গড় রেটিং: 3.8/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
|
|
|
|
|
Update : 2012-04-11 12:27:18
|
টোকিও বৈশাখী মেলা
সানাউল হক
বাংলা বছরের শুরু হয় বৈশাখ মাস দিয়ে। পৃথিবীর যেখানেই বাঙালী আছে, সেখানেই উৎসব আছে। তবে টোকিও বৈশাখী মেলা এবং বাংলাদেশ যেন এক সুঁতোয় বাঁধা। বৈশাখ এলেই জাপান প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে নতুন করে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসে। সবার হৃদয়ে নতুন করে সজীবতা আসে। বৈশাখের উৎসবকে কেন্দ্র করে সবাই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ভাবে নানারকম প্রস্তুতি নেয়। উৎফুল্ল চিত্তে সবাই বাঙালীয়ানার সরব মিছিলে শরীক হয়। আবহমান বাঙালী খাবার, বাঙালী পোশাক ও বাঙালী সংস্কৃতিকে প্রদর্শন এবং চর্চার মাধ্যমে ভিনদেশে নিজের সংস্কৃতিকে তুলে ধরে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশীরা।
টোকিও প্রবাসী বাঙালী ও বাংলাদেশীদের সর্ববৃহৎ মিলনমেলা এ বৈশাখী মেলা। টোকিও বৈশাখী মেলায় দল মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের অংশগ্রহণের ফলে জাপান একটি সার্বজনীন অনুষ্ঠানে রঙিন হয়; যা অন্য কোন ভাষাভাষীদের মধ্যে বিরল। টোকিও বৈশাখী মেলা জাপান প্রবাসী সকল বাংলাদেশীদের একটি বিন্দুতে একতার মেলবন্ধনে আবদ্ধ করে এবং আলোচিত কোন ইস্যুতে সার্বজনীন মতৈক্যের ভিত্তিতে গঠনমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জাপান বৈশাখী মেলা একযুগ পেরিয়ে এখন নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছে। টোকিও বৈশাখী মেলার শুরু থেকেই একদল বাংলাদেশী তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত মেলার সাফল্য ধরে রেখেছেন। এ মেলার সফল উদ্যোক্তা হিসেবে ‘জাপান বাংলাদেশ সোসাইটি’ ( JBS ) কালের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।
প্রতি বছরই মেলা অনেকগুলো ইভেন্ট নিয়ে সাজানো হয়। কারি ফেস্টিভ্যাল, বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি, স্মৃতিচারণ, ছোটদের জন্য অনুষ্ঠান, স্টেজ প্রোগ্রাম, ছড়া, নাচ আর গান তো থাকেই। এক্ষেত্রে বিশেষ আকর্ষণ বাংলাদেশ থেকে আগত শিল্পীবৃন্দ- বাংলা গানের মাধ্যমে যারা বাংলা ভাষাকে ছড়িয়ে দেন জাপানের ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মাঝে। এছাড়াও জাপান-বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বিভিন্ন মতবিনিময় সভা ও ফ্রি মেডিক্যাল চেক আপ এর ব্যবস্থা থাকে।
গত বছর বৈশাখী অনুষ্ঠানের কিছুদিন পূর্বে জাপানে ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ভয়াবহ সুনামী হয়। এতে বহু লোকের প্রাণহানী ঘটে। এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশীরা জাপান সরকার ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ায়। ব্যক্তিগত ও দলগত ভাবে বাংলাদেশীদের ত্রাণ তৎতপরতায় উল্লেখযোগ্য অর্থ সহায়তা প্রদান করে প্রবাসী বাংলাদেশীরা। আর এ উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে টোকিও বৈশাখী মেলা।
সহযোগিতার ক্ষেত্রে জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। এক্ষেত্রে বাংলাদেশেরই জাপানের উপর নির্ভরশীলতা বেশি ছিল। কিন্তু সময় পাল্টেছে। আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে জাপানের অকৃত্রিম বন্ধু দেশ হিসেবে এখন যে নামটি উচ্চারিত হচ্ছে, তা হলো বাংলাদেশ। গত বছর দ্বাদশ টোকিও বৈশাখী মেলায় ভূমিকম্প ও সুনামীতে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে সংগৃহীত অনুদান ১০ লক্ষ ইয়েন। মেলা প্রাঙ্গণ থেকে সংগৃহীত আর্থিক অনুদান এর পরিমাণ ছিল ৮ লক্ষ ২১ হাজার ৬১৭ ইয়েন। এর সাথে মেলা কমিটি আরো ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ৩৮৩ ইয়েন যোগ করে মোট ১০ লক্ষ ইয়েনে বৃদ্ধি করে। মেলা থেকে সংগৃহীত এবং মেলা কমিটির ফান্ড মিলিয়ে মোট ১০ লক্ষ ইয়েন দান করে। এ সহায়তার খবর জাপানের প্রথম সারির ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ভূয়শী প্রশংসা লাভ করে।