গড় রেটিং: 3.2/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
|
|
|
|
|
Update : 2012-04-24 05:21:30
|
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের নামে প্রতারণা!
ফজলুল বারী
সিডনিভিত্তিক স্বনামখ্যাত অভিবাসন আইনজীবী ডেভিড বিটেলের নাম ভাঙ্গিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের নামে প্রতারণা করছে বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে বাংলাদেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা ও আলোচনা করে প্রতিকার চাইতে ঢাকা যাচ্ছেন ডেভিড।
এ ব্যাপারে বিটেলের ল’ ফার্ম প্যারিস পেটিয়্যান্স ইমিগ্রেশন ল’ইয়ার্স’র পক্ষ থেকে বাংলানিউজকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে তাদের কোনো এজেন্ট বা প্রতিনিধি নেই। এরপরও কিছু প্রতারক প্রতিষ্ঠান ডেভিডের নাম ব্যবহার করে ঢাকার বিভিন্ন দৈনিকে বিজ্ঞাপন দিয়ে লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এরা অস্ট্রেলিয়ান অভিবাসন আইন সম্পর্কে নানা ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে লোকজনকে ঠকাচ্ছে। এমন বেশ কিছু অভিযোগ পেয়ে তারা বিব্রত।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এসব কারণেই ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করতে, প্রতারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে সতর্ক করতে ও আইনগত প্রতিকার পেতে ঢাকা যাচ্ছেন ডেভিড।
আগামী ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকায় থাকবেন তিনি। সর্বশেষ পহেলা ফেব্রুয়ারি’২০১২ থেকে ডেভিডের নামে কোনো প্রতারক প্রতিষ্ঠানকে কেউ কোনো টাকা দিয়ে থাকলে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণসহ তারা এই সুযোগে তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। ডেভিড এমন ক্ষতিগ্রস্ত কারও আর্থিক ক্ষতির দায়দায়িত্ব নেবেন না। তবে আইনগত পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করবেন।
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনসহ সবকিছুই কঠোর আইন মেনে চলে। আইনের বাইরে গিয়ে টাকা বা অন্য কোনো প্রভাবে এ দেশে অভিবাসন বা অন্য কোনো বিষয়ে কোনো সুযোগ পাওয়া সম্ভব নয়।
আগামী পহেলা জুলাই থেকে দক্ষ জনশক্তির জন্য অস্ট্রেলিয়ায় নতুন অভিবাসন নীতি চালু হচ্ছে। বাংলাদেশে থেকে প্রকৌশলী ও আইটি প্রফেশনালদের এর সুযোগ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে এমন প্রার্থীদের কমপক্ষে দুই বছরের কাজের অভিজ্ঞতা এবং আইএলটিএস’র সব ব্যান্ডে অবশ্যই ৭ স্কোর থাকতে হবে। এমন যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীরাও এই সুযোগে তাদের আবেদন প্রসেসিং’র জন্য দেখা করতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে পড়াশুনা, ব্যবসা অথবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে অস্ট্রেলিয়া আসতে চান, তারাও এই সুযোগে ডেভিডের পরামর্শ নিতে পারবেন।
ডেভিডের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য আগামী ২৫ এপ্রিলের পর তার সেক্রেটারি গোলাম মোস্তফার সঙ্গে ০১৭১৯২৫০৮১৪ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। বাংলাদেশি গোলাম মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে ডেভিডের সেক্রেটারি হিসেবে তার সিডনি অফিসে কাজ করছেন। rsms2012@ppilaw.com.au ঠিকানায় ই-মেইল পাঠিয়েও অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা যেতে পারে। তবে অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য কনসালটেশন ফি হিসাবে ১৫০০ টাকা জমা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, ডেভিড বিটেল অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে বিশেষ পরিচিত, ঘনিষ্ঠ একটি নাম। বাংলাদেশের অনেক মানুষ এদেশে তার মাধ্যমেই অভিবাসন পেয়েছেন। সিডনিভিত্তিক বাংলাদেশি বাঙালিদের নানা কর্মসূচিতেও ডেভিড প্রায় একটি অনিবার্য নাম। অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির প্রভাবশালী সদস্য হওয়াতে বাংলাদেশ থেকে কোনো সামাজিক-রাজনৈতিক অতিথি অস্ট্রলিয়া সফরে এলে এদেশের মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে সাক্ষাতেও ডেভিডের সাহায্য নেওয়া হয়। বাংলাদেশে অনেক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গেও তার ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও এর আগে তার সাক্ষাৎ হয়েছে। ডেভিডের সিডনির অফিসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সাক্ষাতের ছবি রয়েছে। অভিবাসন আইনে একজন বিশেষজ্ঞ আইনজীবী হিসাবে ১৯৭৬ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার নিউসাউথ ওয়েলস রাজ্যের সুপ্রিমকোর্ট, হাইকোর্টের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। শরণার্থী অভিবাসন আইনে তার বিশেষ দক্ষতা আছে। ১৯৯৫-২০০৫ পর্যন্ত তিনি রিফিউজি কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ছিলেন। ১৯৯৮ থেকে তিনি অস্ট্রেলিয়ান রিফিউজি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং রিফিউজি অ্যাডভাইস অ্যান্ড কেসওয়ার্ক সার্ভিসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি ইমিগ্রেশন অ্যাডভাইস অ্যান্ড রাইট সেন্টার (IARC), দ্য অ্যান্ড লেসবিহান টাস্ক ফোর্স(GLITF) এবং দ্য অস্ট্রেলিয়ান ফোরাম অব হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন্স(AFHRO)’এর চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন তিনি ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্ট’র অস্ট্রেলিয়া সেকশনের সেক্রেটারি জেনারেল এবং মাইগ্রেশন ইন্সটিটিউট অব অস্ট্রেলিয়ার সদস্য। ডেভিডের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে তার ওয়েবসাইট www.ppilaw.com.au ঠিকানায় খোঁজ নেওয়া যেতে পারে।