দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রমে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অবকাঠামোগত ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম আরো জোরদার করতে দুদককে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দুদকের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, দুদকে আলাদা দুটি েআধুনিক ইন্টারগেশন সল, একটি বিশেষ হাজতখানা, মহিলাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা, একটি চৌকস গোয়েন্দা ইউনিট, কর্মকর্তাদের জন্য উন্নতমানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, তথ্য সংগ্রহে সোর্স নিয়োগ, অভিযান পরিচালনার জন্য আধুনিক গাড়ি কেনা, আসামিদের কার্যক্রম তদারকি করতে সিসিটিভি স্থাপন, মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করার জন্য বিশেষ যন্ত্রপাতি কেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান জানান, দুদক আইন অনুযায়ী এটি হচ্ছে একটি এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি। এ জন্য একে শক্তিশালীভাবে গড়ে তুলতে হবে। দুদককে শক্তিশালী করতে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। দুদকে কোনো দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার করা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বর্তমানে কোনো ইন্টারগেশন সেল নেই। ফলে সাধারণ সেলেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এতে অনেক সময় দুদক কর্মকর্তারা কৌশলী হতে পারেন না। এ সমস্যা সমাধানে দুদকে আলাদা দুটি ইন্টারগেশন সেল গঠন করা হচ্ছে। দুদক কার্যালয়ের যে কক্ষগুলো ইন্টারগেশন সেলের জন্য ব্যবহার করা হবে সেসব কক্ষে থাকবে সিসিটিভির ক্যামেরা। থাকবে মোবাইল ট্র্যাকিং মেশিন। একইসঙ্গে দুর্নীতি মামলার আসামিদের রাখার জন্য দুদকে গড়ে তোলা হবে একটি বিশেষ হাজতখানা। বর্তমানে দুদকে কোনো হাজতখানা নেই। এ কারণে গ্রেপ্তার আসামিদের রাখতে হয় কোনো না কোনো থানায়। দুদকের আসামি থানায় থাকার কারণে তাদের ওপর কোনো নজরদারি করতে পারে না দুদক। ফলে আসামিদের কোনো বিপত্তি ঘটলে এর দায় এসে পড়বে দুদকের ওপর। দুর্নীতিবাজদের সম্পর্কে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য গঠিত হচ্ছে একটি চৌকস গোয়েন্দা ইউনিট। এ ইউনিটের কর্মকর্তারা দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করবেন। একটি ইউনিট গোপনে সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজদের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করবেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় সোর্সও নিয়োগ দেয়া হবে। তাদের জন্য অর্থ বরাদ্দও থাকবে। অপর একটি ইউনিট থাকবে দুদকের পোশাকে। তাদের জন্য থাকবে দুদকের মনোগ্রাম সহকারে বিশেষ রংয়ের আলাদা জ্যাকেট। টিমের জন্য থাকবে দ্রুতগতির বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থা। বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোতে ঘুষের লেনদেনকারীদের হাতেনাতে ধরতে, যখন যেখানে খবর পাবে ছুটে যাবে। কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার অভিযানে যেতে বা তাকে আদালতে পাঠানোসহ আরো কিছু জরুরি অপারেশনের কাজে ব্যবহারের জন্য দুদকের পর্যাপ্ত গাড়ি নেই। এ জন্য কেনা হচ্ছে বিশেষ গাড়ি। টিমের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক কার্যক্রম সমন্বয় করার জন্য থাকবে ওয়াকিটকি। ঘুষ-দুর্নীতি তদবিরসহ এ সংক্রান্ত বিষয়ে সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজদের কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করে তাদের ওপর নজরদারি করবে দুদকের গোয়েন্দা ইউনিট। আসামি গ্রেপ্তার করার জন্য বর্তমানে দুদকের নিজস্ব কোনো পোশাকি ইউনিট নেই। ফলে আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে দুদককে নির্ভর করতে হয় পুলিশ বা র্যাবের ওপর। এ জটিলতা দূর করতে দুদকে নিজস্ব পোশাকি ইউনিট গঠন করা হবে। দুদকের পরিচালক স্কোয়াড্রন লিডার মো. তাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পোশাকি ইউনিটটি গঠিত হতে পারে। সামরিক বাহিনীর এ কর্মকর্তা এর আগে র্যাবে ছিলেন, এখন দুদকে। বর্তমানে দুদকের গ্রেপ্তার অভিযানেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।