যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিসকে (২১) পূর্ণ বিচারিক সুবিধা দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অভিযোগ ওঠা কোনো ব্যক্তিকে সব ধরনের মানবিক ও আইনি সহযোগিতা দেওয়ার বিষয় নিশ্চিত করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশের কূটনীতিকদের এ ব্যাপারে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া নাফিসের বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনীতিকদের বৈঠক হয়। গতকাল শুক্রবার ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের, ডেপুটি চিফ অব মিশন এম এ মুহিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের উপসহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রুস সোয়ার্টজ বৈঠক করেন।
পরে রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের জানান, মার্কিন কর্তৃপক্ষ নাফিসের বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি হস্তান্তর করেছে। নাফিস বাংলাদেশি নাগরিক—এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর তদন্ত পরিচালনার ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত।
এ ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নাফিসের ব্যাপারে ‘কনস্যুলার অ্যাকসেস’ চাওয়া হয়। মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয় এই অনুরোধ মঞ্জুর করলে বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক নাফিসের সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ পাবেন। তখন নাফিস আইনি সহায়তা চাইলে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তাঁর নাগরিক অধিকারের মধ্যে যতটা প্রাপ্য, ততটা সহায়তা দেবে বাংলাদেশ।
রাষ্ট্রদূত জানান, বৈঠকে নাফিসের গ্রেপ্তারের ঘটনার জের ধরে অন্য কোনো বাংলাদেশি যেন অহেতুক হয়রানি ও বিদ্বেষের শিকার না হয়, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে বাংলাদেশ। মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে তখন বলা হয়, নাফিসের গ্রেপ্তারের ঘটনায় বাংলাদেশি আমেরিকানদের বিরূপ দৃষ্টিতে দেখার কোনো কারণ নেই।
মার্কিন বিচার বিভাগ আশ্বস্ত করে, নাফিসের গ্রেপ্তার ঘটনা এখনো তদন্ত পর্যায়ে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দেওয়া পূর্ণ নাগরিক, মানবিক ও আইনি সুবিধা নাফিসের বেলায়ও প্রযোজ্য হবে।
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই) গত বুধবার নাফিসকে গ্রেপ্তার করে। একই অভিযোগে সান ডিয়াগো থেকে দ্বিতীয় হোয়ার্ড উইলি কার্টার নামের অপর এক ব্যক্তিকে গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে জব্দ করা কম্পিউটারের ই-মেইল ঠিকানায় ‘ইয়াকিন’ নামের একটি ঠিকানা পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, নাফিসের সঙ্গে এই ঠিকানা ব্যবহার করে ই-মেইলে যোগাযোগ করতেন কার্টার। এই যোগসূত্র ধরে উইলি কার্টারের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের ফেডারেল ব্যাংক ভবনে হামলার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের চেষ্টা এবং আল-কায়েদাকে প্রয়োজনীয় উপকরণ-সহায়তা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে নাফিসকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ পেতে পারেন।
এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ৪৫০ কেজি ওজনের বোমা দিয়ে নিউইয়র্কে অবস্থিত ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন নাফিস। তবে নাফিসের কাছে থাকা বিস্ফোরক সক্রিয় অবস্থায় ছিল না। গোয়েন্দারা তাঁকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
নাফিসের বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ২০১২ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। একপর্যায়ে নাফিস স্বীকার করেন, আল-কায়েদার বিদেশি সদস্যদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার আরও লক্ষ্যবস্তু ছিল নিউইয়র্কের স্টক এক্সচেঞ্জসহ বেশ কিছু স্থাপনা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।