|
|
| উইণ্ডসরে বাংলাদেশ পিস ক্লক |
|
|
সাধারণ এক আহ্বানের প্রেরণাকে ধারণ করে অসাধারণ কিছু ঘটিয়ে ফেললে লোকে তো আপনাকে উৎফুল্লু চিত্তেই বরণ করে নেবে, ইতিহাস তো আপনাকেই স্মরণ করবে। ‘শহরের কেন্দ্রস্থলকে সৌন্দর্য্যমণ্ডিত করতে সহায়তা করুন’ এমন এক সাধারণ আহ্বানে সাড়া দিয়ে দূর এক দেশে ‘বাংলাদেশ শান্তি ঘড়ি’ স্থাপনে বড় এক ভূমিকা রেখে বহু বছর আগে দেশত্যাগী আবদুল আজিজ চৌধুরী যেন তাঁর মাতৃভূমি বাংলাদেশকেই মহিমান্বিত করতে চাইলেন। আর তাই গত সপ্তাহের সোমবার এক অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ ও স্থানীয় সাউথ এশিয়া কমিউনিটির সহকর্মীরা অবসরপ্রাপ্ত নগর গ্রন্থাগারিক আজিজ চৌধুরীকে করতালি ও উষ্ণ কথামালা দিয়ে ধন্যবাদ জানালেন। উইনডসর শহরের ওউলেটি অ্যাভিনিউ দক্ষিণ ওয়্যানডেটি সড়কের কেন্দ্রস্থলে আকর্ষণীয় সময়নির্ণায়ক এই শান্তিঘড়ি তৈরিতে ৬০ হাজার ডলারের মধ্যে চৌধুরী একাই ৩০ হাজার ডলার অনুদান দেন। অনুষ্ঠানে কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইয়াকুব আলী বলেন, ‘ঘড়িটি অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি ও সম্প্রীতির জয়গান গাইবে, এ ভাবনাই আমাকে এখানে উপস্থিত থাকতে ব্যাকুল করেছে।’ শহরের মেয়র এডি ফ্যান্সিস বলেন, ‘মি. চৌধুরীর এই মূল্যবান উপহার আপনাদের কমিউনিটির জন্য গর্ব বয়ে এনেছে, যা যোজন যোজন দূরের দুই সংস্কৃতির মধ্যে হৃদ্যতার সেতুবন্ধন হয়ে থাকবে। তাঁর এই অবদান আমাদের প্রেরণা জোগাবে স্বদেশ কিংবা পরভূমে শান্তির বারতা পৌঁছে দিতে।’ কাউন্সিলর জো-অ্যানি জিগন্যাক বলেন, ‘সত্যিই পুরো কমিউনিটির জন্য এ এক অভাবিত উপহার। আমি বিস্ময়াভূত, কেননা একজন অবসরপ্রাপ্ত চাকুরজীবীর পক্ষে এই বিশাল অঙ্কের অনুদান দেওয়া সহজ নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘একক কোনো ব্যক্তির এত অর্থ প্রদান আর বড় কোনো সংস্থার মিলিয়ন ডলার প্রদান, একই অর্থ বহন করে।’ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অভিবাদনে সিক্ত আবদুল আজিজ শুধু বললেন, ‘আমার পক্ষ থেকে উইনডসর আর কানাডার জন্য এই সামান্য উপহার।’ আবদুল আজিজ চৌধুরীর সঙ্গে আলোচনা করে উইনডসরের এই শান্তিঘড়ির ডিজাইন করেছে নগর পরিকল্পনা বিভাগ। এ প্রকল্পের বাকি অর্থের জোগান দেবে লিপেরা কন্সট্রাকশন, ব্লাক অ্যান্ড ম্যাকডোনাল্ড, কানিংহাম শিট মেটাল ও দ্য ডাউনটাউন উইনডসর বিআইএ। অনুষ্ঠানে বিআইএ’র নির্বাহী পরিচালক ক্রিস এডওয়ার্ড শহরে উল্লেখ করার মতো দৃষ্টিনন্দন ম্যুরাল না থাকায় শহরবাসীর সমালোচনার যৌক্তিকতা স্বীকার করে বলেন, ‘শান্তিঘড়ি নিমার্ণের মাধ্যমে এই সমালোচনা মুছে ফেলার কাজ শুরু হলো।’ আবদুল আজিজ চৌধুরী আবুজর গিফারী কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৬৭ সালে কানাডায় অভিবাসী হন। তারপর ইউনির্ভাসিটি অফ ওয়েষ্টার্ন ওন্টারিও থেকে লাইব্রেরী এন্ড ইনফরমেশন সাইন্সে মাষ্টার্স করে বিভিন্ন পাবলিক লাইব্রেরীতে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের সামাজিক, উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজে আত্ননিয়োগ করেন। তার মধ্যে ৭১Ñএ বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, উইন্ডসর সিটি হলের মেয়রের টাস্কফোর্সের সদস্য, অন্টারিও সরকারের প্রদত্ত কৃতিত্বপূর্ণ কাজে পুরস্কার কমিটির বিচারক অন্যতম। আজিজ বাংলাদেশেও সেবামূলক কাজে অবদান রাখছেন। যেমন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহ জালাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১২টি বৃত্তি প্রদান, ঢাকার আহছানিয়া মিশন হাসপাতালে ক্যান্সার রুম প্রতিষ্ঠাতা অন্যতম। তাঁর এই গৌরবোজ্জ্বল কৃতিত্বপূর্ণ খবর উইন্ডসর স্টারসহ বিভিন্ন মিডিয়া গুরুত্ব প্রচার করে।অকৃতদার এই মানুষটিকে আমাদের অভিবাদন।(বেঙ্গলি টাইমস-এর সৌজন্যে)
|
| |
|
|