লন্ডন, ২৫ অক্টোবর- ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রথম ও একমাত্র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্য রোশনারা আলীর পর যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্যপদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী বাবলিন মল্লিক।
আগামী ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় কার্ডিফ সাউথ ও পেনার্থ আসনের উপ-নির্বাচনে বাবলিন লড়বেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে। রক্ষণশীল কনজারভেটিভ পার্টির সঙ্গে মিলে বর্তমানে তারাই ব্রিটেনের শাসন ক্ষমতায়।
লেবারদলীয় বর্তমান এমপি এলানা মাইকেল নির্বাচিত পুলিশ কমিশনার পদে যোগদানের উদ্দেশ্যে পদত্যাগ করায় শূন্য ঘোষণা করা হয় আসনটিকে।
আসনটি বিরোধী লেবার পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত। গত প্রায় অর্ধশতাব্দীকাল ধরে আসনটিকে নিজেদের দখলে রেখেছে লেবাররা। তবে এতে দমে যাওয়ার পাত্রী নন বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে বিলেত আসা বাবলিন।
বেশ কিছু কেলেঙ্কারি এবং বিপর্যয়ের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তায় নেমেছে ধস। লেবার পার্টির এই দুর্বলতা এবং নিজের শক্তিশালী ব্যক্তিত্বকে পুঁজি করে তাই শক্ত লড়াইয়ের পূর্বাভাস দিয়েই মাঠে নেমেছেন বাবলিন। আর জয়লাভ করতে পারলে বাবলিনই হবেন রোশনারার পর যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে দ্বিতীয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্য।
এদিকে যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন জোট সরকারের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিকের প্রধান নিক ক্লেগ বাবলিনের পক্ষে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় নিক ক্লেগ বলেন `আমরা প্রার্থী নির্বাচন করতে ভুল করিনি।’ পাশাপাশি বাবলিন দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গত ৫০ বছর ধরে লেবার পার্টির প্রার্থীরা ওই আসনে নির্বাচিত হলেও মানুষের জন্য উল্লেখযোগ্য কিছুই করতে পারেননি উল্লেখ করে নিকক্লেগ বলেন, “বাবলিনের ওপর স্থানীয় জনগণের আস্থা রয়েছে। আশা করি, এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটবে আগামী নির্বাচনে।”
বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কচুয়া গ্রামে জন্ম বাবলিন মল্লিকের। ছয় বছর বয়সেই যুক্তরাজ্যে যান তিনি। দুই কন্যাসন্তানের গর্বিত জননী বাবলিন পড়াশোনা করেছেন কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বায়োকেমিস্ট্রির এই মেধাবী ছাত্রী স্নাতক শেষে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্লুকোমা রোগ নিয়ে গবেষণা করে লাভ করেন পিএইচডি ডিগ্রি। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন গবেষণাকে।
এছাড়া স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসী ছেলেমেয়েদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন `শিকড়` নামের একটি কমিউনিটি স্কুল। যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি নারীদের উন্নয়নেও তার রয়েছে অগ্রণী ভূমিকা। এছাড়াও আরও কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত তিনি।