গড় রেটিং: 2.0/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)
|
|
|
|
|
Update : 0000-00-00 00:00:00
|
৩০ জানুয়ারী দুই বাংলাদেশীর শিরচ্ছেদে হচ্ছে
মাহফুজ আনাম
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশী তিন যুবককে হত্যার ঘটনায় আগামী ৩০ জানুয়ারী দুই বাংলাদেশীর শিরচ্ছেদে মৃত্যুদণ্ড হচ্ছে। এ খবরে ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার গ্রামে কান্নার রোল পড়েছে। সরকারী ভাবে ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদে উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। এতে অভিযুক্ত সাহাবুদ্দিনের শোকাহত মা আরো চারটি শিরচ্ছেদের আকুতি করেছে। ২৫ জানুয়ারী জেলা প্রশাসক পূণঃরায় সমঝোতা বৈঠক ঢেকেছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনীয়া গ্রামের মৃত মোঃ শফির দুই পুত্র মোহাম্মদ আইয়ুব (২৮), মোহাম্মদ তৈয়ব (২৫) কে হত্যার দায়ে চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ দায়রা পাড়ার জনৈক মোঃ হারুনুর রশিদ এবং রোসাংগীরি ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের জনৈক কামাল উদ্দিনের পুত্র জামাল উদ্দিন (মোঃ ইউনুছ) (২৬) কে হত্যার দায়ে নানুপুর ইউনিয়নের মাইজভান্ডার গ্রামের হাজী আমির হামজার ছেলে শাহাব উদ্দিন কে আগামী ৩০ জানুয়ারী সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই দুই বাংলাদেশীর শিরচ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে। ২০১১ সালের ২ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমায় দুই ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব ও মোহাম্মদ তৈয়ব কে মোঃ হারুনুর রশিদ ঘুমন্ত অবস্থায় জবাই করে হত্যা করে। অপর দিকে ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর ঘুমন্ত অবস্থায় দুবাইতে জামাল উদ্দিন (মোঃ ইউনুছ) কে তিন টুকরা করে কেটে হত্যা করে শাহাব উদ্দিন।
সে দেশের পুলিশ তিন খুনের দুই আসামী মো. হারুনুর রশিদ ও সাহাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। সে দেশের বিচারে তাদের শিরচ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেওয়া হয় এবং আগামী ৩০ জানুয়ারী এ দন্ড কার্যকর করার দিন ধার্য্য করা হয়েছে। বিষয়টি জেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল বাংলাদেশের ভাবমুর্তি রক্ষার লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে নিহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে খুনীদের ক্ষমা করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্দ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
সেই অনুযায়ী গত রবিবার (২২ জানুয়ারী) ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ আফতাব উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জনা খান মজলিশ, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মাঝে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। কিন্ত নিহত মোহাম্মদ আইয়ুব ও মোহাম্মদ তৈয়ব এর মা রোকেয়া বেগম, আইয়ুবের স্ত্রী নুরসাত জাহান মুক্তা, নিহত জামাল উদ্দিন (মোঃ ইউনুছ) ভাই মোঃ সোহেল সহ দুই পরিবারের কোন সদস্যই খুনীদের ক্ষমা করতে রাজী হয়নি এবং মৃত্যুদন্ড বহাল রাখার পক্ষে কাগজে স্বাক্ষর করেন। ফলে নির্ধারিত দিনেই তাদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
নিহত মোহাম্মদ আইয়ুব ও মোহাম্মদ তৈয়ব এর মা রোকেয়া বেগম, নিহত জামাল উদ্দিন (মোঃ ইউনুছ) ভাই মোঃ সোহেল বলেন, আমরা স্বজন হারিয়েছি। সে দেশের আইনে অভিযুক্তরা অভিযুক্ত। তাই ঐ দেশের আইনে তাদের শাস্তি হোক।
ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমরা রাষ্টের ভাব মূর্তি রক্ষায় এবং হত্যার বদলে হত্যা নয়। এই কথাটি দুই পরিবারকে বুঝাতে চেয়েছি। তারা তা মানেনি।