গড় রেটিং: 2.7/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
|
|
|
|
|
Update : 0000-00-00 00:00:00
|
সাগর-রুনি হত্যার বিচার চাইলেন প্রবাসী বাংলাদেশি-জার্মান নাগরিকরা
বন, ১৯ ফেব্রুয়ারী- সম্প্রতি ঢাকায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনির নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন জার্মান প্রবাসী বাঙালি এবং জার্মান নাগরিকরা। রোববার জার্মানির বন শহরে আয়োজিত এক স্মরণসভায় বাংলাদেশ এবং জার্মান নাগরিকদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এ দাবি জানানো হয়।
স্মরণসভায় জার্মান প্রবাসী বাংলাদেশি চিত্রকর মারুফ আহমেদ বলেন, ‘যে বা যারা এ ধরনের কাজ করতে পারে, তাদের সমাজে বাঁচার অধিকার নেই। আমাদের সরকার এখনও কিছু করতে পারলেন না, এটি লজ্জাস্কর। আমি ভাবতে পারি না, যে দেশে আমি বড় হয়েছি, সে দেশে এ ধরনের নির্মম ঘটনা ঘটতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমার দাবি হচ্ছে, বাংলাদেশের সরকার একবার দেখিয়ে দিক তারা কিছু করতে পারে। হত্যাকারীদের সুমচিত শাস্তি দিতে হবে। আমি আর একটি কথা বলতে চাই, যে কোনোভাবে আমাদের সাগর-রুনির শিশুকে আমাদের সাহায্য করতে হবে।’
জার্মান নাগরিক অধ্যাপক এফা লুক্স বলেন, ‘আমিও আপনাদের মতো মর্মাহত। আমিও আপনাদের মতো তাদের জানতাম চিনতাম।’
হেলেন স্মিডট বলেন, ‘ও দেশকে নিয়ে আমরা গর্ব করতাম। আজ গর্ব করার কিছু নেই। কী এমন অপরাধ করেছি? কী এমন অপরাধ করেছেন সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি? আমরা সুষ্ঠু বিচারের সঙ্গে সঙ্গে শিশু মেঘের নিরাপত্তা চাই।’
জার্মানিতে বসবাসরত অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত শোকাহত। বেদনা ভারাক্রান্ত মন নিয়ে এসেছি। জার্মানির বিভিন্ন শহর থেকে অনেকেই এ শোকসভায় এসেছেন। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হতেই হবে। সরকারকে প্রমাণ করতে হবে, সরকার কিছু করতে পারে। দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।’
তনিমা তাসনিম রানু বলেন, ‘আমি অবাক হচ্ছি। ৭ দিন হয়ে গেল কেউই ধরা পড়লো না। কী নিশ্চয়তা আছে আমাদের! এভাবে দুটি তাজা প্রাণ হারিয়ে গেল! আমি লজ্জা পাচ্ছি, অপমানিত বোধ করছি যে, তাজা দুটি প্রাণকে এভাবে চলে যেতে হলো।’
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের পর প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে৷ কেউ আর দেশে ফিরতে ভরসা পাচ্ছেন না৷ আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চাই৷’
মুক্তিযোদ্ধা আলিম হক দাবি করেন, ‘এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশের সব মিডিয়া ৩ দিন বন্ধ রাখা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হচ্ছে তারা আবাস বা সহজভাবে বললে তার বাড়ি। আর কেউ যখন বাড়ির ভেতরে নির্মমভাবে খুন হন, তখন বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তোলে। এটি সার্বিক সমাজের চিত্রই তুলে ধরে।’
ওমর ফারুক লুক্সও বলেন, ‘আমি এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বাংলাদেশের সব গণমাধ্যমকে ৩ দিনের কর্মবিরতি ও প্রকাশনা বিরতি পালনের অনুরোধ করছি।’
সভায় অন্য বক্তরাও তার এ বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে বলেন, ‘শিশু মেঘের কী অপরাধ? সে তো কোনো অপরাধ করেনি। তবুও কেন তাকে বাবা-মা ছাড়া বড় হতে হবে৷ সরকার সত্য উদঘাটন করে করে দেখিয়ে দিক। আমাদের আত্মীয়-স্বজন আছে। আমরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন!’ একই সঙ্গে বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনবোধ করলে জার্মান গোয়েন্দাদের সহায়তা নিতে পারেন।’
সভায় হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। আয়োজক সাগর-রুনির শুভানুধ্যায়ীরা জানান, এ স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও সাগর-রুনির হত্যাকারীদরে বিচারে দাবিতে জার্মানিসহ ইউরোপে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।