গড় রেটিং: 2.7/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
|
|
|
|
|
Update : 2012-03-08 12:20:39
|
জ্যামাইকার বইমেলা প্রবাসীদের জাতীয় উৎসব করার আহ্বান
নিউ ইয়র্ক, ৮ মার্চ- উত্তর আমেরিকার বইমেলাকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাঙালিদের জাতীয় উৎসবে পরিণত করার জন্য প্রবাসী বাঙালিদের সহযোগিতা এবং বাংলা সংবাদ মাধ্যমগুলোকে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও প্রথম বইমেলার উদ্বোধক জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত।
গত ৭ মার্চ রাত ৮টায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বাংলা সংবাদ মাধ্যমের সম্পাদকদের সাথে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ড. দত্ত উপরোক্ত মন্তব্য করেন। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলা ২০১২ সালের আহ্বায়ক নাসিমুন নাহার নিনি, প্রখ্যাত কলামিস্ট হাসান ফেরদৌস এবং গত বইমেলার আহ্বায়ক সউদ চৌধুরী এবং মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিশ্বজিত সাহা বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, আগামী ২৯, ৩০ জুন ও ১ জুলাই জ্যামাইকার ১৮২ স্ট্রিটের সুসান অ্যান্থনী হাইস্কুল মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে।
ব্যাপক সংখ্যক সম্পাদক ও সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে ড. জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত আরো বলেন, বাংলা একাডেমীর বইমেলাও শুরু হয় অতি ক্ষুদ্রাকারে, আজ সংবাদ মাধ্যমগুলোর ব্যাপক সহযোগিতায় এটি বাঙালিদের প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে এমন কোনো দিন নেই, যেদিন সংবাদপত্রে বইমেলার কোনো খবর নেই বা টেলিভিশনে বইমেলার উপর কোন অনুষ্ঠান নেই। নিউইয়র্কে ১৯৯২ সালে ব্রুকলীন ও কুইন্সের একটি স্কুলে টেবিলে কিছু বই রেখে ক্ষুদ্রাকারে বইমেলা শুরু হয়। প্রবাসী বাঙালিদের সহযোগিতায় আজ এটি একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস সকল প্রবাসী বাঙালির কাছে বইমেলার খবর পৌঁছাতে পারলে এটি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাঙালিদের প্রধান উৎসবে পরিণত হবে। আমরা চেষ্টা করবো সুন্দর, গোছানো এবং পর্যাপ্ত বই নিয়ে যাতে বইমেলা ২০১২ সাজাতে পারি।
আহ্বায়ক নাসিমুন নাহার নিনি বলেন, বাঙালির মননের এবং ভালোবাসার অনুষ্ঠান হলো বইমেলা। আমরা চেষ্টা করবো প্রবাসী বাঙালিদের একটি সুন্দর এবং চমৎকার উৎসব উপহার দিতে। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ১৯৯২ সাল থেকে যে কাজটি অতি যত্নে এবং ত্যাগ স্বীকার করে বইমেলার ২০ বছর অতিক্রম করেছে তা প্রশংসনীয়। আমরা বইমেলাকে আরো সর্বস্তরের মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চাই। তার জন্য প্রয়োজন সকল প্রবাসী বাঙালির সহযোগিতা।
কলামিস্ট হাসান ফেরদৌস তার বক্তব্যে বলেন, চারদিকে বই, নতুন পুরাতন ব্ইয়ের গন্ধ, আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন, মুগ্ধ। আমেরিকায় বইমেলা এবং বইমেলা নিয়ে আজ যেখানে বসে কথা বলছি, এটি আমার জন্য বিশেষ আনন্দের। মুক্তধারা আমাদেরকে অনেক দিয়েছে, আমাদের নিয়মিত বই দিয়ে আসছে, বইমেলার মত একটি কঠিন আয়োজন ২০ বছর ধরে করে আসছে। আমি উত্তর আমেরিকা বইমেলার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল ও সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
গত বছরের আহ্বায়ক সউদ চৌধুরী বলেন, বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। আমরা সকল শ্রেণীর মানুষকে এই মেলায় যুক্ত করতে চাই এবং সেভাবে আগামী মাসগুলোতে কাজ করে যাবো।
মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিশ্বজিত সাহা স্বাগত বক্তব্যে আমেরিকার বাংলা সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতি এবং প্রবাসী বাঙালিদের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করেন এবং ২০১২ সালের বইমেলা ও বাংলা উৎসবকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য সকলের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানান।
বিভিন্ন বক্তব্য ছাড়াও প্রশ্ন-উত্তর পর্বে পৃথিবীর আলো পত্রিকার সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের, প্রথম আলোর আমেরিকা প্রতিনিধি ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন, আমার দেশ এর আমেরিকা প্রতিনিধি মঞ্জুর আহেমদ, এনটিভির তাওহীদুল ইসলাম, আজকালের প্রকাশক জাকারিয়া মাসুদ জিকো, আজকাল সম্পাদক আহমেদ মুসা, ভয়েস অব আমেরিকার জাকিয়া খানসহ আরো অনেক সাংবাদিক ও সম্পাদক অংশ্রগহণ করেন।