গত রোববার ২১শে অক্টোবর বিকাল ৫টায় জ্যাকসন হাইটস্ এর প্রাণকেন্দ্র ৭৩ এবং ব্রডওয়ের এর কর্ণারে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ পালিত হয়। এই বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে “বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকা”। গত ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশী নাফিসকে(২১) গ্রেফতার করা হয়। এই সমাবেশে সবাই মিলে বোমা হামলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত বাংলাদেশী যুবক নাফিসের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানায়। নিউইয়র্কে বোমা হামলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত বাংলাদেশী যুবক নাফিসের কারণে পুরো বংলাদেশ দায়ী নয়। অপরাধের জন্য অপরাধীকে শাস্তি পেতেই হবে। বাংলাদেশ তথা বাংলাদেশের নাগরিকেরা এবং প্রবাসী বাংলাদেশীরা কখনোই সন্ত্রাসবাদে বিশ্বাসী নয়। বিকাল ৪:৩০ মিনিটের পর থেকেই সমাবেশ স্হলে লোকজন এসে জড়ো হতে থাকে। এই সমাবেশে নিউ ইয়র্কের অন্যান্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের অনেক নেতা কর্মিরাও অংশ গ্রহন করে। বিকাল ৫টার মধ্যেই সমেবেশ স্হলে মিডীয়াকর্মি, প্রিন্ট মিড়ীয়ার কর্মি সহ প্রচুর লোকজনের সমাগম ঘটে। নিউ ইয়র্ক এর টিভি চ্যানেল এন ওয়াই ওয়ান এবং চ্যানেল সেভেন এই বিক্ষোভ সমাবেশ সরাসরি টিভিতে সম্প্রচার করে। বৃটিশ ব্রড কাষ্টিং(বিবিসি),বাংলাদেশী টিভি চ্যানেল এন টিভি, এটিএন, চ্যানেল আই, বাংলাভিশস সহ আরোও অনেক টিভি চ্যানেলের কর্মকর্তার বিক্ষোভ সমাবেশে আসেন। সবারই একটি দাবী ছিল-বোমা মেরে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক উড়িয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশী নাফিস যদি সত্যিকার অর্থে দোষ করে থাকে তাহলে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি পেতেই হবে ।
এ সমাবেশে বক্তারা উল্লেখ করেন- বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের জনগন কখনোই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ এবং সন্ত্রাসিকে প্রশ্রয় দেবেনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারও সন্ত্রাসের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি পালন করে আসছেন। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিদেশের মাটিতে ক্ষুন্নকারি ব্যক্তি নাফিসের অপকর্মের দায় বাংলাদেশ নেবে না এবং প্রবাসীরাও নেবে না। সমাবেশে সবাই মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাংলাদেশী-আমেরিকানরা সবসময়ই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার। নাফিস যদি সত্যিকার অর্থে দোষী হয়ে থাকে তবে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় প্রবাসীরা। এই বিক্ষোভ সমাবেশ উপস্হিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডঃ শাহজাহান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, মুর্শেদ আলম, আয়োজক সংগঠনের সভাপতি বেদারুল ইসলাম বাবলা, সিনিয়র সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, সহ সভাপতি নুরুল আমিন, সাধারন সম্পাদক আব্দুল কাদের চৌধুরী শাহীন, সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক তৈয়বুর রহমাহ টনি, যুগ্ন সাধারন মোঃ মাসুদ হোসেন সিরাজী(মাসুদ), সাংগঠনিক সম্পাদক সাদী মিন্টু, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শারমিন রেজা ইভা, সমাজ কল্যান সম্পাদক দূরুদ মিয়া রনেল, আপ্যায়ন সম্পাদক জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া, সাহিত্য সম্পাদক মুর্শেদা কাঁকন, অর্থ সম্পাদক সাইদ হক(মুকুল), কার্যকারী সদস্য জে মোল্লা সানী, মোঃ আবুল কাশেম, তোফায়েল আহমেদ। আরোও উপস্হিত ছিলেন আব্দুর রহিম বাদশা, ইকবাল কবীর, জালালাবাদ এসোসিয়েসানের সভাপতি জন উদ্দিন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সেলিম, মুর্শেদা জামান, জ্যামাইকা ফ্রেন্ডস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম মিসবাহউজজামান, গিয়াস আহমেদ, আকবর হায়দার কিরন, নিহার সিদ্দিকি, আজাদ আহমেদ, সুলতানা বেগম, শিশু রূপন্তী ওয়াজেদ সহ বহু নেতাকর্মি বৃন্দ। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই সমাবেশ চলে।