|
|
 |
 |
Tuesday, September 07, 2010 |
|
 |
|
|
|
|
|
|
 |
|
|
|
| অন্য রকম বাড়ি 'লিফট হাউস' |
| ওবায়দুর রহমান মাসুম |
|
নিজের একটা বাড়ি। নাগরিক মধ্যবিত্তের স্বপ্ন। যদিওবা পূরণ হয়, তার পেছনে জমে যায় অনেক ঘামের ইতিহাস। রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে কখনো কখনো 'বাড়ি' নামের স্বপ্নপুরী গড়ে তুলতে পারেন কেউ কেউ। এই যখন অবস্থা তখন নিম্নবিত্তের বিশেষ করে নগরীর আশেপাশে নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের কাছে বাড়ি মানে তো সোনার হরিণ। তবে আফসোসের দিন বোধহয় ফুরাল। স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য বন্যা বা অতিবৃষ্টিতে ডুবে যাওয়া এলাকায় টিকে থাকতে সক্ষম সুলভ বাড়ির সন্ধান মিলেছে এবার। একই সঙ্গে নান্দনিক এবং টেকসই এ বাড়ি উপহার দিচ্ছেন কানাডার ওয়াটার লু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্যবিদ্যার স্নাতকোত্তরের ছাত্রী, বাংলাদেশেরই মেয়ে পৃথুলা প্রসূন। স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য তিনি বানিয়েছেন ভাসমান বাড়ি 'লিফট (লো ইনকাম ওয়াটারপ্রুফ টেকনোলজি) হাউস'। গত মঙ্গলবার মিরপুরের হাউসিং ও বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এ বাড়িটি প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রকল্পটি নগর সংলগ্ন নিচু এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য একটি আধুনিক বাসস্থান হবে বলে আশাবাদী পৃথুলা।
নিজের ডিজাইনে নির্মিত চমৎকার মডেলের বাড়িটি দেখিয়ে পৃথুলা জানান, ভাসমান বাড়িটি এমন বাসস্থান যা বন্যা ও অন্য কারণে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাসবে। পানি কমার
সঙ্গে সঙ্গে আবার মাটিতে নেমে যাবে। ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল ও ফাঁপা ফেরো সিমেন্ট_এ দুই পদ্ধতিতে বাড়িটিকে ভাসিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢাকার পরিবেশের কথা বিবেচনা করে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে বাড়িটিতে। দোতলা এ বাড়ির প্রতি তলায় রয়েছে একটি করে কক্ষ। নিচের তলায় একটি কক্ষ। দোতলায় রয়েছে রান্নাঘর, শৌচাগার ও একচিলতে বারান্দা। প্রতিটি কক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের চলাচল নিশ্চিত করতে রাখা হয়েছে প্রশস্ত জানালা। বাড়িটি তৈরিতে সহজলভ্য উপাদান হিসেবে বাঁশের ব্যবহার করা হয়েছে বেশি। কোনো টিনের ব্যবহার নেই। বাঁশের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে ব্যবহারের আগে তা প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। সাধারণভাবে এ বাড়ি প্রায় ৩০ বছর টিকবে বলে জানান পৃথুলা।
যথারীতি পানি, বিদ্যুৎ, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা রয়েছে 'লিফট'-এ। বৃষ্টির পানি সংগ্রহ ও পরিশোধন এবং পানি আবার ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে টিউবওয়েলের পানি ওঠাতে হবে না। এ বাড়িতে স্থাপিত সৌরপ্যানেল ৬০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। ফলে বাতি ও বৈদ্যুতিক পাখার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের প্রয়োজন নেই। এ বাড়ির শৌচাগারের বর্জ্য ১০ বছর পরে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
খরচের ব্যাপারে পৃথুলা জানান, একটি প্রকল্পে একসঙ্গে ১০টি বাড়ি বানালে প্রতিটি বাড়ির জন্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা করে খরচ পড়বে। একসঙ্গে ১০০টি বাড়ি বানালে নির্মাণ খরচ কমে আসবে দেড় লাখ টাকায়।
বাড়িটি উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চলে ব্যবহার করা যাবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে পৃথুলা বলেন, এটির নকশা করা হয়েছে শহরের পাশের বন্যাপ্রবণ ও নিচু এলাকার কথা চিন্তা করে। উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের সম্ভাবনা বেশি। সেখানে নকশায় কিছুটা পরিবর্তন করে এ প্রযুক্তির বাড়ি তৈরি করা সম্ভব।
|
| |
|
|
|
| |
| Canada Office : 71 Highview Avenue, Toronto, ON, M1N 2H4, Phone: 416-699-9833, Toll Free: 1-800-876-4358, Email: info@deshebideshe.com |
|
|
|
|
| |