গড় রেটিং: 0.0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
|
|
|
|
|
Update : 2012-06-20 06:51:25
|
যুক্তরাষ্ট্রের মানবপাচার প্রতিবেদনে এক ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত ২০১২ সালের মানবপাচার প্রতিবেদনে (ট্র্যাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্ট-টিআইপি রিপোর্ট) বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় পর্যায়ে (টিয়ার টু) উন্নীত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ১৯ জুন ওয়াশিংটন ডিসিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন।
২০১১ সালে ‘মানবপাচার রোধ ও দমন আইন’ পাশ করা এবং চলতি বছরের মে মাসে “মানবপাচার প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা” প্রণয়নসহ বিগত বছরে বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের জন্য বাংলাদেশের অবস্থানের এই উন্নতি।
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এ বছরের টিআইপি প্রতিবেদনের মূল বিষয়বস্তু হলো— “স্বাধীনতার অঙ্গীকার।” এই ধারণাটি মানবপাচারকারীদের শাস্তি প্রদান, যারা পাচারের শিকার তাদের সেবা ও আইনী সহায়তা প্রদান এবং মানবপাচার রোধ করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রতিটি সরকারকে আধুনিক মানবপাচার বিরোধী আইনে ও আন্তর্জাতিক প্রটোকলে সন্নিবিষ্ট দাসত্ব থেকে মুক্তির অঙ্গীকার পালনে উৎসাহিত করে।
মানবপাচারের শিকারদের নিরাপত্তা আইন (ট্রাফিকিং ভিকটিমস প্রটেকশান অ্যাকট- টিভিপিএ)-এর আওতায় টিআইপি প্রতিবেদনটি আধুনিক দাসপ্রথার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সরকারসমূহের লড়াইয়ের প্রচেষ্টার মূল্যায়ন করে। প্রতিবেদনটির দ্বাদশ পর্বে তথা এ বছরের প্রতিবেদনে ১৮৬টি রাষ্ট্র ও অঞ্চলের বিবরণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও এ সকল রাষ্ট্র ও অঞ্চলের অন্যতম।
রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘মানবপাচার রোধ ও দমন আইন’ একটি অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করেন এবং ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সংসদ তা আইন হিসেবে পাশ করে। এই সকল পদক্ষেপ নিশ্চিত করে, সকল ধরনের মানবপাচারের মোকাবেলা করার মতো একাধিক অংশীদার নিয়ে গঠিত একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো বাংলাদেশের রয়েছে। বাংলাদেশের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হবে মানবপাচার প্রতিরোধ, সুরক্ষা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে এই নতুন আইন এবং কর্মপরিকল্পনার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি সুযোগও। মানবপাচার মোকাবেলা করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টাসমূহকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার জোরালোভাবে সমর্থন করে এবং যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) “অ্যাকশনস ফর কমব্যাটিং ট্র্যাফিকিং ইন পারসনস্” (এসিটি) শীর্ষক মানবপাচার বিরোধী কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টার প্রতি সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
এসিটি কর্মসূচি উইনরক ইন্টারন্যাশনালের মতো বেসরকারি অংশীদার সংস্থাগুলোর সাথে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করে, যাতে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণে, মানবপাচারের শিকারদের সুরক্ষা প্রদানে এবং মানবপাচার অপরাধ প্রতিরোধে একটি সমন্বিত কার্যপ্রণালী গড়ে তোলা যায়।
এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে ২০১২ সালের ‘টিআইপি’ প্রতিবেদনে ‘বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট ইংরেজি বিবরণী’ সংযুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট বিবরণীটির বাংলা অনুবাদ শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ওয়েবসাইটের ঠিকানা: http://www.dhaka.usembassy.gov
বিস্তারিত তথ্যের জন্য এবং ২০১২ সালের সম্পূর্ণ মানবপাচার প্রতিবেদন পড়তে www.state.gov/j/tip ওয়েবসাইট পরিদর্শন করুন।