গড় রেটিং: 1.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
|
|
|
|
|
Update : 0000-00-00 00:00:00
|
বৃটেনের টপ টেরর বাঙালি যুবকদের দায় স্বীকার
শান্তিপ্রিয় বাঙালি কমিউনিটির জন্য এটি খুব বড় ধরণের একটি দু:সংবাদ। ব্রিটেনে ভয়ংকর রকমের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত থাকার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন কয়েকজন বাঙালি যুবক।
তারা মুম্বাই হামলার আঙ্গিকে ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, স্টক এক্রচেঞ্জ, লন্ডন আই, লন্ডন মেয়র বরিস জনসনের অফিস ও মার্কিন দূতাবাসসহ অন্যান্য স্থানে বোমা হামলার পরিকল্পনা করেছিলো। লন্ডনের উলউইচ ক্রাউন কোর্টে অভিযুক্ত চারজন ব্যক্তি তাদের দোষ স্বীকার করেছেন। এছাড়া তাদের দলের বাকী আরও পাঁচজন যুবকও সন্ত্রাসবাদের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন। আগামী সপ্তাহে তাদের সাজা ঘোষণা করা হবে। ব্রিটিশ নাগরিক এই নয়জন হচ্ছেন বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কট্টরপন্থি মুসলমান। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ২০১০ সালের ২০ ডিসে'র ১২ জন তরুণকে গ্রেফতার করে পুলিশ। লন্ডন, কার্ডিফ,স্টক অন ট্রেন্ড এবং বার্মিংহাম থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। আটক ১২ জনের মধ্যে তিনজনকে কোন অভিযোগ ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি নয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের সন্ত্রাস দমন আইনের আওতায় নাশকতার উদ্দেশ্যে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জান ও মালের ক্ষতিসাধনের পরিকল্পনা করা; এর প্রস্তুতি হিসেবে বিস্ফোরক দ্রব্য সংগ্রহ, সেগুলো নিয়ে গবেষণা ও পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটানো এবং হামলার উদ্দেশ্যে ব্রিটেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সর্ম্পকে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়। অভিযুক্ত এই নয়জনের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তাদের সবারই বাড়ি বাংলাদেশের সিলেটে। অভিযুক্তদের মধ্যে চারজন সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি চেষ্টার দায় স্বীকার করেছে। তারা হলেন মোহাম্মদ চৌধুরী, শাহ রহমান, গুরুকান্ত্ম দেশাই এবং আবদুল মিয়া।
এছাড়া অপর পাঁচজন যথাক্রমে ওমর শরীফ লতিফ, নিজাম হোসেন, উসমান খান, মহিবুর রহমান এবং আবুল বশর মোহাম্মদ শাহজাহানও জঙ্গিবাদে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে নানা স্থানে বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন। মামলার শুনানি সূ(েড) জানা যায়, চরমপন্থি সংগঠন আল-কায়েদার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা ব্রিটেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা হামলার চালানোর পরিকল্পনা করেন। এরা প্রত্যেকেই সদ্য নিহত আল কায়েদা নেতা আনওয়ার আল আলওয়াকির বক্তব্য দ্বারা জেহাদি কার্যক্রমের প্রতি অনুরক্ত হয়েছিলো। তারা বোমা তৈরীর শিক্ষা নিতে ইন্টারনেট থেকে আল কায়েদা ম্যাগাজিন ডাউনলোড করে তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করছিল। তাদের টার্গেট ছিলো ২০১০ সালের ক্রিসমাসের সময়ে লন্ডন স্টক এঙ্চেঞ্জ, লন্ডন আই, লন্ডন মেয়র বরিস জনসনের অফিস ও মার্কিন দূতাবাসে বোমা হামলা চালাবে। গ্রেফতারকৃত একজনের বাসা থেকে হাতে লেখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা উদ্ধার করে পুলিশ। এই তালিকা অনুযায়ীই বোমা হামলার পরিকল্পনা করেছিলো এইসব যুবকেরা। গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার শুনানি চলাকালে জানা গেছে, বড়দিন সামনে রেখে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ১ অক্টোবর থেকে ২০ নভে'রের মধ্যে সংগঠিত হয়ে তারা ওই পরিক*না করে। গোপন সূ(েড) তাদের পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে ছদ্মবেশি পুলিশ অভিযুক্তদের অনুসরণ করতে শুরু করে। অভিযুক্তরাও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে এবং গোপন ক্যামেরায় যাতে ধরা না পড়ে এ কারণে বিভিন্ন পার্কে বৈঠকে মিলিত হয়।
অভিযুক্ত দুইজন পূর্ব লন্ডনের স্টেনলিফ হাউজের বাসিন্দা মোহাম্মদ চৌধুরী ও নিউহ্যামের শাহ রহমানকে ফলো করতে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, তারা লন্ডনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন লন্ডন আই, মেয়রের অফিসের চারপাশে ঘুরোঘুরি করে বোমা হামলার সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করে। এই দুইজন আদালতে জানিয়েছেন, তাদের পরিকল্পনা মধ্যে ছিলো লন্ডন স্টক এঙ্চেঞ্জের টয়লেটে শক্তিশালী বোমা (ইমপ্রোভাইজড এঙ্প্লোসিভ ডিভাইস) পুতে রাখার। পুলিশের সময়মতো গৃহিত পদক্ষেপের কারণে তাদের এই জঙ্গি হামলার চেষ্টা প্রতিহত হয়। পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ভয়ংকর এই সন্ত্রাসীরা। আদালত সূ(েড) জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে দোষীদের সাজা ঘোষণা করা হবে। তাদের সাজা সম্পর্কে ধারণা দিতে গিয়ে জাজ জাস্টিস উইলকি জানিয়েছেন মোহাম্মদ চৌধুরীকে কমপক্ষে সাড়ে ১৮ বছর এবং শাহ রহমানকে ১৭ বছরের সাজা ভোগ করতে হবে। অপরাপর দোষীদেরও কঠিন সাজার মুখোমুখি হতে হবে।