গড় রেটিং: 1.2/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
|
|
|
|
|
Update : 2012-04-30 08:19:42
|
মাস্কটে আরেক ‘ধোলাইখাল’
শেখ শাহরিয়ার জামান
ঢাকা, এপ্রিল ৩০ - তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশ ওমানের রাজধানী মাস্কটে হালকা প্রকৌশল খাতের কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠান চলছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মালিকানায়।
ওমান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চার লাখেরও বেশি বাংলাদেশি সেখানে বসবাস করছেন।
আর প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, মাস্কটে একশ’ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে মাবেলা শিল্পাঞ্চলে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ভালো ব্যবসা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন ২০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি।
মাবেলা শিল্পাঞ্চলে কর্মরত বাংলাদেশিরা জানান, গত তিন বছর ধরে ওমানে হালকা প্রকৌশল খাত অনেকটা বিকশিত হয়েছে। আর ঢাকার ধোলাইখালের মতোই মাস্কটেও হালকা প্রকৌশল ও খুচরা যন্ত্রাংশের ব্যবসায় উন্নতি করছেন বাংলাদেশি কর্মী ও উদ্যোক্তরা।
বাংলাদেশি দুই ভাই রেজাউল করিম ও জসিম উদ্দিন একটি ইস্পাত কারখানা চালান এই মাবেলা শিল্পাঞ্চলে। ৩৫ জন বাংলাদেশি ও দুই জন ভারতীয় কাজ করছেন তাদের এই কারখানায়।
বড় ভাই করিম বলেন, “১৯৭৯ সালে আমি প্রথম মাস্কটে আসি এবং দুই মাস পর মাসিক ৩৬ ওমানি রিয়াল (এক রিয়ালে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২১০ টাকা) বেতনে একটি চাকরি নেই।”
১৯৮৫ সালে কফি শপের ব্যবসা শুরুর জন্য ৩১ বছর বয়সে চাকরি ছেড়ে দেন তিনি।
করিম বলেন, “এখন ইস্পাতের ওয়ার্কশপ থেকে আমার মাসে আয় হয় তিন লাখ রিয়াল। এছাড়া আমার আরো দুটো শো রুম আছে যেগুলো থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ ৬০ হাজার রিয়াল আসে।”
“শুরুতে পরিস্থিতি খুব কঠিন ছিল। কিন্তু মনোবল ও সাহস নিয়ে আমি কঠোর পরিশ্রম করে এগিয়ে গেছি। অবশেষে সফলতা পেয়েছি”, বলেন তিনি।
১৯৯১ সালে বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন কাঁচামাল সরবরাহের ব্যবসা শুরু করেন করিম। ১৯৯৬ সালে আসবাবপত্রের একটি দোকান খোলেন। এর পরের শো রুমটি খোলেন তার দুই বছর পর।
তার ছোটো ভাই জসিম ১৯৮৮ সালে মাস্কটে এসে ব্যবসায় সহযোগিতা শুরু করেন। এই পরিবারের সবাই এখন ওমানে। ছেলে-মেয়েরা সেখানে হয় লেখাপড়া করছে, নয়তো ব্যবসায় সহযোগিতা করছে।
“২০০৬ সালে আমরা খুচরা যন্ত্রাংশের ব্যবসা শুরুর পর এক বছরের মাথায় রয়্যাল ওমান পুলিশকে ইস্পাত সরবরাহের একটি কার্যাদেশ পাই। তারপর থেকে আমাদের আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি”, বলেন জসিম।
এই দুই ভাই মনে করেন, ওমানিদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এখানে ব্যবসা করার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
“সবাই মনে করে যে, আমরা শুধু শ্রমিকের মতো কাজ করতে পারি এবং যখন আমরা নিজেদের ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিই তখন অনেকেই অবাক হয়,” বলেন করিম।
মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশে বাংলাদেশিদের জন্য কাজের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
জসিম বলেন, ওমানে যাওয়ার আগে বাংলাদেশিদের একটি কর্মশালা করানো উচিত।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি গত ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল ওমান সফর করেন।
করিম মনে করেন প্রধানমন্ত্রীসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও সেখানে সফর করা উচিৎ, কারণ এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হবে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য তা সহায়ক হবে।
মাস্কটে বসবাসরত বাংলাদেশিরা জানান, মাত্র ৪০ লাখ মানুষের দেশ ওমানের রয়েছে বি¯তৃত জমি, যা চাষের আওতায় আনা সম্ভব। তিন লাখ নয় হাজার পাঁচশ’ বর্গকিলোমিটারের এ দেশটি আয়তনে বাংলাদেশের প্রায় তিনগুণ।