Tuesday, September 07, 2010   
  Home Archive Advertisment Contact Us About Us  
কক্সবাজার শহর, টেকনাফ ও উখিয়া এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে সোমবার গভীর রাত এবং মঙ্গলবার ভোরে পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী, শিশুসহ ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।        
 
ইরাক যুদ্ধ নিয়ে জেরার মুখে ব্লেয়ার
লন্ডন, জানুয়ারি ২৯
ইরাক যুদ্ধ নিয়ে প্রথম প্রকাশ্যে জেরার মুখোমুখি হয়েছেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুক্রবার তাকে লন্ডনে তদন্ত কমিটির সামনে হাজির করা হয়েছে। (আরও তথ্যসহ) ২০০৩ সালে তিনি কেন ইরাক যুদ্ধকে সমর্থন দিয়েছিলেন তা জনসম্মুখে ব্যাখ্যা করতে হবে তাকে। ইরাক যুদ্ধের প্রতিবাদকারীরা ইতোমধ্যেই তদন্ত কমিটি ভবনের বাইরে ব্লেয়ারকে 'যুদ্ধ অপরাধী' স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে। বিবিসি জানিয়েছে, ব্লেয়ারকে ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের পট প্রস্তুত করা এবং তৎপরবর্তী ঘটনা নিয়ে প্রায় ৬ ঘন্টার জেরা শুরু করেছেন স্যার জন সিলকোট। প্রয়োজনে আরও তথ্যপ্রমাণের জন্য ব্লেয়ারকে আবারও জেরা করা হতে পারে বলেও শুরুতেই জানিয়েছেন জন। তিনি বলেন, ব্লেয়ারের বিচার করা হচ্ছে না। তাকে কেবল ওই যুদ্ধ শুরু করার বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জেরায় ব্লেয়ার বলেছেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলাই ইরাক এবং সাদ্দাম হোসেনকে নিয়ে ঝুঁকির ব্যাপারে ব্রিটেনের দৃষ্টিভঙ্গি নাটকীয়ভাবে পাল্টে দিয়েছিল। ব্লেয়ার বলেন, "নিউ ইয়র্কের ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে চিন্তাটি ছিল এরকম যে, তারা ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ মারতে সক্ষম। আমি চিন্তা করেছিলাম এ বিষয়টি নিয়ে কোওরকম ঝুঁকি নেওয়া যায় না। ইরাক ১০ বছর ধরে বিরুদ্ধাচরণ করে এসেছে। তাকে বশ মানাতে হবে।" তবে তিনি বলেন, নিরাপত্তার ঝুঁকিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার মূলে কাজ করেছে নিউ ইয়র্কের ওই নৃশংসতা। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধে সাড়ে চার হাজার সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তটি ব্লেয়ারের ১০ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বে সবচেয়ে সমালোচিত ঘটনা ছিলো। এতে তার দল লেবার পার্টিতে মতানৈক্য, দলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও স্বয়ং ব্লেয়ারের বিরুদ্ধেও মিথ্যাচারের অভিযোগ ওঠে। সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ৭ বছর এবং গর্ডন ব্রাউনের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের তিন বছর পরেও বিষয়টি নিয়ে ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ এখনো কমেনি। এতে করে ব্লেয়ারের পাশাপাশি লেবার সরকারের সুনামও ঝুঁকির মুখে পড়বে। লেবার পার্টির কয়েকজন নেতা আশঙ্কা করছেন এই জেরা, বিশেষ করে সেখানে ব্লেয়ারের হাজিরা দেয়ার ঘটনা দলের সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভের সঞ্চার করবে যাতে আসন্ন নির্বাচনে দলের সমর্থনে ভাটা পড়বে। আগামী জুনে ব্রিটেনে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ব্লেয়ারের জীবনী লেখক অ্যান্টনি শেলডন বলেন, এটি ব্লেয়ার, ব্রিটেনের জনগণ এবং সারাবিশ্বে ব্রিটেনের নৈতিক যে রূপ রয়েছে তার জন্য একটি 'ঘুরে দাঁড়ানোর দিন'। মূলত ২০০২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জনগণের উদ্দেশ্যে যুদ্ধের পক্ষে ব্লেয়ারের দেয়া যুক্তিগুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হবে ব্লেয়ারকে। ওই সময় ইরাক যুদ্ধ সংক্রান্ত বিভিন্ন দলিলপত্রে লেখা হয়েছে, "গোয়েন্দা সংস্থাগুলো 'নিশ্চিতভাবেই প্রমাণ করেছে' যে সাদ্দাম হোসেনের কাছে 'গণবিধ্বংসী অস্ত্র' রয়েছে।" কিন্তু এ ধরনের কোনো অস্ত্রের অস্তিত্ত্ব পরবর্তী সময়ে পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটিতে ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০০৩ সালের ২০ মার্চে ইরাক আগ্রাসনের কিছুদিন আগেই সাদ্দাম হোসেনের 'গণবিধ্বংসী অস্ত্র' ধ্বংস করা হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলো গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তাছাড়া এ যুদ্ধ আইনসঙ্গত ছিলো কি না এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে ব্লেয়ার জর্জ ডব্লিউ বুশকে এই যুদ্ধে সেনা তৎপরতায় সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্র"তি দেন, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। স্বাক্ষীরা ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য সেনা তৎপরতা চালালে তা বৈধ হবে না বলে ২০০২ সালেই ব্লেয়ারকে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল পিটার গোল্ডস্মিথ। তবে শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধের ব্যাপারে তিনি সম্মতি দেন। গোল্ডস্মিথ নিজেও তদন্ত কমিটিকে বলেন, তিনি নিজে বিশ্বাস করতেন যুদ্ধের ব্যাপারে জাতিসংঘের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে আগ্রাসন শুরু হওয়ার মাসখানেক আগে তিনি নিজের মত পাল্টান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই জন আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা সরকারকে আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, এই যুদ্ধ আইনসম্মত হবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্লেয়ারের জেরায় তেমন কোনো বিস্ময়কর নতুন তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে হয় না। গত বছর গর্ডন ব্রাউনের নিয়োগ করা তদন্ত কমিটির সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন যে, কমিটির মূল কাজ হবে ইরাক যুদ্ধ থেকে শিক্ষাগ্রহণ এবং এটা কোনো বিচারিক উদ্যোগ নয়। সমালোচকরা বলছেন, পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি সাক্ষীদের ব্যাপারে নমনীয় এবং তদন্তে সহায়ক প্রশ্ন তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। ব্লেয়ার নিজে অবশ্য গত ডিসেম্বরে একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন গণ বিধ্বংসী অস্ত্র না পাওয়া গেলেও সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করা ঠিক ছিলো।
 
 
 
Canada Office : 71 Highview Avenue, Toronto, ON, M1N 2H4, Phone: 416-699-9833, Toll Free: 1-800-876-4358, Email: info@deshebideshe.com