|
|
| মারিয়া মিন্না এখন বাংলাদেশে |
| ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি |
|
সাবেক মন্ত্রী ইষ্টইয়র্ক-বিচেস আসন থেকে নির্বাচিত মারিয়া মিন্না এমপি এখন বাংলাদেশে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি বাংলাদেশে পৌছেছেন।জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা কামাল, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অপরূপ চৌধুরি ও কানাডিয়ান হাইকমিশনার রবার্ট ম্যাকডোগাল। মারিয়াকে স্বাগত জানাতে ছুটে আসেন ঢাকায় অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী কানাডিয়ান ও তাদের সতীর্থরা।বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।বিমানবন্দরের বাইরে রাস্তার দু'ধারে বিপুল সংখ্যক মানুষ তাকে ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানায়। তাদের হাতে ছিল কানাডা ও বাংলাদেশের পতাকা।কারো কারো হাতে ছিল মারিয়ার ছবিসহ ব্যানার।তাতে লিখা ছিল 'ওয়েল কাম টু বাংলাদেশ', 'বাংলাদেশ কানাডা বন্ধুত্ব চিরজীবী হোক' ইত্যাদি। এক পর্যায়ে মারিয়া গাড়ি থেকে নেমে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।
ঐদিন অপরাহ্নে কানাডার প্রথম বাংলা পত্রিকা দেশে বিদেশে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং অনু্ষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন দেশে বিদেশে-র প্রধান সম্পাদক নজরুল মিন্টো। মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন বাংলাদেশ-কানাডা চেম্বার অব কর্মাসের প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রেজাউর রহমান, আইটি ব্যবসায়ী কফিল উদ্দিন পারভেজ, বাংলাদেশ-কানাডা ট্রেড প্রমোশন ব্যুরোর সৈয়দ শামছুল আলম, আলিমুর রহমান হায়দারি ও টরন্টোর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রূমানা চৌধুরি।
দেশের সব ক'টি টিভি চ্যানেল, বেতার এবং প্রথম সারির সকল পত্রিকার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে উঠে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠান। বিশিষ্ট সাংবাদিক রেজাউল করিম তালুকদারের প্রশ্নের মাধ্যমে শুরু হওয়া ব্রিফিং-এ একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকেন সাংবাদিকরা।বিশেষ করে কানাডায় অবস্থানরত বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরির বিষয়ে কানাডিয়ান সরকারের ভূমিকা জানতে আগ্রহী হয়ে উঠেন সকলে। মারিয়া কানাডিয় আইনের ধারা উল্লেখ করে বলেন, সরকার আইনের বাইরে কোন সিদ্ধান্ত নেবে না। নূর চৌধুরির মামলা প্রত্যাখান করা হলে তিনি যে দেশ থেকে এসেছেন তাকে সেখানে ফেরত পাঠানো হবে। উল্লেখ্য, নূর চৌধুরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডার সীমান্তে এসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন।
৪ ফেব্রুয়ারি মারিয়া মিন্না তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে স্পীকার আব্দুল হামিদ, চীফ হুইপ অধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ড. শিরিন সুলতানা চৌধুরির সাথে সাক্ষাত করে্ন।এসব সাক্ষাতে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি অবহিত হন। বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে এক মডেল দেশ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এদেশ এবং এদেশের মানুষের কাছ থেকে বিশ্ববাসীর অনেক কিছু শেখার আছে। তিনি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক সামাজিক ব্যবস্থা দেখে অভিভুত বলে জানান। সর্বশেষ ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি চট্টগ্রামে দেশের একমাত্র মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম দেখতে গিয়েছেন।
তার পরবর্তি সফরসূচির মধ্যে রয়েছে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমণির সাথে সাক্ষাত ও বাংলাদেশ-কানাডা পার্লামেন্টারিয়ান গ্রুপের আয়োজনে মধ্যাহ্ন ভোজে অংশগ্রহণ।এছাড়া কানাডিয়ান দূতাবাস কর্তৃক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা, বই মেলা পরিদর্শন এবং সবশেষে বাংলাদেশের কোন একটি গ্রাম ঘুরে দেখারও ইচ্ছে রয়েছে তার।
মারিয়া মিন্না বাংলাদেশে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।
|
| |
|
|