গড় রেটিং: 1.2/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
|
|
|
|
|
Update : 2012-04-16 06:05:35
|
জাপানে বিসিআইজে এর নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ সভা
জাকির হোসেন মাসুম
গত ৭ই এপ্রিল শনিবার অপরাহ্নে টোকিও আকাবানে বুংঙ্কা কাইকানে বাংলাদেশ
চেম্বার অফ কমার্সে এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ইন জাপান (বিসিসিআইজে) এর এক সাধারণ
সভা অনুষ্ঠিত হয়। চেম্বার এর বর্তমান আহব্বায়ক জনাব জিয়াউল ইসলামের
সভাপতিত্বে খুব স্বল্প সংখ্যক সাধারণ সদস্যের উপস্থিতি সকলকে হতাশ করে
বেআইনিভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আসন্ন নির্বাচন কে সামনে
রেখে এই সভা কে ঘিরে যে ধরনের প্রস্তুতি হবার কথা ছিল তার তেমন কোনো কিছুই
লক্ষ্য করা যায়নি। সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে আলোচনা সভাটি আরম্ভ হয়। এতে
বর্তমান কার্য্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,
জনাব রফিক উদ্দিন ফরাজী,সনি সরয়ার, কাজী এনামুল হক এবং সুখেন ব্রক্ষ্ম ।
এছাড়া সাধারণ সদস্যের মধ্যে বাদল চাকলাদার, এস নান্নু, নুর আলী, মীর রেজা,
দেলওয়ার হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, সানাউল হক, ইসলাম সরদার, কাজী সরওয়ার ড.
মাসুম এবং আব্দুল আজিজ ।
সভার শুরুতে জনাব জিয়াউল ইসলাম তার বক্তব্যে
বলেন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ যদিও ৬ মাস ছিল কিন্তু তার পরও নানা কারণে
অধ্যবদি প্রায় ৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি, তাই আমরা আর
কালক্ষেপন না করে খুব শিগ্রই এই নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত এবং
নির্বাচিত কমিটির নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে চেম্বার কে আরো গতিশীল করার
জন্য প্রস্তুত। ইতিপূর্বে এই নির্বাচন কে সামনে রেখে আমরা নির্বাচনী তফশীল ও
তারিখ ঘোষণা করেছিলাম, কিন্তু বাংলাদেশ এমবাসি থেকে আমাদেরকে সেই নির্বাচন
তাদের তত্ত্বাবধানে করা সম্ভব নয় বলে জানানোর পর আমাদের অনেক সদস্যের কাছ
থেকে হতাশা ব্যাক্ত করা হয় এবং প্রয়োজনে এমবাসি বাদ দিয়ে একটি নিরপেক্ষ
নির্বাচন করার তাগিদ দেন। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সকল সাধারণ
সদস্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এমবাসি বাদ দিয়েই আগামী নির্বাচন
করার জন্য প্রস্তুতি নিতে চাচ্ছি। এর পর সাধারণ সদস্যের মধ্য থেকে জনাব
বাদল চাকলাদার বলেন, বর্তমান কার্য্যনির্বাহী কমিটির প্রয়োজনীয় লোকবল নেই।
একটি সুন্দর ও স্বার্থক নির্বাচনের জন্য কমিটির শুন্য পদ গুলো পূর্ণ করার
প্রতি তিনি ইঙ্গিত দেন এবং সেটা বর্তমান কমিটির বৈঠক এর মাধ্যমে হতে পারে
বলেও মতামত দেন। পরে মীর রেজা তার বক্তব্যে তিনি নিজেদেরকে অশিক্ষিত বলে
সম্বোধন করে বলেন, তখন যারা শিক্ষিত সেজেছিল তারা আজ কোথায়? এদেরকে ভাড়া
করে এনে এধরনের বিভ্রান্তি মূলক বক্তব্য দিয়ে একটা বিশেষ মহল ফায়দা লুটতে
চায়।
জনাব সানাউল হক তার বক্তব্যে সবার সাথে একমত পোষণ করে বলেন, আমরা
আসলে একটি সুন্দর চেম্বার চাই যাতে করে আমরা আমাদের মূল লক্ষ্যে অর্জন করতে
পারি আমরা চাই সবার সমন্নয়ে একটি স্বার্থক নির্বাচন যাতে করে এই চেম্বার
আরো শক্তিশালী হয়। জনাব আব্দুল আজিজ প্রথমে উপস্থিত সদস্যের সংখ্যা নিয়ে
হতাশা ব্যাক্ত করে বলেন নির্বাচনের মত একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে
আরো ব্যপক সংখ্যক সদস্যের উপস্থতি জরুরি নাহলে এটা প্রশ্ন বোধক হবে এবং
চেম্বার এর মূল উদ্দেশ্য ব্যহত হবে তাই পুনরায় সভা আহব্বান করা যেতে পারে।
সভার
সবশেষে জনাব জিয়াউল ইসলাম সভায় উপস্থিত কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের ইঙ্গিতে
সপ্তাহিক কর্ম দিবসে অর্থাৎ আগামী ২৫ থেকে ২৯ জুনের যেকোনো একদিন
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ভোটার তালিকা আগামী ৩১ এই মের মধ্যে হালনাগাদ
করার ঘোষণা দেন। আসলে এই সভার কোনো কোরাম পূর্ণ হয়নি তাই এখানে গৃহীত
যেকোনো সিদ্বান্ত অবৈধ বলে বিবেচিত কারণ বিসিসিআইজে এর সাধারণ সদস্যের
সংখ্যা ১৮১। নিয়ম মোতাবেক সাধারণ সভা করতে হলে কমপক্ষে ৯২ জন অর্থাৎ
সংখ্যাগরিষ্ঠ সদ্যসের উপস্থিতি ছাড়া কোনো সিদ্বান্ত নেওয়া আইন সম্মত হবেনা
বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। তার পর এত অল্প সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে কিভাবে
নির্বাচনের
মত একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্বান্ত গ্রহণ করা হয় সেটা শুনে অনেক সাধারণ সদস্য
হতবাক হন এবং বর্তমান কমিটির মধ্যে অনেককে দালাল হিসেবে চিহ্নিত করেন।
একটা
বিশাল অংশের অনুপস্থিতির জন্য এই চক্রটি দায়ী বলে সেদিন অনুপস্থিত সদস্য
দের অনেকই এই মতপোষণ করেন। এত গুরুত্বপূর্ণ একটা সভায় মাত্র ৮ জন সাধারণ
সদস্য এবং ৫ জন কার্য্যকরী কমিটির সদস্যের এমনকি একটা একটা রাজনৈতিক দলের
বিশেষ কয়েকজন ব্যাক্তি ছাড়া আর তেমন কাউকে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি। এছাড়া
সেই রাজনৈতিক দলের বহিরাগত ২ জন সদস্য সার্বক্ষণিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ
দৃষ্টিকটু এবং বেআইনি ছিল। এর পূর্বে একই অজুহাতে অন্যদুজনকে সভা থেকে বের
করে দেওয়া হয়। এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা আসলে এই চেম্বারের ভবিষ্যত অনুমেয়
এবং প্রশ্নবোধক করে তুলবে বলে আশংখা করা হয়।একটা সুন্দর চেম্বার সবাই চায়
কিন্তু কোথায় যেন আমাদের মাঝে একটা অমিল খুঁজে পাওয়া যায়। নির্বাচন হলে
একপক্ষ হারবে আর একপক্ষ জিতবেন এটাই স্বাভাবিক কিন্তু আমরা কেন প্রবাসের
এসেও এধরনের মানসিকতা থেকে বের হতে পারছিনা? আমরা যদি ক্ষুদ্র স্বার্থ
ত্যাগ করতে না পারি তাহলে কিভাবে বৃহত্তর স্বার্থ সফল হবে? আসলে যেই সুন্দর
লক্ষ নিয়ে একটি চেম্বারের জন্ম হয়েছিল সাবেক রাষ্ট্রদূত জনাব
অশ্রাফুদ্দৌলা হাত দিয়ে আজ থেকে প্রায় ৫ বছর পূর্বে তার বাস্তবায়ন কতটুকু
হয়েছে তা খোজার জন্য আমরা হয়ত আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে হয়ত
বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।