সরকার পরিচালনা কাজে প্রায় চার বছর ছুঁই ছুঁই অবস্থায় দলীয় শক্তি ও সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির প্রতি নজর দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলীয় প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ের প্রতি বিশেষ জোর দিয়েছেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেই সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ঢেলে সাজানো হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
তবে দল ঢেলে সাজাতে গিয়ে যাতে কোন্দল এবং সংঘাতময় অবস্থা তৈরি না হয় সে বিষয়টিতেও সজাগ থাকতে চায় দলটির হাইকমান্ড। দল গোছাতে গিয়ে কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের প্রকাশও যেন না ঘটে, সে বিষয়ে দলীয় সভানেত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলেই সাংগঠনিক কার্যক্রমে কমবেশি স্থবিরতা দেখা দেয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও সেই গণ্ডী থেকে বের হতে পারেনি। সংবিধান মোতাবেক নির্বাচন করতে হলে সরকারের হাতে আছে আর সময় মাত্র এগারো মাস। এ কারণেই তৃণমূলকে ঢেলে সাজাতে চায় হাইকমান্ড।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পর দল গোছাতে ‘তারকা’ প্রবীণ নেতাদের কাজে লাগিয়ে মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় কমিটিতে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ২০১১ সালের শুরু থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকটি সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয় এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করতে সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু তারা সেসব কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এতে করে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা। তারা বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের অনীহা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার অভাবে সাংগঠনিক স্থবিরতা এসেছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের কয়েকজনও এমন মন্তব্য করেছেন।
২০০৯ সালের ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর এক ঝাঁক তরুণের সমন্বয়ে গঠন করা হয় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। বাদ পড়েন অনেক অভিজ্ঞ সিনিয়র নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা।
কমিটি গঠনের পরই নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন অনভিজ্ঞ তরুণ নেতাদের সাফল্য নিয়ে। কারণ সাংগঠনিক কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাত বিভাগের পাঁচ সাংগঠনিক সম্পাদকই এ কমিটির মাধ্যমে মূল দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। বাকি দুজনের একজনকে পদোন্নতি দিয়ে সিলেট থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে আনা হয়। অবশিষ্ট জন আগের কমিটির উপ-দফতর সম্পাদক ছিলেন।
দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ১২টি টিম গঠন করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে দলটির সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় চলতি বছরের শেষে ২৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের দিন ঘোষণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, জেলা-উপজেলায় দলীয় কার্যালয় স্থাপনের জন্য কাজ চলছে। অনেক স্থানে জায়গা কেনা হয়েছে।
এছাড়া তৃণমূল সম্মেলনের ব্যাপারে তিনি বলেছেন, এবার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা অবশ্যই পালন করা হবে। প্রয়োজনে একেক দিনে কয়েকটি উপজেলায় কাউন্সিল করা হবে। তবুও ২৯ ডিসেম্বরের আগেই শেষ করা হবে।
এদিকে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, তরুণ নেতাদের এই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে এখন থেকে প্রবীণদের কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের তারকাখ্যাত নেতা তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু এবং আবদুল জলিলকে এখন থেকে নির্বাচন পর্যন্ত সাংগঠনিক সব কাজে রাখা হবে। এ ছাড়া ঈদের পর আরো অভিজ্ঞ কিছু নেতাকে এসব কাজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে। দুর্নীতির অভিযোগের কারণে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে বাদ রাখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সব সাংগঠনিক প্রোগ্রামগুলোতে তিন তারকাকে রাখা হচ্ছে।
সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু জানিয়েছেন, এখন থেকে তৃণমূলের কাউন্সিলের জন্য তাদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বরিশাল বিভাগের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্রমান্বয়ে সব বিভাগের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে এ সভা হবে। ঈদের পর পুরোদমে দল গোছানোর কাজ শুরু হয়ে যাবে।
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে বুদ্ধিজীবী, সাবেক আমলাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে একটি কমিটি করেছে আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে এ কমিটি কয়েকটি বৈঠকও করেছে। ওই কমিটির কাজ হবে সারা দেশে মনিটরিং করে কোন প্রার্থীকে কোন আসনে দিলে দল জিতবে সেসব বিষয় গবেষণা করা।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তৃণমূলে কাউন্সিল করা এবং গতি বাড়ানো হচ্ছে।”
সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “তৃণমূলকে ঢেলে সাজানো আওয়ামী লীগের রুটিনমাফিক কাজের অংশ।” তিনি জানান, রংপুর বিভাগে ওয়ার্ড পর্যায়ের কাউন্সিল শেষ হয়েছে। ঈদের পর থানা ও উপজেলা কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।