নয়াদিল্লি, ২৭ অক্টোবর (ডিডব্লিউ)- এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে অবদানের জন্য ভারতের সেনা ও নৌবাহিনীর আরো আধুনিকায়নকে সমর্থন ও সহায়তা করে অ্যামেরিকা৷ মার্কিন উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী উইলিয়াম বার্নস বলেছেন, ‘‘এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের স্বার্থ রয়েছে৷'' সম্প্রতি অ্যামেরিকান উন্নয়ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘অ্যামেরিকা ও ভারতঃ পরিবর্তনশীল বিশ্বে এক গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক' শীর্ষক আলোচনায় নিজের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বার্নস নতুন করে এর ব্যাখ্যা দিলেন৷ কারণ চীনের সেনা ও নৌবাহিনীর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করে এক্ষেত্রে আরো স্বচ্ছতার দাবি তুলেছে ওয়াশিংটন৷ অথচ ভারতের সেনা ও নৌবাহিনীর ক্ষেত্রে আধুনিকায়নের পক্ষে তাদের অবস্থান৷ বার্নস বলেন, ‘‘চীন, ভারত কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে দেশের ক্ষেত্রেই হোক না কেন, আগামী কয়েক বছরের পরিস্থিতি বিবেচনা করলে আমাদের প্রত্যেককে অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের দিকে নজর দিতে হবে৷ বিশেষ করে অর্থনৈতিক আধুনিকায়নের বিষয়ে বহির্দেশীয় স্থিতিশীল পরিবেশ সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ৷''
তাঁর মতে, ‘‘প্রত্যেক অঞ্চলের সদস্যদের সেই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে৷ যার ফলে উদাহরণস্বরূপ সমুদ্র সীমায় বাণিজ্য সংরক্ষিত হবে৷ সেই দিক থেকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী এবং বৃহত্তর দৃষ্টিতে সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন একটি ভালো বিনিয়োগ৷'' তবে ভারতের বিবেচনায় এটি যেমন বিশ্বের শান্তিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ, তেমনিভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় মোকাবিলা করার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে৷ এসব কিছু বিবেচনায় ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক গভীরতর করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন বার্নস৷
ভারতের সাথে এমন সম্পর্কের অর্থ যে শুধু সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি নয়, তা জোর দিয়ে বলেন বার্নস৷ তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করেছে এবং ইচ্ছা করলে আগামী কয়েক বছরে এর পরিমাণ খুব সহজেই তারা দ্বিগুণ করতে পারে৷ কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায়, যৌথ-উৎপাদন, যৌথ গবেষণা এবং সহযোগিতামূলক উন্নয়ন৷ যাতে করে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সম্পর্ক সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির চেয়ে আরো বেশি অর্থ বহন করে বলে মনে করেন বার্নস৷
ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের মধ্যে অতীতের বিয়োগান্তক ঘটনা, সন্ত্রাসী হামলা, আফগানিস্তান নিয়ে হুমকি এবং শান্তিপূর্ণ ও মুক্ত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্বপ্ন দেখার ক্ষেত্রে মিল রয়েছে বলে উল্লেখ করেন বার্নস৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আমরা সন্ত্রাস বিরোধী তৎপরতায় পারষ্পরিক সহযোগিতা নিয়ে গর্ব করতে পারি৷ অথচ এটি মাত্র কয়েক বছর আগেও শূন্যের ঘরে ছিল৷ কিন্তু এখন সেটি নীতিগত এবং আইন প্রয়োগ থেকে প্রায় সর্বক্ষেত্রে বিরাজমান৷''
উল্লেখ্য, প্রায় এক দশক আগেও ভারত-মার্কিন অস্ত্র বাণিজ্য কার্যত শূন্যের ঘরে থাকলেও ২০০৮ সাল থেকে ভারত অ্যামেরিকার কাছ থেকে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে৷ এছাড়া অ্যামেরিকা ভারতের কাছে চার বিলিয়ন ডলার মূল্যের সি-১৭১ বিমান সরবরাহ করলে ভারত-মার্কিন যৌথ বিমান বহর বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিমান বহরে পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন এই মার্কিন কূটনীতিক৷ তাঁর মতে, এগুলো বিশ্বের যে কোন সংকট এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় অপরিহার্য সম্পদ৷ যেমন গত বছরই অ্যামেরিকা ভারতের কাছে সি - ১৩০ জেটবিমান সরবরাহ করেছে৷ আর এটি সিকিমের ভূমিকম্পের পর ঠিক সময়ে দুর্গত মানুষকে উদ্ধারে কাজ করেছে৷
ইরানের ব্যাপারেও ভারতের নীতিগত অবস্থানের ভূয়সি প্রশংসা করেন বার্নস৷ তিনি বলেন, তেহরানের পারমাণবিক আকাঙ্খার ব্যাপারেও নতুন দিল্লি এবং ওয়াশিংটন একই কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে৷ এর অন্যতম প্রমাণ হলো ভারত ইরানের কাছ থেকে তেল আমদানি হ্রাস করা৷