গড় রেটিং: 2.5/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
|
|
|
|
|
Update : 2012-03-05 11:12:16
|
ইন্দোনেশিয়ার সফল ই-ডিজাইনার মোহাম্মদ রায়হান মজুমদার
রায়হান নিজেকে বলেন ডিজিটাল কারুশিল্পী। যাকে আমরা ই-ডিজাইনার (ডিজিটাল আর্টিস্ট) বলে জানি। মোহাম্মদ রায়হান মজুমদার থাকেন ইন্দোনেশিয়ার ইয়ুগইয়াকারতা শহবে। সেখানে তিনি অ্যাডভারটাইজিং ডিজাইন হাউজ এর ব্যবসা করছেন। ই-ডিজাইনের ক্ষেত্রে তিনি বেশ নাম কুড়িয়েছেন। প্রবাসের মাটিতে এই পরিচিতির পেছনে আছে তার প্রতিভা, সাধনা ও উচ্চাকাঙ্খা। সদালাপী ও বিনয়ী স্বভাবের রায়হান আরো অনেক দূরে এগিয়ে যেতে চান।
আত্মীয়-পরিজন আর বন্ধুদের কোলাহলে বেড়ে উঠা রায়হানের ইয়ুগইয়াকারতা শহরে আর কোন বাংলাদেশী নাই। আগে দুই একজন ছিলেন, এখন তারাও নাই। তিনি তাদের ও বাংলাদেশকে মিস করেন।
কুমিল্লায় জন্ম ও বেড়ে উঠা এই শিল্পী ছোটবেলা থেকে ছবি আঁকতেন। ১৯৯২ সালে যখন তিনি ক্লাস সেভেনের ছাত্র সেই সময় থেকে সৌখিনভাবে কাজ শুরু করেন। বিয়ে বাড়ির অলংকরণ, পত্রিকার অলংকরন ও দেয়াল লিখনসহ লেখালেখি ছিলো প্রতিদিনকার অভ্যাস। তার মতে, ‘বাসদ, শিবির, আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র সব বড় ভাইরা আমাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যেত ওয়াল রাইটিং এর জন্য। কারণ, সবাই খুব প্রশংশা করতো আমার হাতের লেখার। রাত জেগে ওয়াল রাইটিং করতে গিয়ে পুলিশের দৌড় খেয়েছি অগনিতবার’।
তার লেখালেখির হাতও ভালো। তখন নিয়মিত বিভিন্ন লিটলম্যাগে লিখে চলেছেন। এছাড়া কুমিল্লার রূপসী বাঙলা, আশুগঞ্জ সংবাদ, সিলেটের কয়েকটা পত্রিকা আর জাতীয় দৈনিক পত্রিকার মধ্যে আজকের কাগজ, যুগান্তর ও ইনকিলাব ইত্যাদিতে নিয়মিত লিখেছেন। রুদ্র রায়হান- নামে লিখতেন তিনি। ছিলেন কুমিল্লার কবি ফোরামের নিয়মিত সদস্য। লেখা আর আবৃত্তি কবিদের সাথে আড্ডা চলত কান্দিরপাড়ের সাধনা ঔষধালয়ের পেছনের রুমে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কবি ফখরুল হুদা হেলাল, কবি বিজন দাস, কবি সৈয়দ আহমাদ তারেক, কবি নীলকন্ঠ (আসিফের ”সঞ্চিতা” গানের রচয়িতা)। তিনি এখন এদের সবাইকে মিস করেন।
সৌখিন সাহিত্য ও শিল্পচর্চার এক ফাঁকে ২০০১ সালে ঢাকার আজিজ সুপার মার্কেটে তার প্রথম কমার্শিয়াল ডিজাইনে কাজ করার সুযোগ আসে ‘স্বর-ব্যঞ্জন’ প্রকাশনীর কাজের মাধ্যমে। এরপর কাজ করেন উৎস প্রকাশন-এর সিলেটের ঐতিহাসিক বইয়ের প্রচ্ছদকার হিসেবে। একে একে কাজ করেন মিল্লাত গ্রুপ (২০০২), মাসিক সাঁকো (২০০৩), দৈনিক ইত্তেফাক এর পাক্ষিক বিনোদন ও মাসিক ই-বিজ এবং মাসিক ক্যানভাসে।
২০০৬ সালে ডিজাইনের উপর উচ্চ শিক্ষা নিতে মালয়েশিয়া যান। সেখানে পড়াশুনাকালীন সময়ে ‘স্লগি মালয়েশিয়া ইন্টারেক্টিভ ওয়েব ডিজাইন কম্পেটিশন ২০০৭’ পুরো মালয়েশিয়াতে চতুর্থ বিজয়ী হন। ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স, পেনাং-এর আয়োজেন এই প্রতিযোগিতা পরিচালনা করছিলো এড-ওয়েভ। পড়াশুনার পাশাপাশি শিক্ষকতার সুযোগ হয় অলিম্পিয়া কলেজ মালয়েশিয়ায় (২০০৭)। এরপর তিনি ডিজাইনের নানাক্ষেত্রে কাজ করে নিজের পথটি পরিষ্কার করে নেন। এখন তিনি অ্যাডভারটাইজিং ডিজাইন হাউজ নিয়ে পুরোদস্তর ব্যবসায়ী।
২০১০ সালে তিনি বিয়ে করেন তার ইন্দোনেশিয়ান বান্ধবীকে। ব্যবসা আর কাজের সাথে সাথে ঘোরাঘুরি তার পছন্দের। ইতিমধ্যে বেড়িয়েছেন ভারত, নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া, চায়না ও ফিলিপাইনসহ নানাদেশ। এই ঘোরাঘুরি তাকে কাজে বেশ উৎসাহ ও আইডিয়া দেয়। তিনি এই উৎসাহ ও আইডিয়া দিয়ে বিদেশের মাটিতে দেশের নাম তুলে ধরতে চান।