লন্ডন, ২২ অক্টোবর - ডা. আব্দুল শাকুর যিনি আজীবন মানুষকে চিকিতসা সেবা দিয়েছেন তিনি নিজেই আজ প্রাণ বাঁচানোর আকুতি নিয়ে হাসপাতালে চিকি্সাধীন। দুবৃর্ত্তদের দেয়া আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে তার সাজানো সংসার। আগুনে পুড়ে মারা গেছে তার ডাক্তার স্ত্রীসহ ৪ সন্তান। এ তান্ডবে প্রাণে বেঁচে গেছেন শুধু শাকুর আর তার সবচেয়ে কণিষ্ঠ সনত্দান ৩ বছর বয়সী মাহিন। গত ১৫ অক্টোবর সোমবার এসেঙ্রে হার্লোতে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। পাকিস্থানী বংশোদ্ভুত আব্দুল শাকুর (৪৫) এবং তার স্ত্রী সাবাহ উসমানি দুজনই পেশায় ডাক্তার। তাদের ৩ থেকে ১২ বছর বয়সী ৫ টি সন্তান ছিল। গত সোমবার মধ্যরাতে এই পরিবার যখন ঘুমে, তখন একদল দুর্বৃত্ত তাদের বাসায় আগুন ধরিয়ে দেয়। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে সারা বাড়িতে। আগুনের উত্তাপে ঘুম ভাঙ্গা শিশুদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। কিন্তু মূহুর্তেই থেমে যায় সেই চিৎকার। আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শাকুরের স্ত্রী সাবাহসহ দুই ছেলে সোহাইব (১১), রায়ান (৬) এবং ১২ বছর বয়সী মেয়ে হিরা। অপর দুই সন্তান মুনিম (৯) এবং মাহিন (৩) কে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হলেও কিছুক্ষন পরেই মুনিমের মৃতু্য হয়। মাহিন চেম'সফোর্ডের ব্রুমফিহ্ব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্ত্রী সনত্দানদের বাঁচাতে গিয়ে শাকুর আগুনে ভয়াবহ রকমের দগ্ধ হয়েছেন। তাকে হার্লোর প্রিন্সেস আলেকজান্ডার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তিনি তার বেঁচে যাওয়া একমাত্র সনত্দান মাহিনের পাশাপাশি থাকার অনুরোধ জানান। ডাক্তারা তার সেই ইচ্চছামত তাকে হার্লো থেকে চেম'সফোর্ডে স্থানানত্দর করে মাহিনের পাশাপাশি চিকি্সা দিচ্চেছ। মাত্র এক বছর আগে এই পরিবার পেশাগত কারনে হ্যামশায়ারের উইনচেস্টার থেকে এসেঙ্রে হার্লোতে ঐ বাসায় স্থানান্তরিত হয়েছেন। ডা. শাকুর বলেছেন, তিনি এবং তার স্ত্রী ডাক্তার হিসাবে আজীবন মানুষের সেবা করেছেন। তার পরিবারের ওপর কেন এই হামলা তিনি তা বুঝতে পারছেন না। তাদের কোন পারিবারিক শত্রু বা হার্লোর প্রতিবেশিদের সাথে কোন খারাপ সম্পর্কের ঘটনাও নেই। এদিকে স্থানীয় পুলিশ বিষয়টিকে সিরিয়াল আর্সোনিস্টের কাজ হিসাবে সন্দেহ করছে। কারন ঐ রাতে ঐ এলাকায় একই সময়ে আরো দুটি গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। আবার পুলিশের ধারনা দুর্বৃত্তরা আন্য কোন বাড়ীতে আগুন দিয়ে এসে ভুল করে ডা.শাকুরের বাড়িতে আগুন দিয়েছে। এটি কোন বর্ণবাদী আক্রমন কিনা সেই বিষয়টিও পুলিশ বিবেচনা করছে। এ ঘটনা সম্পর্কিত যে কোন তথ্য দিয়ে সহযোগিতার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহবান জানিয়েছে পুলিশ।