গড় রেটিং: 2.4/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
|
|
|
|
|
Update : 2012-05-20 03:00:50
|
বিএনপি বাহরাইন বৈদেশিক শাখার জরুরী সভা
রফিক আকন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং এর অঙ্গসংগঠন এর নেতৃবৃন্দ বাহরাইন বৈদেশিক শাখা কর্তৃক আয়োজিত এক জরুরী সভার আয়োজন করে । সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সম্মানিত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ সাবে হেসেন।
উক্ত সভায় সকল বক্তার বক্তব্যে নিম্মলিখিত দাবীসমূহ উত্থাপিত হয় :
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ সিনিয়র নেতুবৃন্দ এবং ১৮ দলের শরিক সিনিয়র নেতৃবৃন্দদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ডুকানোর জোর প্রতিবাদ জানানো হয়। দেশের এই সঙ্কটময় মুহুর্তে জেগে উঠো বাংলার সংগ্রামী জনতা খালেদা জিয়ার সরকার - এই মূহুর্তে দরকার যতদিন পর্যন্ত আমাদের ধমনীতে বইবে জিয়ার আদর্শের রক্ত ততোদিন আওয়ামী বাকশাল কায়েমের স্বপ্ন ,বাংলার মাটিতে বাস্তবায়ন হতে দিব না বলে উল্লেখ করেন। ফ্যাসিষ্ট ও মধ্যযুগীয় কায়দায় যে সরকার দেশ চালাতে চেষ্টা করেছে ইতিহাস তাদের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেছে। আর এটাই বাস্তব ইতিহাস।দেশের মানুষ যখন দুঃশাসনে অস্থির,ক্ষোপে,কষ্টে নির্যাতনে তারা যখন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে,নির্বাচনী প্রতিশ্রতি বাস্তবায়নে সরকারকে চাপ দিচ্ছে ,বিদ্যুৎ নাই,দাবদাহে প্রাণ ওষ্ঠাগত, লোড শেডিং চলছে ঘন্টার পর ঘন্টা কোথাও দিনরাত মিলিয়ে ২/১ ঘন্টার জন্যও বিদ্যুৎ মিলছে না। পানি নাই,গ্যাস এর অভাবে রান্না বন্ধ,হ্যারিক্যান,কুপি,কলসি-পাতিল নিয়ে মিছিলে অংশ নিচ্ছে । সাধারণ মানুষের মুখে আওয়াজ একটাই-ঘরে থাকলে খুন, বাইরে গেলে গুম। ঘরের মধ্যে সাগর-রুনিসহ একের পর এক আলোচিত হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বিচার নেই খুনিরা পাচ্ছে বিশেষ প্রশ্রয় । জনপ্রিয় বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলি গুম হওয়ার পর, খুন, অপহরন এ মুহুর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত ডিনামাইট ইস্যু, কিন্তু খোঁজ মিলছেনা নিখোঁজ মানুষেদের। আশুলিয়া,শীতলক্ষ্যাসহ দেশের আনাচে কানাচে,নদীতে,খালে ,ডোবায় মিলছে অসংখ্য অজ্ঞাত লাশ, কোথাও শুধুই কঙ্কাল। সাধারন নাগরিকের উপর পুলিশের নির্যাতন, গুম, গুপ্তহত্যা চাঞ্চল্যকর ও জঘন্য অপরাধের তদন্ত এবং বিচার না হওয়া, ক্ষমতাসীন দল সংশ্লিষ্টদের দখল বাণিজ্য, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীদের শ্লীলতাহানি,সরকারী দফতর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চপর্যায়ে ব্যক্তিদের দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়া, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি এবং দেশজুড়ে বিদ্যুত সঙ্কট ও নগরে সুপেফ পানির ব্যবস্থা না হওয়া এসবের কোনো না কোনোটির সমাধানের দাবি করে বিভিন্ন সংগঠন ও ভুক্তভোগীরা প্রতিদিনই ক্ষোপ বিক্ষোপ চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল রাজধানীবাসী দেখেছেন সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বেসরকারী প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে মিছিল ও বিক্ষোভ। আমরা লক্ষ্য করেছি সেই ন্যায্য দাবী আদায়ের মিছিলে সন্ত্রাশী ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনী ও পেটুয়াপুলিশ বাহিনীকে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার লেলিয়ে দিয়ে নিরিহ জনগণের উপর পুলিশের লাঠিপেটা এবং জলকামান ব্যবহার সব মিলিয়ে বাংলাদেশ পরিনত হয়েছে বিক্ষোভের দেশে। দেশের এই সঙ্কটময় মুহূর্তে সুশীল সমাজ নিশ্চুপ দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতাদের জেলে ঢুকানোর চেষ্টা ,সম্মানিত শিক্ষকদের উপর লাঠিচার্জ,ইলিয়াছ আলীর মত জনপ্রিয় নেতাদের গুম করাসহ বিভিন্ন নির্যাতন ও অত্যাচারে অতিষ্ট বাংলার জনগণ। আওয়ামী বর্বরতাকে আর মেনে নেওয়া যায় না এবং এই সভায় বাকশালী ও ফ্যাসিবাদীকর্মকান্ডকে প্রতিহত করে এবং অবিলম্ভে আটককৃত নেতৃবৃন্দদেরকে নিঃশর্তে মুক্তি দিয়ে দেশ ও মানুষ বাঁচাতে বাহরাইন বি.এন.পি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রবাসের গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ওদের হিংস্রতা তুলে ধরে সারা বিশ্বে এ সরকার বয়কটের আন্দোলন শুরু হবে বলে নেতা কর্মীরা মনে করেন। বি.এন.পি এর নেতৃবৃন্দ বলেন বিরোধী দলীয় রাজনীতিবিদদের উপর জেল, জুলুম অমানবিক নির্যাতন ও দেশের জনগনের জানমালের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থতার দায়ভার স্বীকার করে অবিলম্ভে পদত্যাগ করে এবং অবিলম্ভে নির্দোলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।