বৃটেনে আট লাখ ৭০ হাজারের বেশি লোক উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তায় ভোগেন। উদ্বেগ থেকে সৃষ্টি হচ্ছে নানা ধরনের রোগ। চিকিৎসকরা এর সমাধান খুঁজে খুঁজে হয়রান। এ অবস্থায় বৃটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) দ্বারস্থ হয়েছে বৌদ্ধদের কাছে ধ্যান পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে। মনস্তাত্ত্বিক এ ধরনের থেরাপি শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। উদ্বিগ্ন বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত লোকের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি কীভাবে কার্যকর হয়, তা 'দ্য মাইন্ডফুলনেস ম্যানিফেস্টো'তে তুলে ধরেছেন ড. জন্টি হিভারসেজ।
তিনি লিখেছেন-উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেই মনকে শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগী করতে হবে। বাতাস কীভাবে নাসারল্প্রব্দ হয়ে ফুসফুসে ঢুকছে, তা খেয়াল করুন। কীভাবে হৃদযন্ত্র ধুকধুক করছে মন দিয়ে শুনুন। কল্পনা করুন হৃদপিণ্ড কীভাবে রক্ত সঞ্চালন করছে পুরো দেহে। আস্তে আস্তে নিজেকে ধ্যানের জন্য প্রস্তুত করুন।
এরপর ধীরস্থিরভাবে সে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করুন, যেটি আপনাকে উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তাড়াহুড়ো বা আবেগী না হয়ে ধীরস্থিরভাবে ভাবতে হবে।
একটি কথা প্রচলিত আছে- ধ্যানে বসতে হলে মন শূন্য রাখতে হবে; কিন্তু চাইলেই কি দুশ্চিন্তা সরিয়ে রাখা যায়? তাই জোরাজুরি না করে একে মনের ভেতরে নিয়েই মনকে সুস্থির করে ধ্যানে নিমগ্ন হতে হবে। ধ্যানের সময় চিন্তার বিষয়টি থাকবে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বা আবহ সঙ্গীতের মতো অন্তরালে। নাটকে বা সিনেমায় যেমন আবহ সঙ্গীত আমরা শুনি ঠিকই; কিন্তু মন থাকে ঘটনাপ্রবাহের দিকে।
এভাবেই উদ্বেগে ফেলে দেয়া বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। এতে বিষয়টি আস্তে আস্তে সহনীয় হয়ে আসবে। উদ্বেগের বিষয়কে কৌতূহলভরে উপভোগ করুন। এভাবে কোনো কিছুতে পূর্ণ মনোনিবেশ করা কঠিন। তাই প্রথম দিকে অল্প সময়ের জন্য এ চর্চা করতে হবে।