Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

এক নজরে কানাডা

কানাডা শব্দটি এসেছে “কানাতা” শব্দ থেকে৷ আমেরিকার আদি উপজাতি সেন্ট লরেন্স ইরোকিয়ানদের ভাষায় কানাতা শব্দের অর্থ গ্রাম৷ ১৫৩৫ সালে ফরাসী অভিযাত্রী জ্যাক কার্তিয়ের  সমগ্র সেন্ট লরেন্স ইরোকিয়ানদের এলাকা স্টাডাকোনাকে  কানাডা বলে অভিহিত করেন৷ ১৫৪৫ সাল থেকে ইউরোপের বইপত্র ও মানচিত্রে  কানাডা একটি দেশ হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করে৷ 
বর্তমানে কানাডা উত্তর আমেরিকার একটি দেশ৷ আমেরিকা মহাদেশের উত্তরে অবস্থিত হওয়ার দরুন এই দেশটি প্রশান্ত মহাসাগর থেকে উত্তর দিকে অতলান্তিক ও আর্কটিক মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত৷ এই দেশের আয়তন ৯.৯৮ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার৷ আয়তন অনুসারে কানাডা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ৷ এই দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় সংসদীয় গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক রাজতন্ত্র দুটি শাসন ব্যবস্থাই কায়েম রয়েছে৷ দেশের প্রধান মন্ত্রী স্টিফেন হার্পার এবং সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের প্রধান দ্বিতীয় এলিজাবেথ৷ রাষ্ট্রভাষা ইংরেজি ও ফরাসী৷ অটোয়া কানাডার রাজধানী৷
জনসংখ্যা
কানাডার মোট জনসংখ্যা ৩৫ মিলিয়নের একটু বেশি৷ এই জনসংখ্যার একটি বড় অংশ হল বহু দেশের অভিবাসী মানুষ৷ যুগ যুগ ধরে অন্যান্য দেশ থেকে প্রচুর মানুষ এই দেশে এসেছে জীবন ও জীবিকার খোঁজে৷ তারপর থেকে ক্রমে কানাডাই হয়ে উঠেছে তাঁদের নিজেদের দেশ৷ এই দীর্ঘ অভিবাসনের ফলে কানাডা এখন এক বহু সাংস্কৃতিক দেশ৷ স্থানীয় উপজাতি ছাড়াও এই প্রচুর ব্রিটিশ,ফরাসী, ইতালীয়, জার্মান ও ভারতীয়রা এই দেশে বংশানুক্রমে বহুদিন ধরে বাস করে চলেছেন৷
ইতিহাস
কানাডা প্রথমে ইতালীয় ও ফরাসী উপনিবেশ হলেও ১৬১০ সাল থেকে এখানে ব্রিটিশরা ঔপনিবেশিক আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে৷ উত্তর আমেরিকার আধিপত্য নিয়ে ব্রিটিশ ও ফরাসীদের মধ্যে রেষারেষি শুরু হয়৷ অবশেষে সপ্ত বর্ষীয় যুদ্ধের শেষে কানাডায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম হয়৷ ১৭৭৫ সালে আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হওয়ার আগেই কানাডায় ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব দান বাঁধতে থাকে৷ তবে ১৮৩৭ সালে কানাডা তার নিজস্ব সরকার ও ১৮৬৭ সালে নিজস্ব সংবিধান গড়ে উঠলেও, তার সামগ্রিক শাসন ব্যবস্থায় ইংরেজদের আধিপত্য কায়েম ছিল ১৯৩১ সালে স্বাধীন কানাডা না হওয়া পর্যন্ত৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির বিপক্ষে কানাডা একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল৷ তবে যুদ্ধ বিধ্বস্ত কানাডা তার সুদৃঢ় আর্থিক উদারনীতি করণের ফলে সমস্ত বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠে৷ পরবর্তী কালে কানাডার আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক রাজনীতির ফলে বিভিন্ন সময় অশান্তি দানা বাঁধলেও এই দেশের উত্তরোত্তর অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধিতে কখনোই প্রভাব ফেলতে পারেনি৷
আবহাওয়া
কানাডার ভৌগলিক বৈচিত্র্যের ফলে এক একটি রাজ্যে এক এক রকম আবহাওয়া৷ কানাডার প্রত্যন্ত অঞ্চল বিশেষত প্রাইরি প্রদেশে শীতকালে তাপমাত্রা মাইনাস ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়৷ উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলি বাদ দিলে অনেক প্রদেশ বছরে ছয়মাস বরফে ঢাকা থাকে৷ আবার উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলির মাঝের প্রদেশগুলিতে বেশ গরম আবহাওয়া অনুভূত হয়৷
আইন ও বিচার ব্যবস্থা
সমগ্র কানাডার আইন ব্যবস্থা চালিত হয় কানাডার সংবিধান অনুযায়ী৷ দেশের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও সংবিধানই শেষ কথা বলে৷ সংবিধান অনুযায়ী এই দেশের বিচার ব্যবস্থাও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে৷ সংসদের যে কোনও সংবিধান বিরোধী আইনকে খারিজ করে দেওয়ার অধিকার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রয়েছে৷ সমগ্র কানাডা একই আইন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত৷
বৈদেশিক নীতি
কানাডা সবসময়ই একটি স্বাধীন বিদেশ নীতি অনুসরণ করে এসেছে৷ তার বৈদেশিক নীতি বিশ্ব রাজনীতিতে সবসময়ই একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছে৷ একদিকে যেমন প্রতিবেশী মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রের সঙ্গে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে তেমনই মার্কিন বিরোধী কিউবার সঙ্গেও তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক৷ ২০০৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আক্রমণের সময় আমেরিকার সরকারি শরিক হতে স্পষ্টতই অস্বীকার করেছিল এই দেশ৷ 
সামরিক বাহিনী
সামরিক দিক দিয়ে কানাডা অত্যন্ত শক্তিশালী একটি দেশ৷ প্রতি বছর প্রায় ২৪.৫ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার সামরিক বাহিনী রক্ষণাবেক্ষণে খরচ করা হয়৷ স্থল সেনা, নৌ সেনা, বায়ু সেনা সব মিলিয়েই তৈরি হয়েছে কানাডার সামরিক বাহিনী৷
রাজ্য ও প্রদেশ
কানাডা তিনটি রাজ্য বা টেরিটরি ও দশটি প্রদেশ বা প্রভিন্স নিয়ে গঠিত৷ এই প্রদেশ ও রাজ্যগুলি আবার চারটি অঞ্চলে বিভক্ত৷ পশ্চিম কানাডা, মধ্য কানাডা, অতলান্তিক কানাডা, ও উত্তর কানাডা৷ তবে টেরিটরির চেয়ে প্রভিন্সগুলি বেশি স্বায়ত্ত শাসন ভোগ করে৷ তারা নিজেরাই নিজেদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে৷ যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার যদি এই সমস্ত বিষয়ে কোনও আইন প্রণয়ন করে তা না মানার অধিকার প্রভিন্স গুলির রয়েছে৷ তবে তা সচরাচর ঘটেনা৷ প্রতিটি প্রভিন্সই সমান সরকারি আনুকূল্য পায়৷ দেখা গেছে কানাডার যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার যতটা কর সংগ্রহ করে তার চেয়ে প্রদেশগুলির মিলিত কর সংগ্রহের পরিমাণ অনেক বেশি৷
অর্থনীতি
কানাডা প্রথমে গ্রামীণ অর্থনীতির উপর নির্ভরশীল হলেও বিশ শতকের গোড়া থেকেই দ্রুত তার ভারী শিল্প, খনি শিল্প, উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নতির ফলে তার অর্থনীতিতে নগরায়নের জোয়ার আসে৷ সোনা, নিকেল, অ্যালুমিনিয়াম, লৌহ আকরিক প্রভৃতি খনিজ ধাতুর খনি এবং অবশ্যই প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের প্রাচুর্যে ভরা এই দেশ অর্থনৈতিক ভাবে স্বয়ং সম্পুর্ণ৷ তাই বলে কৃষিতেও পিছিয়ে নেই এই দেশ৷ গম সহ বিভিন্ন দানা শস্য কানাডা থেকে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়৷ বিশ্বায়নের অর্থনীতিতে বিশ্বাসী কানাডা বিশ্বের একাদশ বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশ৷ টরেন্টো স্টক এক্সচেঞ্জ হল বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম স্টক এক্সচেঞ্জ৷ কানাডার জাতীয় ব্যাঙ্ক অফ কানাডা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রতীক৷
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
কানাডা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গবেষণা বিশ্বের চতুর্থ দেশ৷ কানাডা সরকার বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত গবেষণা প্রতি বছর  ২৯.৯ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার ব্যয় করে৷ পদার্থ বিদ্যা, রসায়ন, এবং চিকিৎসাবিদ্যায় উৎসাহ দেওয়া হয়৷ মহাকাশ বিজ্ঞানেও কানাডা কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে৷ এ পর্যন্ত কানাডা ১৪ জন বিজ্ঞানী তাঁদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন৷
সংস্কৃতি
যেহেতু বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর মানুষের অভিবাসনের ফলে এই দেশ একটি বহু সাংস্কৃতিক দেশ৷ তবে ব্রিটিশ ও ফরাসী সংস্কৃতির একটি সামগ্রিক প্রভাব এই দেশের সংস্কৃতিতে লক্ষ করা যায়৷ এর সঙ্গেই সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ আদি অধিবাসীদের সংস্কৃতি৷ স্থাপত্য, ভাস্কর্য, চিত্রকলা, সঙ্গীত, সিনেমা শিল্পের সমস্ত ক্ষেত্রেই কানাডার একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে এবং বর্তমানেও সেই সমৃদ্ধির ঐতিহ্যকে বহন করে চলছে কানাডার বিভিন্ন ক্ষেত্রের শিল্পী ও কলা কুশলীরা৷

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে