সিটুয়ে, ২৭ অক্টোবর (বিবিসি)
বার্মায় সর্বশেষ জাতিগত সহিংসতায় উপকূলীয় চাওপিউ শহরের একটি রোহিঙ্গা মুসলিম-অধ্যুষিত একটি এলাকার পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ উপগ্রহ থেকে তোলা ওই এলাকার ছবি প্রকাশ করে একথা বলেছে। বার্মার প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র বিবিসির কাছে ওই ছবির সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, এটা বুধবারের ঘটনা - যা তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি ।
ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে এবং আজ পরিস্থিতি শান্ত বলে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জানিয়েছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে চাওপিউ শহরের আটশ'রও বেশি বাড়ি এবং বাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয় এমন নৌকো পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
থেইন শোয়ে নামে একজন রোহিঙ্গা বিবিসি-কে বলেছেন, তারা তাদের ঘরবাড়ি, টাকাপয়সা সহ সর্বস্ব হারিয়েছেন এবং ঈদ-উল আজহার দিনে তারা পশু কোরবানি দিতে পারছেন না।
বার্মার রাখাইন প্রদেশে বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে বেশ কয়েকমাস ধরে বিক্ষিপ্তভাবে চলতে থাকা সহিংসতার এটি সর্বশেষ ঘটনা।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একজন মুখপাত্র বলছেন, রোহিঙ্গারা 'হিংস্র' আক্রমণের শিকার হয়েছে। বার্মার সরকার রোহিঙ্গাদের সেদেশের নাগরিক বলে স্বীকার করে না।
সরকার বলছে, গত এক সপ্তাহ ধরে রাখাইন প্রদেশ জুড়ে বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে চলতে থাকা সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৬০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে।
আশংকা করা হয় যে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এর চাইতে অনেক বেশি।
হাজার হাজার লোককে তাদের বাড়িঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, আক্রান্ত এলাকাগুলো থেকে অনেকেই নৌকায় করে পালিয়ে যাচ্ছেন। একটি দ্বীপে পালানো লোকদের অনেকে আশ্রয় নিলেও তাদের আঞ্চলিক রাজধানী সিটওয়ে শহরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত জুনের সহিংসতার সমং বহু রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেবার চেষ্টা করেছিলেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বার্মা থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে। তবে অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে মনে করা হয়।