্করা বা পলিস্যাকারাইডের অন্তর্ভুক্ত। তাই সর্ববিবেচনায় আঁশজাতীয় খাবার এখন গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত; যাকে অন্যকথায় ডায়েটারি ফাইবারও বলা হয়।
সাধারণভাবে আঁশজাতীয় খাবার মানুষের পরিপাকতন্ত্রে হজম হয় না। এর কারণ হলো, এগুলো হজম করার জন্য প্রয়োজনীয় পাচক রস বা এনজাইম আমাদের পরিপাকতন্ত্রে নেই। খাবারের আঁশজাতীয় অংশটুকু হলো সেলুলোজ, যা হজম না-হওয়া শর্করার অংশ। এগুলো আমাদের দেহে প্রয়োজনীয় ক্যালরি বা শক্তি সরবরাহ না করলেও তা অনেকদিক থেকে যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে, যা সুস্বাস্থ্যের বড় শর্ত।
খাদ্যের আঁশ অংশটুকু হজম না হওয়ার কারণে এগুলো পরিপাকতন্ত্রের বেশকিছু জলীয় অংশ শোষণ করে ধরে রাখে এবং এই জলীয় পদার্থসহ এগুলো মলের সঙ্গে বের হয়ে আসে। ফলে শরীরের কোনো অংশে চর্বি বা মেদ জমতে পারে না। এতে মল নরম হওয়ার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ হয়।
আরামদায়ক মল ত্যাগের ফলে মলদ্বারের বেশ কিছু রোগ প্রতিরোধ হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো অর্শ বা পাইলস, ভগন্দর বা এনাল ফিশার, পায়ুপথের ফোঁড়া বা পেরি এনাল এবসেস ইত্যাদি। যারা অধিক পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার খান তাদের পরিপাকতন্ত্রের ক্যানসার, এপেনডিসাইটিস, ডাইভারটি-কুলাইটিস হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে হার্নিয়া হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা থাকে; কিন্তু আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণের মাধ্যমে তা অনেকাংশে প্রতিরোধ সম্ভব।
খাবারের আঁশ পরিপাকনালী থেকে খাবারের কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেয়। এটি রক্তে কোলেস্টেরলসহ চর্বির মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তনালীর রোগ বা এথেরোস্ক্লেরোসিস হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
খাদ্য গ্রহণের পর রক্তের গ্লুুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আঁশজাতীয় অংশ গুরুত্ব বহন করে। এতে ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকি কমে। আবার যেহেতু ডায়াবেটিক রোগীদের অনেক সময় রক্তে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে, সেক্ষেত্রে আঁশজাতীয় খাবার সেটি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। দেখা গেছে, যারা আঁশজাতীয় খাবার বেশি খেয়ে থাকেন, তাদের পিত্তথলি ও লিভারের রোগ কম হয়।
উদ্ভিজ্জ প্রায় সব খাবারেই কমবেশি আঁশ আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছে শাকসবজি ও ফলে। খাদ্যাভ্যাসকে সম্পূর্ণ শুদ্ধ ও পরিপূর্ণ করতে আঁশজাতীয় খাবার রাখুন প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকায়; শাকসবজি, ফলমুল বা উদ্ভিদ জাতীয় খাবারের ভক্ত হয়ে উঠুন।
সবজি পূর্ণ রান্না না করে কেবল সিদ্ধ অন্যথায় কাঁচা খাওয়া উত্তম। ফল ও সবজি কেনার সময় বেশি হৃষ্টপুষ্টটির চেয়ে রুগ্নটি কেনা নিরাপদ। কারণ রুগ্নটি প্রাকৃতিক আর পুষ্টটি অপ্রাকৃতিক বা কেমিক্যালযুক্ত হতে পারে; অধিকাংশ ক্ষেত্রে যা ইউরিয়া বা অজৈব সারে উত্পাদিত।
আঁশসমৃদ্ধ খাবারের তালিকায় শাকের মধ্যে রয়েছে কচু শাক, মিষ্টিআলুর শাক, কলমি শাক, পালং শাক, পুদিনা পাতা, পুঁই শাক, মুলা শাক, ডাঁটা শাক, লাউ ও মিষ্টি কুমড়ার আগা-ডগা শাক। সবজির মধ্যে আছে সজিনা, কলার মোচা, ঢেঁড়স, ডাঁটা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি, শিম, পটল, কচু, বেগুন, বরবটি, মটরশুটি। ফলের মধ্যে আছে বেল, পেয়ারা, কতবেল, আমড়া, আতা, নারিকেল ও কালোজাম। এছাড়া গাব, কামরাঙা, পাকা টমেটো, পাকা আম, পাকা কাঁঠাল, আপেল ও আমলকীর মধ্যে মাঝারি পরিমাণে আঁশ থাকে।
এ খাবারগুলো আপনার পাতে নিয়মিত থাকলে অনেক রোগ-বালাই থেকে আপনি সুরক্ষিত হতে পারেন।