শুধু কবিতার জন্য, আরো দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে লোভ হয়
মানুষের মতো ক্ষোভময় বেঁচে থাকা, শুধু
কবিতার জন্য আমি অমরত্ব তাচ্ছিল্য করেছি।
_সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক, কিংবদন্তি লেখক, সব্যসাচী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়,যার কবিতার পংক্তি থেকে ধার করে বাঙালি যুবকেরা আরো বহুদিন বলবে-“কেউ কথা রাখেনি” সেই কবি, কথাশিল্পী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আর নেই। ভোরের 'প্রথম আলো' তখনো ফোটেনি, সেই সময়ই সোমবার ২২শে অক্টোবর রাত ২টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম এই বন্ধু। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। গত মঙ্গলবার ২৪শে অক্টোবর সন্ধ্যে ৮টায় নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে মুক্তাধারার কর্ণধার বিশ্বজিত সাহা কথা সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় স্মরণে স্মরণ সভায় আয়োজন করেন। এই স্মরন সভার সঞ্চালক ছিলেন লুৎফুন নাহার লতা। সব্যসাচী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় মৃত্যুতে সবাই এক মিনিট দাড়িয়ে নিরাবতা পালন করেন। সবাই শোকহত এবং মর্মহত বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট কবি ও কথা সাহিত্যিক সুনিল গঙ্গোপাধ্যায় তার স্মৃতি চারন করতে গিয়ে অনেকে চোখেঁর জল ধরে রাখতে পারিনি, প্রথমেই স্মৃতি চারন করতে আসেন বেলাল বেগ, তার পর ফকির ইলিয়াস, আকাঁ বাবুল, নিনি ওয়াহেদ, তমিজউদ্দিন লদী, মন্জুর আহমেদ, প্রতিপ দাস গুপ্ত, স্বপন বসু, জাকির হোসেন মিয়া ও বিশ্বজিৎ শাহা বলেন রাত ৯ টার দিকে আমি যখন সংবাদটা শুনলাম ফোনে তখন আর আমার ভাল লাগছিলনা আমি দোকান বন্ধো করে বাড়ীতে চলে যাই, আমি কি সংবাদ শুনলাম আমি বিশ্বাষ করতে পারছিনা।কয়দিন আগে তার জন্মদিন ছিল, তার সাথে আমার টেলিফোনে প্রায় আলাপ হতো সে আরও অনেক কথা বলতে বলতে কেদেঁ ফেললেন এই কালজয়ী লেখক ১১বার নিউ ইয়র্কে আয়োজিত বইমেলায় যোগ দিয়েছিলেন। নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বাঙ্গালীদের সাথে লেখকের একটি নিবিড় সম্পর্কের বন্ধন গড়ে উঠেছিল। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে নিউ ইয়র্কের সুনীল ভক্তদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশ্বজিত সাহার আয়োজিত স্মরণ সভায় বক্তারা তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। বিশিষ্ট এই লেখকের মৃত্যু বাংলা সাহিত্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি সেই ক্ষতি পূরণ হবার নয়। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অসামান্য অবদানের জন্য বাংলা ভাষা-ভাষী মানুষ তাকে চিরদিন স্মরণ রাখবে। সাহিত্যের সব শাখাতেই বিচরণ ছিল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের। লিখেছেন দুই হাতে। কবিতা, গল্প, নাটক, উপন্যাস, রম্যরচনা, প্রবন্ধ, গোয়েন্দা কাহিনী, শিশুতোষ সব ক্ষেত্রেই ফলিয়েছেন সোনা। নীললোহিত, সনাতন পাঠক, নীল উপাধ্যায় ছদ্মনামে সুনীল লিখে গেছেন ভ্রমণকাহিনী, গোয়েন্দা গল্প, কখনোবা শিশুতোষ সাহিত্য। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছিল তাঁর অসামান্য অবদান। সেই সময় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রবন্ধ ও কবিতা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা জুগিয়েছে। শরণার্থীদের দুঃখ-কষ্ট সহ্য করার সাহস জুগিয়েছে। উপস্হিত সকলে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। পরম করুণাময় তাদেরকে এ শোক বহন করার শক্তি জোগাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। এই স্মরণ সভায় উপস্হিত ছিলেন নিউ ইয়র্কের বহু খ্যাতিমান ব্যক্তিবর্গ। তার লেখা কবিতা পরে শুনান ফকির সেলিম, কাজী নজরুল ইসলাম মন্টু ও শেমন্তী ওয়াহেদ।