গড় রেটিং: 3.3/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
|
|
|
|
|
Update : 2012-06-17 05:25:03
|
ভারতের প্রথম বাঙ্গালী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন প্রনব মুখার্জীই
দীপক রায়
কে হবেন ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? সত্যিই কি দিল্লীর রাইসিনা হিলসের বাসিন্দা হতে চলেছেন একজন বাঙ্গালী? আপাততঃ এই প্রশ্ন আর অংকের হিসাব নিয়েই মেতে আছে সারা ভারতের সব সংবাদমাধ্যম। রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রনব মুখার্জীর নাম উঠে আসার পরে কোন সংশয় ছিল না। কিন্তু বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর আপত্তির ফলে এখনই নিশ্চিন্তে বলা মুশকিল যে সত্যিই প্রথম কোন বাঙ্গালী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন কিনা। অবশ্য অংকের হিসাবে প্রনব মুখার্জীর রাষ্ট্রপতি হবার সম্ভাবনা প্রবল। আপাততঃ অন্ততঃ ৬০ শতাংশ ভোটে প্রনব বাবু এগিয়ে আছেন। কিন্তু মমতা ব্যানার্জী তা সহজে হতে দেবেন না বলে দিয়েছেন। তিনি পরিষ্কার বলে দিয়েছেন এখনো অনেক খেলা বাকি আছে। ইতিমধ্যেই প্রনব বাবুকে হারানোর জন্য তিনি ফেসবুকে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। যদিও জনসাধারনের ভোটে ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয় না। তবু মমতা ব্যানার্জী কোন খেলা দেখান সেই অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।
কিন্তু প্রনব বাবুকে কেন রাষ্ট্রপতি হতে দিতে চাইছেন না মমতা? একজন বাঙ্গালী হয়ে আরেকজন বাঙ্গালীর এমন সুযোগ নষ্ট করতে কেন উদ্যোগী হলেন মমতা? সবাই জানে মমতাকে ১৯৮৪ সালে প্রথম ভোটে টিকিট দিয়েছিলেন প্রনব বাবু। সবাই জানে প্রনব বাবুর জন্যেই ২০১১ সালে কংগ্রেস ও তৃনমুলের জোট হয়েছিল এবং মমতা মুখ্যমন্ত্রী হতে পেরেছিলেন। তাহলে ঠিক কি কারনে প্রনব বাবুর রাষ্ট্রপতি হবার পথে প্রধান কাঁটা হয়ে দাড়ালেন মমতা? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বোধ করি স্বয়ং মমতা ব্যানার্জীর দলের লোকেরও অসাধ্য। তবে এর উত্তর একটাই, যেহেতু তিনি মমতা ব্যানার্জী, সেহেতু তিনি সব কিছুই পারেন। তার ইচ্ছা হয়েছে, তাই তিনি প্রনব বাবুকে রাষ্ট্রপতি হতে দেবেন না। তাতে তার বদনাম হবে কিনা, জোট ভেঙ্গে যাবে কিনা, দলের ক্ষতি হবে কিনা- এসব নিয়ে তার কোন মাথাব্যাথা আছে বলে মনে হয় না।
আসলে ভারতে মমতা ব্যানার্জী একমাত্র রাজনীতিক, যিনি কোনদিন কোন পদে কোনদিন পুরো মেয়াদ থাকেননি। মাঝপথে পদ ছেড়ে বেরিয়ে আসা তার পঁচিশ বছরের অভ্যাস। তিনি ভারতের প্রায় সব দলের সাথে প্রত্যক্ষ্য বা পরোক্ষভাবে জোট গড়েছেন এবং ভেঙ্গেছেন। কংগ্রেসে তার জন্ম। সেখানে মন্ত্রী হলেন এবং পদত্যাগ করলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে প্রথমে একা তৃনমুল গড়লেন। তারপরে বিজেপি-বিশ্ব হিন্দু পরিষদ-শিবসেনার সাথে জোট গড়লেন। সেখানেও মন্ত্রী হলেন এবং পদত্যাগ করলেন। আবার তাদের ছেড়ে দিয়ে গেলেন কংগ্রেসের সাথে। আবার হলেন মন্ত্রী। আবার পদত্যাগ। সেখান থেকে আবার বিজেপির সাথে। আবার হলেন মন্ত্রী। আবারো পদত্যাগ। আবার তাদের ছেড়ে দিয়ে হাত মেলালেন কংগ্রেস, কামতাপুরী, ঝাড়খন্ডী, গোর্খা, মাওবাদী, সিদ্দিকুল্লা, এসইউসি কমিউনিষ্ট, নকশাল ইত্যাদি হাজারো দলের সাথে। আবার মন্ত্রী হয়েই বিধানসভায় জিতে মন্ত্রীত্ত্ব ত্যাগ করে হলেন মুখ্যমন্ত্রী। আবার ক্ষমতায় আসার পরে পরেই প্রায় সবার সাথেই বিচ্ছেদ শুরু হল। ইতিমধ্যেই প্রায় সব দল তাকে ছেড়ে দিয়েছে। আনুষ্ঠানিক ভাবে কংগ্রেস এখনো আছে। তবে সেই জোট আর যে থাকছে না বলাই বাহুল্য। যে কোন সময় জোট সরকারী ভাবে ভাঙ্গা শুধু সময়ের অপেক্ষা।
আসলে মমতা ব্যানার্জী নিজে বাঙ্গালীদের সেরা হতে চান। তিনি চান না তার থেকে উচ্চপদে আর কোন বাঙ্গালী থাকুক। আমেরিকার টাইম ম্যাগাজিন তাকে সেরা ১০০ ক্ষমতাবান বাঙ্গালীতে স্থান দিয়েছে। তিনি জ্যোতি বসুকে ছাপিয়ে যেতে চান। তাই তিনি অবলীলায় বলে যেতে পারেন জ্যোতি বসু এই বাংলার জন্য কিচ্ছু করেননি। যা করেছেন গত একবছরে তিনিই করেছেন। এমনকি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেন বাঙ্গালী দেশবাসীর কাছে সেরা না হতে পারেন, তাই তিনি তিস্তা চুক্তি, ট্রানজিট চুক্তি বাতিল করলেন অবলীলায়। এতে দুই বাংলার আপামর বাঙ্গালী অখুশি হলেও তার কিছু যায় আসে না। তাই তিনি কোনকালেই প্রনব বাবুকে রাষ্ট্রপতি হতে দেবেন না অতি সহজে।
কিন্তু, তিনি বিজেপির সাহায্য নিলেও প্রনব বাবুকে ঠেকাতে পারবেন না। কারন কংগ্রেস সরকারের সব শরিক দল, সব বামপন্থী দল, বিভিন্ন সমাজবাদী দল প্রনব বাবুকে ভোট দেবেই। ফলে যতই মমতা ফেসবুকে ফেস দেখান আর প্রচার চালান না কেন, ভারতের আগামী রাষ্ট্রপতি হবেন অবশ্যই প্রনব মুখার্জী। বিশ্বের বৃহত্তম গনতান্ত্রিক দেশ ভারতের প্রথম বাঙ্গালী রাষ্ট্রপতি হবেনই প্রনব মুখার্জীই। মমতা ব্যানার্জীর কোন খেলাই তাতে ধোপে টিকবে না বলাই বাহুল্য। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।